• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

জাতীয়

শিক্ষাক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘদিনের চিন্তা ও কর্মযজ্ঞেরই প্রতিফলন চারটি নতুন বই: মাহদী আমিন

প্রকাশ: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬ ৭:২৫
আপডেট: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬ ৭:২৫

শিক্ষাক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘদিনের চিন্তা ও কর্মযজ্ঞেরই প্রতিফলন চারটি নতুন বই: মাহদী আমিন

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবিঃ সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন বলেছেন, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে এমন চারটি নতুন পাঠ্যপুস্তকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শিক্ষা-সংক্রান্ত রূপকল্প, চিন্তা, অভিজ্ঞতা ও কর্মপরিকল্পনার প্রতিফলন ঘটবে।

রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের চারটি নতুন পাঠ্যপুস্তকের কাঠামো চূড়ান্তকরণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ ফখরুল মাওলার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।

ড. মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। নির্বাচনের আগে প্রকাশিত ইশতেহারেও তার শিক্ষা-ভাবনার প্রতিফলন রয়েছে এবং সেই দিকনির্দেশনা অনুসারেই নতুন পাঠ্যবই তৈরির কাজ এগিয়ে চলছে। তিনি বিশেষভাবে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’, ক্রীড়া এবং সংস্কৃতি বিষয়ক বইগুলোকে প্রচলিত পাঠ্যবইয়ের তুলনায় আরও ব্যতিক্রমী ও শিক্ষার্থীবান্ধব করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, পাঠ্যবইকে শুধু লেখানির্ভর না রেখে আরও বেশি চিত্র, টেবিল, ডায়াগ্রাম ও অন্যান্য ভিজ্যুয়াল উপাদান সংযোজন করা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বইটি এমনভাবে তৈরি করতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা আনন্দের সঙ্গে শিখতে পারে। পাশাপাশি বইটির শুরুতে একটি বিস্তারিত ভূমিকা এবং এর দার্শনিক ভিত্তির বাস্তব প্রয়োগ তুলে ধরারও পরামর্শ দেন তিনি।

কারিগরি শিক্ষাকে আরও গ্রহণযোগ্য করে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে উপদেষ্টা বলেন, এখনও অনেক ভালো পরিবারের শিক্ষার্থীরা কারিগরি শিক্ষায় আগ্রহ দেখায় না। এই সামাজিক ট্যাবু দূর করতে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে, বিশেষ করে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদেরও, নির্দিষ্ট মাত্রায় কারিগরি শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এজন্য প্রতিটি স্কুলে ল্যাব স্থাপন বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি পাঠ্যবইয়ে একটি মোটিভেশনাল ব্যাকগ্রাউন্ড অধ্যায় সংযোজনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পাঠ্যপুস্তকে অতীতের ভুল ও ইতিহাস বিকৃতির বিষয়ে তিনি বলেন, ইতিহাসকে নিরপেক্ষ ও নির্মোহভাবে উপস্থাপন করাই সরকারের লক্ষ্য। ইতিহাসকে নতুনভাবে সাজানোর প্রয়োজন নেই; বরং বাস্তব সত্য ও জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলনই পাঠ্যবইয়ে স্থান পাবে। তিনি বলেন, ইতিহাসের বিভিন্ন পালাবদলে বিএনপি জনগণের পাশে ছিল এবং নির্মোহ বিশ্লেষণের ভিত্তিতে যে সত্য উঠে আসে, সেটিই পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত হবে। এই পরিমার্জন একটি চলমান প্রক্রিয়া বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ড. মাহদী আমিন জানান, আগামী বছরের ১ জানুয়ারির মধ্যে দেশের সব শিক্ষার্থীর হাতে নতুন পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য। বই বিতরণে প্রায় এক মাস সময় লাগবে। তাই নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই প্রায় ৩১ কোটি বইয়ের মুদ্রণ ও প্রকাশনা সম্পন্ন করে প্রস্তুত রাখতে হবে।

কর্মশালায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, এনসিটিবির কর্মকর্তাসহ দেশের শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।