ক্রীড়া প্রতিবেদক
ছবিঃ সংগৃহীত
বড় লক্ষ্য তাড়ায় শুরুটা যেমন হওয়া দরকার, বাংলাদেশের শুরুটা ছিল তেমনেই। এরপরও তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে হারই সঙ্গী হয়েছে টাইগারদের। কারণ শুরুর ওই ধারাটা শেষ পর্যন্ত টানতে ব্যর্থ ছিলেন স্বাগতিক ব্যাটাররা।
শুক্রবার (১৯ জুন) চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ৭ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। টানা দুই হারে সিরিজও হাতছাড়া হলো স্বাগতিকদের।
সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ৪ উইকেটে জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া। আগামী রবিবার তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হবে দুই দল। যে ম্যাচ এখন কেবলই আনুষ্ঠানিকতার।
দুই দল মিলিয়ে এ ম্যাচে রান হয়ে ৩৮৫। টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যেকার লড়াইয়ে এতো রান আগে কখনো হয়নি। বাংলাদেশের সামনে ছিল ১৯৭ রানের লক্ষ্যে। তা তাড়ায় ৬ উইকেটে ১৮৯ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস।
যদিও দুই ওপেনার তানজিদ হাসান ও সাইফ হাসান দারুণ শুরু এনে দিয়েছিলেন দলকে। ১০ ওভারে ১০৩ রান তুলে ফেলেছিল স্বাগতিকরা। অর্থাৎ শেষ ১০ ওভারে ৯৪ রানের সমীকরণ মেলাতে হতো। ৬ উইকেট হাতে রেখে শেষ ৪ ওভারে দরকার ছিল ৪৪ রান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই সমীকরণ মিলাতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ।
মূলত ১৭তম ওভারে ১ উইকেট হারানোর বিপরীতে স্কোরবোর্ডে মাত্র ২ রান যোগ করার মাশুল গুনতে হয় দলকে। উইকেটে তখন ছিলেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয় ও আব্দুল গাফফার সাকলাইন। ১৮তম ওভারে সাকলাইনের একটি বাউন্ডারিতে আসে ৮ রান। ১৯তম ওভারে সাকলাইনের একটি বাউন্ডারি ও হৃদয়ের একটি ওভার বাউন্ডারিতে আসে ১১ রান। তাতে শেষ ওভারে ২৩ রানের সমীকরণ দাঁড়ায় বাংলাদেশের সামনে। হৃদয়ের একটি করে চার ও ছক্কায় শেষ ওভারটিতে ১৫ রান তুলতে পারে বাংলাদেশ। ফলে ৭ রানের হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় দলকে।
ইনিংসের শেষ বলে বাউন্ডারি লাইনে ধরা পড়া হৃদয় ২২ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ৩৫ রান করেন। সাকলাইন অপরাজিত ছিলেন ১৩ রানে। সর্বোচ্চ ৩৩ বলে ৪২ রান করেন ওপনার সাইফ হাসান। আরেক ওপেনার তানজিদ ১৫ বলে ৩০ রান করেন। চারে নামা পারভেজ হোসেন ইমনের ব্যাট থেকে এসেছে ২২ বলে ৩৬ রান। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বাধিক ২ উইকেট নেন অ্যারন হার্ডি।
এর আগে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নামে ম্যাট রেনশর দাপুটে ব্যাটিংয়ে ৫ উইকেটে ১৯৬ রানের পুঁজি গড়ে অজিরা। রেনশ ৫২ বলে ৪ চার ও ৫ ছক্কায় ৮৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। চতুর্থ উইকেটে টিম ডেভিডের সঙ্গে ৯৭ রানের জুটি উপহার দেন তিনি। টিম ডেভিড ২৬ বলে ২ চার ও ৪ ছক্কায় ৪৫ রান করেন।
ডেভিড ফিরে যাওয়ার পর ষষ্ঠ উইকেটে জোয়েল ডেভিসের সঙ্গে আরেকটি দারুণ জুটি উপহার দেন রেনশ। অবিচ্ছিন্ন এই জুটিতে আসে ২৪ বলে ৪২ রান। ডেভিস ৮ বলে ১৩ রানে অপরাজিত ছিলেন।
বাংলাদেশের বোলারদের পক্ষে নাসুম আহমেদ ২৭ রান খরচায় সর্বাধিক ২ শিকার ধরেন। একটি করে উইকেট নিয়েছেন আব্দুল গাফফার সাকলায়েন, নাহিদ রানা ও মোস্তাফিজুর রহমান।
ব্যাট হাতে আলো কাড়ার পর বল হাতে ১ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন রেনশ।

