জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবিঃ সংগৃহীত
দেশে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও ক্যানসারের মতো অসংক্রামক রোগের উচ্চ ঝুঁকি কমাতে প্রথমবারের মতো মাঠে নেমেছে সরকারি উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় কমিটি।
সোমবার (২২ জুন) সচিবালয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সরকারি সব বিভাগকে একযোগে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় রোগ প্রতিরোধে গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে উদ্ভাবনী ও সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সভায় বলা হয়, দেশে অকাল মৃত্যুর ৫১ শতাংশই অসংক্রামক রোগের কারণে ঘটছে, যা জাতীয় অর্থনীতি ও টেকসই উন্নয়নের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ‘সর্বাত্মক সরকারি’ পদ্ধতি গ্রহণের পথ বেছে নিয়েছে।
সভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, ‘নিছক ওষুধ বা চিকিৎসার চেয়ে রোগ প্রতিরোধের ওপরই এখন থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘জনসাধারণকে সুস্থ রাখতে হাঁটাচলা ও কায়িক পরিশ্রমের বিকল্প নেই। আমরা যদি মানুষকে সচেতন করতে পারি যে প্রতিরোধের মাধ্যমেই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব, তবেই অসংক্রামক রোগের হার উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।’
গত বছরের ২০ আগস্ট স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক ‘যৌথ ঘোষণা’র ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি এই সমন্বয় কমিটি গঠিত হয়। সভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কারিগরি সহায়তায় অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলো হল- আগামী এক মাসের মধ্যে প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ থেকে একজন করে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে ‘কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি’ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হবে। মনোনীত প্রতিনিধিদের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিত বৈজ্ঞানিক, ব্যয়-সাশ্রয়ী ও কার্যকর কৌশল বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। আগামী ১ থেকে ৩ মাসের মধ্যে সব মন্ত্রণালয় নিজস্ব কর্মপরিকল্পনা তৈরি করবে, যেখানে নিয়মিত তদারকি ও পরিমাপযোগ্য সূচক নির্ধারণ করা থাকবে।
সভায় ‘সব নীতিতে স্বাস্থ্য’- এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টিকে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশীদ মোহাম্মদ এই উদ্যোগে সব ধরনের কারিগরি সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। সভায় উপস্থিত সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব এবং সচিবরা নিজ নিজ খাতের অভিজ্ঞতা ও সুপারিশগুলো তুলে ধরেন।

