• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

জাতীয়

সম্পত্তি দান করলেও আজীবন ভোগদখলের অধিকার থাকবে পিতা-মাতার

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬ ৪:০৩
আপডেট: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬ ৪:০৩

সম্পত্তি দান করলেও আজীবন ভোগদখলের অধিকার থাকবে পিতা-মাতার

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
সন্তান বা নাতি-নাতনিকে সম্পত্তি দান করার পরও দাতা পিতা-মাতা বা দাদা-দাদির আজীবন ভোগদখলের অধিকার আইনি সুরক্ষার আওতায় আনতে The Transfer of Property (Amendment) Act, 2026-এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

একই বৈঠকে জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদের পরামর্শ ছাড়াই প্রণীত হওয়ায় ২০২৬ সালের ‘অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা’ এবং ‘ওষুধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি ২০২৬’ বাতিলের প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে আইন ও বিচার বিভাগ এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উত্থাপিত এ দুটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিদ্যমান The Transfer of Property Act, 1882-এ দাতা জীবনকালীন ভোগের অধিকার (Lifetime Usufruct) সংরক্ষণ করে সম্পত্তিদানের বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো বিধান নেই। ফলে পিতা-মাতা বা দাদা-দাদি সন্তান বা নাতি-নাতনিকে সম্পত্তি দান করলেও নিজেদের জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহারের আইনি নিশ্চয়তা পান না। এ বাস্তবতা বিবেচনায় নতুন সংশোধনীর মাধ্যমে দাতা জীবিত থাকা অবস্থায় ভোগ করার অধিকার সংরক্ষণের বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

মন্ত্রিসভা আইনটির খসড়া লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে।

অন্যদিকে ওষুধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩ অনুযায়ী অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা প্রণয়নের আগে জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদের পরামর্শ গ্রহণ বাধ্যতামূলক। কিন্তু চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রকাশিত তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি ওই পরিষদের মতামত ছাড়াই প্রণয়ন করা হয়েছিল। এ কারণে এর বৈধতা উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হয় এবং বিষয়টি বর্তমানে বিচারাধীন।

মন্ত্রিসভা জানিয়েছে, গত ২৯ জুন জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরিষদে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাবও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

২০২৬ সালের তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি বাতিল হলেও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ১৯৯৪ সালের আদেশে প্রণীত অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা এবং সেসব ওষুধের সরকারি মূল্য নির্ধারণব্যবস্থা আগের মতোই বহাল থাকবে। পাশাপাশি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা নতুন করে হালনাগাদ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সরকার জানিয়েছে, নতুন মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হবে যাতে জনগণের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি না হয় এবং ওষুধের বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা বজায় থাকে।

গুমে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে আইনের খসড়া অনুমোদন

এদিকে মন্ত্রিসভার একই বৈঠকে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে গুমের কারণে মৃত্যু ঘটলে, মরদেহ উদ্ধার হলে কিংবা পাঁচ বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও নিখোঁজ ব্যক্তির জীবিত বা মৃত অবস্থার কোনো সন্ধান না মিললে অপরাধীর জন্য মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডও আরোপ করা যাবে। একই সঙ্গে গুমকে স্বতন্ত্র, আমলযোগ্য, জামিন-অযোগ্য ও আপস-অযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে খসড়া আইনটির অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মানবাধিকার, মানবিক মর্যাদা, ব্যক্তি-স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য সামনে রেখে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে গুম প্রতিরোধ, দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনা, গুম হওয়া ব্যক্তির সন্ধান, ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকার, ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসনের জন্য একটি সমন্বিত আইনগত কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা হবে।

আইনে গুম হওয়া ব্যক্তিকে উদ্ধারের জন্য আদালতের মাধ্যমে তল্লাশি পরোয়ানা জারি, অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে বিচার, ডিজিটাল সাক্ষ্য গ্রহণ, সাক্ষী, অভিযোগকারী, তথ্য প্রকাশকারী এবং ভুক্তভোগীর পরিচয় ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিধান রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের তদন্তের অগ্রগতি, ঘটনার প্রকৃত তথ্য এবং নিখোঁজ ব্যক্তির অবস্থান বা পরিণতি জানার অধিকার স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। সরকারি আইনগত সহায়তা, চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ক্ষতিপূরণ আদায়ে দণ্ডিত ব্যক্তির সম্পত্তি ব্যবহার করা হবে। তা সম্ভব না হলে রাষ্ট্র ক্ষতিপূরণ প্রদান করবে।

খসড়া আইনে গুম হওয়া ব্যক্তির স্ত্রী ও নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্পত্তি ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পাঁচ বছর পর উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনের জন্য গুম সনদ প্রদান, কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার সংরক্ষণ এবং গুমসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিধানও যুক্ত করা হয়েছে।

দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে তদন্ত সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে এবং বিচারকার্যও সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে শেষ করার বিধান রাখা হয়েছে।