• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

জাতীয়

তথ্য বিভ্রাট ও অপতথ্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ: তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশ: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬ ৭:১০
আপডেট: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬ ৭:১০

তথ্য বিভ্রাট ও অপতথ্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ: তথ্যমন্ত্রী

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবিঃ সংগৃহীত
এক সময় তথ্যের অপ্রতুলতা ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু বর্তমানে ভুল তথ্য (মিসইনফরমেশন) ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপতথ্য (ডিসইনফরমেশন) সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

তিনি বলেন, ‘তথ্যের প্রাচুর্যের এ যুগে জনমত প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে ভুল তথ্য ও অপতথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতার প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে তথ্য যাচাই করে সত্যকে উদ্ঘাটন করা এবং বস্তুনিষ্ঠতার ভিত্তিতে জনগণের সামনে তা তুলে ধরা।’

রবিবার (২ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ৬৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।


বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে ‘রাজনীতি, ক্ষমতা ও সাংবাদিকতার আন্তঃসংশ্লেষ: তত্ত্ব, বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এ সেমিনার আয়োজন করে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ। সেমিনারে মুখ্য আলোচক ছিলেন দৈনিক নিউ এজ পত্রিকার সম্পাদক নূরুল কবীর।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে ও অধ্যাপক রুবায়েত ফেরদৌসের সঞ্চালনায় সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।


তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সত্য উদ্ঘাটন ও বস্তুনিষ্ঠতাই সঠিক সাংবাদিকতার মৌলিক মানদণ্ড। জনকল্যাণ সাংবাদিকতার অন্যতম লক্ষ্য হলেও সেই লক্ষ্য অর্জনের পূর্বশর্ত হচ্ছে তথ্যের সত্যতা ও বস্তুনিষ্ঠতা নিশ্চিত করা। কারণ কোনো পূর্বনির্ধারিত লক্ষ্য বা অবস্থান যদি সত্য অনুসন্ধানকে প্রভাবিত করে, তাহলে সাংবাদিকতার নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।’

তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকতা শুধু তথ্য পরিবেশনের পেশা নয়; এটি রাষ্ট্র ও সমাজে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান মাধ্যম। স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম ছাড়া গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা শক্তিশালী হতে পারে না।’

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক মর্যাদা এবং স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। একইসঙ্গে অপতথ্য মোকাবিলায় পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।’

আলোচনা শেষে প্রশ্নোত্তর পর্বে বাকস্বাধীনতা প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাকস্বাধীনতার সীমা নির্ধারণ একটি জটিল বিষয়। প্রত্যেক ব্যক্তি তার নিজস্ব রাজনৈতিক, দার্শনিক ও আদর্শিক অবস্থান থেকে মতপ্রকাশ করেন। ফলে মতের ভিন্নতা থাকবেই। কিন্তু স্বাধীনতার পাশাপাশি দায়িত্ববোধও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সেই ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যেই সরকার একটি গণমাধ্যম কমিশন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তথ্যমন্ত্রী।’

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ক্ষমতা, স্বাধীনতা এবং দায়িত্ব-এই তিনটি উপাদানকে সমন্বিত করেই আমরা গণমাধ্যম কমিশন গঠন করতে চাই। এটি হবে সব অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে গঠিত একটি অংশগ্রহণমূলক ও ভারসাম্যপূর্ণ প্রতিষ্ঠান।’

এর আগে মন্ত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের ছাত্রজীবনের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, এই ক্যাম্পাসে কাটানো দিনগুলো তার জীবনের অন্যতম মূল্যবান সময় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে আসা তার জন্য গভীর নস্টালজিয়ার অনুভূতি সৃষ্টি করেছে।