জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবিঃ সংগৃহীত
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব রথযাত্রা উপলক্ষ্যে রাজধানীতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। রথযাত্রা সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন করতে পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি ডিবি, সোয়াত, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও সাদা পোশাকের গোয়েন্দা সদস্য মোতায়েন থাকবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
রোববার (১২ জুলাই) সকালে ডিএমপি সদরদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত রথযাত্রা উপলক্ষ্যে সমন্বয় সভায় এ কথা বলেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।
সভায় আগামী ১৬ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য রথযাত্রা এবং ২৪ জুলাই উল্টো রথযাত্রা উপলক্ষ্যে নিরাপত্তা, আইন-শৃঙ্খলা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, রাজধানীতে আয়োজিত রথযাত্রা একটি বৃহৎ ধর্মীয় শোভাযাত্রা। এতে বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম হয়। তাই উৎসবে অংশ নেওয়া প্রত্যেককে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সচেতনতার সঙ্গে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। রথযাত্রা যাতে সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশে সম্পন্ন হয়, সে লক্ষ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে কঠোর ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি জানান, মহানগর পুলিশের প্রতিটি বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) নিজ নিজ এলাকার রথযাত্রা উদযাপন কমিটির সঙ্গে পৃথক সমন্বয় সভা করবেন। একই সঙ্গে পুরো আয়োজনজুড়ে সংশ্লিষ্ট কমিটির সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখা হবে, যাতে যেকোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়।
সভায় জানানো হয়, রথযাত্রাকে ঘিরে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে পিকেট পার্টি, টহল পার্টি, ফুট পেট্রোল, রুফটপ পার্টি, হোন্ডা মোবাইল টিম, সিসিটিভির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ, গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্য, সাদা পোশাকের গোয়েন্দা দল, সোয়াত এবং বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায়ও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিএমপি কমিশনার আরও বলেন, রথযাত্রার দায়িত্বে থাকা স্বেচ্ছাসেবকদের অবশ্যই নির্ধারিত ভেস্ট পরিধান করতে হবে। এছাড়া নিরাপত্তা জোরদারে সাদা পোশাকে সদস্য এবং লাইনিং ফোর্স মোতায়েন থাকবে। বৈদ্যুতিক লাইনের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সামান্য অসাবধানতাও দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তাই এ বিষয়ে সর্বোচ্চ সচেতনতা বজায় রাখতে হবে।
তিনি বলেন, রথযাত্রার প্রতিটি মুহূর্তই পুলিশের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ছোট বা বড়, সব ধরনের রথযাত্রাকেই সমান গুরুত্ব দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা পেলে এবারের রথযাত্রাও শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়, রথযাত্রা নির্ধারিত রুট অনুসরণ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ করতে হবে। একই সঙ্গে নামাজ ও আজানের সময় লাউডস্পিকার বা মাইক ব্যবহার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া আয়োজকদের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ, ব্যাগ বা পোটলা ছাড়া শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ এবং কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি বা বস্তু চোখে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে অবহিত করার অনুরোধ জানানো হয়।
সভায় ঢাকা মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ডিজিএফআই, এনএসআই, এসবি, সিআইডি, ফায়ার সার্ভিস, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং রথযাত্রা উদযাপন কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

