আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
ব্রিটেনে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। তিনি প্রথম কর্মদিবসেই গৃহস্থালি বিদ্যুৎ বিলে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন। জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে আগামী ১ অক্টোবর থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার পরিকল্পনা নিয়েছে তার সরকার।
গতকাল মঙ্গলবার ডাউনিং স্ট্রিটের এক বিবৃতিতে বলা হয়, বিদ্যুৎ বিল থেকে কর প্রত্যাহারের রাজস্বের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া হবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের প্রস্তাবিত বিতর্কিত ডিজিটাল পরিচয়পত্র (ডিজিটাল আইডি) প্রকল্প বাতিলের মাধ্যমে। প্রায় ১৮০ কোটি পাউন্ড ব্যয়ের এই প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্ত আগেই জানিয়েছিলেন বার্নহ্যাম।
গত সোমবার যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন বার্নহ্যাম। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি রাজনৈতিক অস্থিরতার অবসান ঘটিয়ে নতুন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মডেল গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন।
মঙ্গলবার তিনি প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে কয়েকজন স্টারমার-ঘনিষ্ঠ মন্ত্রীকে সরিয়ে নিজের ঘনিষ্ঠদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেন। এর মধ্যে সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলিকে অর্থমন্ত্রী (চ্যান্সেলর) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর বিষয়ে স্টারমারের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে তিনি গত জুনে পদত্যাগ করেছিলেন।
দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন বার্নহ্যাম। ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে জানান, তাদের মধ্যে ‘খুব ভালো’ আলোচনা হয়েছে। দুই নেতা উত্তর সাগরের তেল, বাণিজ্য, সামরিক জোট এবং হরমুজ প্রণালির মাইন অপসারণসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন। শিগগিরই তাদের মুখোমুখি বৈঠকও হতে পারে বলে জানান ট্রাম্প।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদে এড মিলিব্যান্ড
বার্নহ্যামের মন্ত্রিসভার সবচেয়ে আলোচিত সিদ্ধান্তগুলোর একটি হলো সাবেক লেবার নেতা এড মিলিব্যান্ডকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া। জলবায়ু নীতি ও ২০৫০ সালের মধ্যে যুক্তরাজ্যকে নেট-জিরো কার্বন নির্গমন লক্ষ্যে পৌঁছানোর জোরালো সমর্থক হিসেবে পরিচিত মিলিব্যান্ড উত্তর সাগরে নতুন তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের লাইসেন্স দেওয়া বন্ধ করেছিলেন।
ব্রিটিশ গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, মিলিব্যান্ড অর্থমন্ত্রী হতে চাইলেও নেট-জিরো নীতিতে তার দৃঢ় অবস্থানের কারণে জ্বালানির দাম আরও বাড়তে পারে–এমন আশঙ্কায় বার্নহ্যামের ঘনিষ্ঠরা তার সেই নিয়োগের বিরোধিতা করেন।
ট্রাম্পও অতীতে মিলিব্যান্ডের জ্বালানি নীতির কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, উত্তর সাগরের বিপুল তেল-গ্যাস সম্পদ ব্যবহার না করে ব্রিটেন সম্ভাবনা নষ্ট করছে। ট্রাম্পের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট ২০৫০ সালের নেট-জিরো লক্ষ্যকে ‘অযৌক্তিক’ বলেও মন্তব্য করেছিলেন।
এ ছাড়া ২০১৩ সালে সিরিয়ার ঘৌতায় রাসায়নিক অস্ত্র হামলার পর সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রচেষ্টা ব্যাহত করার অভিযোগেও সমালোচনার মুখে রয়েছেন মিলিব্যান্ড।
সূত্র: আল-জাজিরা

