• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

রাজনীতি

তিন গুরুত্বপূর্ণ বিল পাসের আগেই সংসদে বিরোধী দলের ওয়াকআউট

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬ ১০:০৭
আপডেট: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬ ১০:০৭

তিন গুরুত্বপূর্ণ বিল পাসের আগেই সংসদে বিরোধী দলের ওয়াকআউট

শীর্ষ খবর ডেস্ক
ছবিঃ সংগৃহীত

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সক্ষমতা বৃদ্ধি, গুম প্রতিরোধ সংক্রান্ত আইন এবং হস্তান্তর সম্পত্তি (সংশোধন) বিল, ২০২৬ সংসদে উত্থাপনের ঠিক আগে ওয়াকআউট করেছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাত ৮টা ৫ মিনিটের দিকে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের বক্তব্যের পর তারা অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।

বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান ফ্লোর নিয়ে কার্যসূচিতে বিল অন্তর্ভুক্ত করার তীব্র বিরোধিতা করেন। নিয়ম অনুযায়ী বৃহস্পতিবার শুধু বেসরকারি সদস্যদের (প্রাইভেট মেম্বার) কার্যাবলির জন্য নির্ধারিত থাকে।

প্রশ্ন তুলে শফিকুর রহমান বলেন, প্রাইভেট মেম্বার ডে-তে মন্ত্রীর বিল উত্থাপন করা যায় কি না, সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত নই। তাছাড়া একাধিক বেসরকারি বিল এখনো বিচারাধীন রয়েছে। এখানে মন্ত্রীদের বিল এনে সংসদ সদস্যদের অধিকার ক্ষুণ্ণ করা হচ্ছে না?

তিনি আরও বলেন, এটি ভালো দৃষ্টান্ত নয়। বেসরকারি সদস্যদের দিনটি শুধু তাদেরই প্রাপ্য। আমরা এই আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে ইচ্ছুক নই।

গণভোটের রায় অনুযায়ী ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন না করায় সরকারের সমালোচনা করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, সংসদকে একপেশে করে ফেলার চেষ্টা চলছে এবং এর মাধ্যমে সংস্কারের মূল দাবিকে আড়াল করার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে খণ্ডিত সংস্কারের অংশ হতে অনিচ্ছা প্রকাশ করে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেন।

অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটের রায় অনুযায়ী ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের বিষয়টি বাস্তবায়ন না করে সরকার যে পথে এগোচ্ছে, তাতে তারা নীতিগতভাবে অংশ নিতে চান না।

তিনি বলেন, ‘সংসদকে ঠেলে একপেশে করে ফেলা হচ্ছে। আমরা নীতিগতভাবে এই ধরনের বিলে অংশগ্রহণ করতে চাচ্ছি না। আমরা আশঙ্কা করছি এর মাধ্যমে সংস্কারের মূল দাবি সেটাকে চাপা দেওয়া হচ্ছে। আমরা এর পক্ষে নাই।’

শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘এখন আপনারা যা উত্থাপনের দিকে যাচ্ছেন…আমরা এভাবে খণ্ডিত সংস্কারের অংশ হতে চাই না, আমরা ওয়াকআউট করছি।’

এ বক্তব্যের পর বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা অধিবেশন কক্ষ থেকে বের হয়ে যান।

বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করার পর তাদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। তিনি বলেন, সংসদে ওয়াকআউট করার স্বাধীনতা বিরোধী দলের রয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ সব বিষয় সংসদের ভেতরেই আলোচনা করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘ওয়াকআউট করার স্বাধীনতা আপনার আছে। কিন্তু সংসদের ভেতরে সবকিছু আলোচনা করা দরকার। না হলে জাতি কী পাবে? আমি অনুরোধ করব আপনারা বসেন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। পক্ষ-বিপক্ষ বিতর্ক থাকবে। বিতর্কের মধ্যে দিয়েই তো জাতি পরিচালিত হবে।’

তিনি বিরোধী দলের সদস্যদের অধিবেশনে ফিরে এসে আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। তার বক্তব্যে সংসদের ভেতরে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও বিতর্ক ও আলোচনার মাধ্যমে বিষয়গুলো নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এরপর সংসদে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি সংসদের কার্যক্রমে বিরোধী দলের অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের উচিত সংসদকে প্রাণবন্ত রাখা এবং তুচ্ছ বিষয়ে ওয়াকআউট না করা।’

এদিকে, বিরোধী দলের ওয়াকআউটের মধ্য দিয়ে সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়া এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে সংসদে সরকারের সঙ্গে তাদের মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিরোধী দল বলছে, খণ্ডিতভাবে সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে মূল সংস্কারের দাবি চাপা পড়তে পারে। সেই অবস্থান থেকেই তারা সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে অধিবেশন থেকে বেরিয়ে যায়।

অন্যদিকে, ডেপুটি স্পিকার ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে সংসদকে কার্যকর ও প্রাণবন্ত রেখে বিরোধী দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ও বিতর্ক চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ফলে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনসহ সংস্কার প্রক্রিয়ার কাঠামো নিয়ে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের বিষয়টি সংসদীয় কার্যক্রমেও প্রকাশ পায়।

তিনি আরও বলেন, সরকারি ও বিরোধী দলের তর্ক-বিতর্ক সংসদ কক্ষের ভেতরেই হওয়া উচিত এবং সব সিদ্ধান্তের মীমাংসাও এখানেই করা প্রয়োজন।