• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

সারাদেশ

ইসলামী ব্যাংকের সামনে বিক্ষোভ, রণক্ষেত্র মতিঝিল

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬ ২:৩৭
আপডেট: মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬ ২:৩৭

JA9601

ইসলামী ব্যাংকের সামনে বিক্ষোভ, রণক্ষেত্র মতিঝিল

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবিঃ সংগৃহীত
ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলমের নিয়োগ বাতিল করে সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওমর ফারুক খানকে পুনর্বহালের দাবিতে সোমবার (১ জুন) রাজধানীর মতিঝিলে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ঘটনার একপর্যায়ে পুলিশ-বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে লাঠিপেটা, জলকামান, টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়।

ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের ওপর পুলিশের লাঠিপেটা ও গুলির ঘটনায় জামায়াতের বিবৃতি
বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো আবেগ, চাপ বা আন্দোলনের ভিত্তিতে নয়, বরং প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ ও আইনগত বিধান অনুসারেই সিদ্ধান্ত নেবে: মুখপাত্র
বিক্ষোভকারীদের মধ্যে প্রকাশ্য কোনো রাজনৈতিক দলের পরিচিতি ছিল না। ঘটনাস্থলে ব্যবহৃত ব্যানারে এই আন্দোলনকারীদের পরিচিতি ছিল ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’। তবে পরে গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে এই আন্দোলনকারীদের পরিচিতি ছিল ‘ইসলামী ব্যাংক ভুক্তভোগী গ্রাহক সমন্বয় পরিষদ’। এ ঘটনায় একমাত্র রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ বিবৃতি দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

আন্দোলনকারী গ্রাহকদের নেতৃত্বে ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও জোন পরিচালক নূর নবী মানিক। আন্দোলনকারী অন্য নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর পল্টন থানার আমির মো. শাহীন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি মনজুর ইসলাম, জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক শাহীন আহমেদ খান, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের ওয়ার্ডবয় মো. হাসান, জামায়াতে ইসলামীর কোতোয়ালি থানার আমির মতিউর রহমান, ওয়ারী থানার নেতাসহ দলটির অন্য নেতা-কর্মীরা।

বিক্ষোভের সময় ইসলামী ব্যাংকের সামনে অবস্থান নেন কয়েক হাজার গ্রাহক। তারা সরকার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপ্রীতিকর বক্তব্য ও স্লোগান দেন।

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মানববন্ধন শুরু হলে ঘটনাস্থলে অবস্থান নেওয়া পুলিশ সদস্যরা আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তারা পুলিশের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ বিক্ষাভকারীদের ওপর জলকামান ব্যবহার করে, টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ এবং লাঠিপেটা করে। আন্দোলনকারীদের দাবি, পুলিশের হামলায় প্রায় ৫০ জন আহত হয়েছেন। তাদের বেশির ভাগকে নেওয়া হয় ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের বিভিন্ন শাখায়।

ভুক্তভোগী গ্রাহক সমন্বয় পরিষদের বিবৃতিতে ব্যাংক পরিচালনার বিষয়ে উদ্বেগের কথা তুলে ধরা হয়। ভুক্তভোগী গ্রাহক সমন্বয় পরিষদের সভাপতি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও জোন পরিচালক অধ্যাপক নূর নবী মানিক অভিযোগ করেন, ইসলামী ব্যাংককে আগের মালিকানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

নূর নবী মানিক বলেন, গত ২৪ মে দেশের বিভিন্ন শাখার সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের দাবি আমলে নেয়নি।

তিনি আরও বলেন, ইসলামী ব্যাংক বর্তমানে তারল্যসংকটে রয়েছে। অনেক গ্রাহক চেকের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করতে পারছেন না। বিভিন্ন এটিএম বুথেও নগদ অর্থের সংকট দেখা দিয়েছে। অবিলম্বে ইসলামী ব্যাংক থেকে লুটেরাদের অপসারণ করতে হবে।

নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগ বাতিলের দাবি
পুলিশি বাধার পরও গ্রাহক ফোরামের নেতারা পুনরায় বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। সমাবেশে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের সভাপতি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও জোন পরিচালক নূর নবী মানিক বলেন, নতুন চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলমের নিয়োগ অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।

হামলার বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য
বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে কয়েক শ মানুষ অবস্থান নিয়ে কার্যত অবরোধ সৃষ্টি করেছিলেন। মতিঝিল দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা হওয়ায় এতে আশপাশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছিল এবং এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। তিনি বলেন, পুলিশ বারবার তাদের বুঝিয়ে সড়ক ছেড়ে যাওয়ার অনুরোধ করে। কিন্তু তারা সরে না গিয়ে পুলিশের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি শুরু করে। উপকমিশনার নাসিরুদ্দিনের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আন্দোলনকারীদের কয়েক দফা সতর্ক করা হয়। এর পরও তারা সড়ক না ছাড়ায় আইনানুগভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন, সংঘর্ষে মতিঝিল বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) সহ অন্তত ১০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন

জামায়াতের বিবৃতি
এদিকে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের ওপর পুলিশের লাঠিপেটার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বিবৃতিতে বলেন, গ্রাহকদের মারাত্মকভাবে আহত করার এবং লাঠিপেটা, টিয়ার শেল ও জলকামান ব্যবহারের আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সকাল থেকে ঢাকার মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ‘ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে সাধারণ গ্রাহকরা সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন। একপর্যায়ে পুলিশ গুলি চালিয়ে বহু আমানতকারীকে মারাত্মকভাবে আহত করে। আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আমি তাদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের অবস্থান
উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, একটি রাজনৈতিক দল ইসলামী বাংকের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করছে। কোনো ব্যাংকে রাজনৈতিক প্রভাব মেনে নেওয়া হবে না। সড়কে আন্দোলন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তন আনা যাবে না। তিনি বলেন, যেকোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিক্ষোভ প্রদর্শন ও মতপ্রকাশের অধিকার রয়েছে। একই সঙ্গে আইনি প্রক্রিয়ায় প্রতিকার চাওয়ার সুযোগও আছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো আবেগ, চাপ বা আন্দোলনের ভিত্তিতে নয়, বরং প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ ও আইনগত বিধান অনুসারেই সিদ্ধান্ত নেবে।

এমডি ওমর ফারুককে অব্যাহতি
এদিকে দিনভর বিক্ষোভ, পুলিশি অভিযান ও নাটকীয় ঘটনাপ্রবাহের পর গতকাল রাতে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওমর ফারুক খানের পদত্যাগপত্র সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, রাত ৯টার দিকে ভার্চ্যুয়াল প্ল্যাটফর্মে পর্ষদ সভা শুরু হয় এবং প্রায় ৪০ মিনিট স্থায়ী হয়। সভায় পরিচালনা পর্ষদের সব সদস্য অংশ নেন। সভায় অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলতাফ হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত এমডি হিসেবে দায়িত্ব অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পর্ষদের একজন স্বতন্ত্র পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নিয়মিত পর্ষদ সভার মতোই কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে সভা শুরু হয়। এজেন্ডাভুক্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা শেষে ওমর ফারুক খানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়।

রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ব্যাংকিংয়ের বার্তা
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট–কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিংবা কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বরদাশত করা হবে না। তিনি জানান, কোনো ব্যাংককে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠান হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত নয়। কোনো ব্যাংক যদি রাজনৈতিক পরিচয়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তাহলে সেটি ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও টেকসই পরিচালনার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

উল্লেখ্য, গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। পরে সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে ব্যাংকটির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।


সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ

উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রকেস )
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: sheershakhoboronline@gmail.com


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com