• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

রাজনীতি

বিএনপির মহাসচিব সালাহউদ্দিন না রিজভী?

প্রকাশ: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬ ৪:১৯
আপডেট: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬ ৪:১৯

বিএনপির মহাসচিব সালাহউদ্দিন না রিজভী?

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবিঃ সংগৃহীত

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দল থেকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়ার পর থেকেই বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব কে হচ্ছেন– এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নপত্র পাবার পর বিএনপির মহাসচিব থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপর থেকেই আলোচনায় কে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসছেন? এ নিয়ে দলের ভেতরে একাধিক নাম আলোচনায় থাকলেও সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং সদ্য স্থায়ী কমিটিতে যুক্ত হওয়া রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।

দলীয় একাধিক সূত্রের দাবি, মহাসচিব পদ নিয়ে হাইকমান্ডের ভাবনা অনেকটাই এগিয়েছে। তবে কৌশলগত কারণে এখনই নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী মহাসচিবের পদ শূন্য হলে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সেই হিসাবে রিজভীর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করছে দলের নেতাদের একটি অংশ। পরে দলীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে তাকে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব করা হতে পারে।

তবে এই পদের জন্য আলোচনায় রয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমদ। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা এই নেতার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে। দলীয় নীতিনির্ধারণ, রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণ এবং আন্দোলন-সংগ্রামে তার ভূমিকা হাইকমান্ডের বিবেচনায় রয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

বিশেষ করে বিগত রাজনৈতিক আন্দোলনে তার সক্রিয় ভূমিকা, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, গুমের শিকার হওয়া, জুলাই সনদ প্রণয়ন এবং সংসদের ভেতরে-বাইরে বক্তব্য দেওয়ার দক্ষতার কারণে মহাসচিব পদে সালাহউদ্দিনের নাম জোরালোভাবে আলোচনায় রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হিসেবেও দলের অভ্যন্তরে তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

অন্যদিকে রুহুল কবির রিজভীর শক্তির জায়গা মাঠের রাজনীতি ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা। দীর্ঘদিন বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড সামলেছেন তিনি। বিরোধী দলের সময়ে মামলা, হামলা ও গ্রেপ্তার উপেক্ষা করে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিয়মিত অবস্থান এবং রাজপথের কর্মসূচিতে সরাসরি নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের কাছে তার আলাদা গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।

সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টার দায়িত্ব পেলেও দলীয় কর্মকাণ্ডে রিজভীর সক্রিয়তা কমেনি। ফলে দলীয় সংগঠন, নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং রাজপথের অভিজ্ঞতার কারণে মহাসচিব হিসেবে তার সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে বিএনপির একটি অংশ।

রিজভীর সম্ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করেছে বিএনপির গতকালের সিদ্ধান্ত। বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে নতুন চার নেতাকে সদস্য করা হয়েছে। তারা হলেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমান উল্লাহ আমান, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ফরহাদ হালিম (ডোনার) এবং চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। এর ফলে রিজভী এখন দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের সদস্য। দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে স্থায়ী কমিটির সঙ্গে সমন্বয়ের যে প্রশ্ন ছিল, নতুন এই সিদ্ধান্তের পর সেটি অনেকটাই পরিষ্কার হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর বাইরে আরও দুই সাবেক ছাত্রনেতার নামও আলোচনায় রয়েছে। তারা হলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল। রাজপথের অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও অপেক্ষাকৃত ক্লিন ইমেজের কারণে তাদের নামও বিবেচনায় রয়েছে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, মহাসচিবের পদ শূন্য হলে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী একজন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব দায়িত্ব পালন করবেন। পরে কাউন্সিলের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব নির্বাচন করা হবে।

বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল খবরের কাগজকে বলেছেন, ‘বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলের চেয়ারম্যানকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া আছে। এ বিষয়ে চেয়ারম্যান ও হাইকমান্ডই সিদ্ধান্ত নেবেন। বিষয়টি নিয়ে আমরা এখন পর্যন্ত তেমন কিছু জানি না।’