কূটনৈতিক প্রতিবেদক
ছবিঃ প্রতিনিধি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের আগেই দেশটিতে শ্রমিক নিয়োগে সিন্ডিকেটব্যবস্থা বিলুপ্ত এবং প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিতসহ সাত দফা দাবি জানিয়েছে অভিবাসী শ্রমিকদের সংগঠন মাইগ্র্যান্ট ওয়েলফেয়ার নেটওয়ার্ক (এমডব্লিউএন)। গতকাল বুধবার(১৭ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে এসব দাবি তুলে ধরেন সংগঠনের সচিব নিরঞ্জন।
সাত দফা দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে বর্তমান বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সমঝোতা স্মারক বাতিল করে বাধ্যতামূলক দ্বিপক্ষীয় শ্রম চুক্তি স্বাক্ষর, নিয়োগ সিন্ডিকেট বিলুপ্তি, তালিকাবহির্ভূত শ্রমিকদের বৈধতার আওতায় আনা, শোষণের শিকার শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি ও ক্ষতিপূরণ আদায়, পাসপোর্ট জব্দ ও জোরপূর্বক শ্রম বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, বাংলাদেশ হাইকমিশনের জবাবদিহি বৃদ্ধি এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে অভিবাসী শ্রমিকদের অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য স্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
নিরঞ্জন জানান, মালয়েশিয়া শ্রম অভিবাসন সেক্টরে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, শোষণ ও দুর্নীতি চলে আসছে। মালয়েশিয়া ১৪টি উৎস দেশ থেকে শ্রমিক নিয়োগ করলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কয়েকটি নির্বাচিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে সীমিত ও সিন্ডিকেটনির্ভর ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। এই একচেটিয়া পদ্ধতি কৃত্রিমভাবে অভিবাসন ব্যয় বাড়িয়েছে এবং দুর্নীতিকে উৎসাহিত করেছে। অনেক শ্রমিক মালয়েশিয়ায় যেতে প্রায় ছয় লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে বাধ্য হন, যেখানে সরকার নির্ধারিত ব্যয় মাত্র ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকা। প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করতে গিয়ে অনেকেই উচ্চ সুদে ঋণ নেন বা পারিবারিক সম্পদ বন্ধক রাখতে বাধ্য হন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় শ্রম অভিবাসন নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগও বাড়ছে। ২০২৪ সালের ১৯ এপ্রিল জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের শোষণ ও অপরাধ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ২১ নভেম্বরও একই ধরনের উদ্বেগ তুলে ধরা হয়। তিনি আরও বলেন, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকরা নানা ধরনের ভোগান্তির মুখোমুখি হন। এর মধ্যে রয়েছে পাসপোর্ট জব্দ করে রাখা, বেতন না দেওয়া বা কম দেওয়া, অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা, অস্বাস্থ্যকর আবাসন, মিথ্যা চাকরির প্রতিশ্রুতি, অনিয়মিত আউটসোর্সিং কোম্পানির মাধ্যমে নিয়োগ, ওয়ার্ক পারমিট নবায়নে জটিলতা এবং স্বাস্থ্যসেবায় সীমিত প্রবেশাধিকার। অনেক শ্রমিক বৈধভাবে মালয়েশিয়ায় গেলেও পরবর্তী সময়ে নিজেদের কোনো দোষ ছাড়াই ডকুমেন্টসবিহীন হয়ে পড়েন। ফলে তারা আটক, চাঁদাবাজি, বহিষ্কার এবং জোরপূর্বক শ্রমের ঝুঁকিতে পড়েন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুই দিনের সফরে আগামী ২১ জুন মালয়েশিয়া যাচ্ছেন।

