নীলফামারী প্রতিনিধি
ছবিঃ প্রতিনিধি
নীলফামারীর সৈয়দপুরে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে সর্ববৃহৎ ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) আঞ্জুমানে গাউসিয়া আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত এ জশনে জুলুসে সৈয়দপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশ নেন।
সকাল থেকেই বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে মানুষ সৈয়দপুর রেলওয়ে মাঠে সমবেত হতে থাকেন। পরে বেলা ১০টার দিকে প্রায় ৩০ হাজার ধর্মপ্রাণ মানুষের অংশগ্রহণে জশনে জুলুসটি আনুষ্ঠানিকভাবে রেলওয়ে মাঠ থেকে বের হয়। কালেমাখচিত সবুজ পতাকা, বিভিন্ন সাজে সজ্জিত শতাধিক যানবাহন, ধর্মীয় স্লোগান ও নাতে রাসুলে মুখর হয়ে ওঠে পুরো সৈয়দপুর শহর।
পীরে কামেল সৈয়্যদ জামাল আশরাফ আশরাফী আল জিলানীর নেতৃত্বে বের হওয়া এ জুলুসটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রায় ১০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম শেষে দুপুর ১টার দিকে পুনরায় সৈয়দপুর রেলওয়ে মাঠে এসে শেষ হয়। জশনে জুলুসকে ঘিরে শহরজুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর ও ধর্মীয় আবহ। জশনে জুলুস দেখতে শহরের বিভিন্ন সড়কের দুই পাশে বিপুলসংখ্যক মানুষ অবস্থান নেন। অনেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে জুলুস প্রত্যক্ষ করেন। পুরো আয়োজনকে ঘিরে শহরে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
জুলুসে অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল কালেমাখচিত সবুজ পতাকা। ‘বিশ্বনবীর জন্মদিন, আজকে মোদের খুশির দিন’, ‘বিশ্বনবীর আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’ এবং ‘নারায়ে রিসালাত, ইয়া রাসুলুল্লাহ’সহ বিভিন্ন ধর্মীয় স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে শহরের অলিগলি ও প্রধান সড়কগুলো।
জশনে জুলুসের চলাচলের সড়ক ও আশেপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও জনসাধারণের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।
জুলুস শেষে সৈয়দপুর রেলওয়ে মাঠে অনুষ্ঠিত হয় ‘মিলাদে মোস্তাফা’। এতে সভাপতিত্ব করেন আঞ্জুমানে গাউসিয়া আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের সভাপতি হাজী তসলিম। মিলাদ পরিচালনা করেন পীরে কামেল সৈয়্যদ জামাল আশরাফ আশরাফী আল জিলানী।
অনুষ্ঠানে সৈয়দপুর উপজেলার বিভিন্ন মসজিদের ইমাম, খতিব, মাওলানা, স্থানীয় পীর-মাশায়েখ ও উলামায়ে কেরাম বক্তব্য দেন। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম, সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহীন আক্তার শাহীনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতারা।
বক্তারা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, মহানবীর জীবন মানবজাতির জন্য শান্তি, সাম্য, ন্যায়, মানবতা ও ভ্রাতৃত্বের অনন্য দৃষ্টান্ত। তার আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
বক্তারা পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের উদ্যোগ নেওয়ায় সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। একই সঙ্গে মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা ও সুন্নাহ অনুসরণ করে সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান। পরে সালাত ও সালাম এবং দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতের মধ্য দিয়ে সৈয়দপুরে আয়োজিত বর্ণাঢ্য ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-এর জশনে জুলুস ও মিলাদ মাহফিলের সমাপ্তি ঘটে।

