• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

স্বাস্থ্য

কসকো সাবান: সোনালী দিনের স্মৃতির সুবাস

প্রকাশ: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬ ২:১৩
আপডেট: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬ ২:১৩

কসকো সাবান: সোনালী দিনের স্মৃতির সুবাস

জনতার আওয়াজ ডেস্ক

ছবি: এআই

আমাদের শৈশবের স্মৃতির পাতায় কসকো সাবান যেন এক জাদুকরী সুঘ্রাণের নাম। সেই অদ্ভুত সুন্দর লালচে-হালকা স্বচ্ছ রূপ আর মন মাতানো সুবাসে ঘেরা দিনগুলো আমাদের সবার মনে এক অমলিন স্মৃতি হয়ে রয়ে গেছে। সময়ের আবহে অনেক কিছুই বদলেছে, কিন্তু কসকোর প্রতি অনেকেরই ভালোবাসা রয়ে গেছে আগের মতোই আছে।

১৭৯১ সালের আগ পর্যন্ত সাবান ছিল অভিজাত পরিবারের ব্যবহৃত পণ্য। সাবান যা স্নানঘরে শোভা বাড়াতো। শুধু তাই নয়, সাবানের ওপর করও নাকি বসানো হয়েছিল একসময়। এরপর ধীরে ধীরে এ সাবান সাধারণ মানুষের ব্যবহার উপযোগী হয়ে উঠেছে।

সময় বদলেছে, বাজার ছেয়ে গেছে নানা রঙের, নানা ঢংয়ের আধুনিক প্রসাধন সাবানে। তবুও সময়ের ব্র্যান্ডিং-ঝলকানি টেক্কা দিয়ে নিজস্ব অবস্থান টিকে আছে কসকো সাবান। ষাট ও সত্তরের দশক থেকে শুরু করে আজ অবধি, এর বিশেষ সুবাস আর লালচে-হালকা স্বচ্ছ রূপ বাঙালির প্রাত্যহিক জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, কসকো সাবানের জনপ্রিয়তার মূল রহস্য এর অপরিবর্তিত গুণমান ও সিগনেচার পারফিউম। গ্লিসারিনসমৃদ্ধ এই সাবান কেবল ত্বক পরিষ্কারই করে না, বরং আর্দ্রতা বজায় রাখতেও দারুণ কার্যকর। বিশেষ করে শীতকাল কিংবা সংবেদনশীল ত্বকের পরিচর্যায় এখনো অনেক গ্রাহকের মনে রয়ে গেছে পছন্দের কসকো।

চিকিৎসকের পরামর্শেও অনেকে কসকো সাবান ব্যবহার করছেন। শুষ্ক ও সংবেদনশীল ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে গ্লিসারিনযুক্ত এই সাবান ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয়।

রাজধানীর এক খুচরা ব্যবসায়ী জানান, ‘নতুন শত শত সাবানের ব্র্যান্ড আসলেও কসকোর চাহিদা কখনো কমেনি। প্রবীণদের নস্টালজিয়ার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মও এর ঘ্রাণের কারণে এটি ব্যবহার করছে।’

প্রচার-প্রচারণার জাঁকজমক না থাকলেও কেবল গুণমান আর মানুষের আস্থাকে সম্বল করে কসকো সাবান আজ এক ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। দেশীয় প্রসাধন সামগ্রীর বাজারে এটি কেবল একটি ব্র্যান্ড নয়, বরং কয়েক প্রজন্মের স্মৃতি ও বিশ্বাসের এক জীবন্ত প্রতীক।

নব্বইয়ের দশকে বাজারে দাপটের সঙ্গে রাজত্ব করেছে কসকো সাবান। পরে বিদেশি ব্র্যান্ডের পাশাপাশি স্থানীয় বিভিন্ন কোম্পানির সাবান বাজার নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে যায়। ধীরে ধীরে পিছিয়ে পড়ে কসকো।

বাংলাদেশ কসমেটিকস অ্যান্ড টয়লেট্রিজ ম্যানুফেকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিটিএমএ) ২০১৬ সালের একটি প্রতিবেদন বলছে, দেশে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় বিউটি সোপ লাক্স। এর মার্কেট শেয়ার ৪৫ শতাংশ।

দেশে উৎপাদিত এই সাবানের দাপুটে বাজার ছিল দীর্ঘদিনের। ‘ক্ষয় কম, ব্যবহার করা যায় বেশি দিন’ এমন সুবিধায় অনেকেই আপন করে নেন কসকো সাবান। ব্যক্তিগত ব্যবহারের পাশাপাশি খাবারের হোটেলসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বিপুল জনপ্রিয়তা পায় পণ্যটি।

বাংলাদেশ হওয়ার পর অর্থাৎ স্বাধীনতা যুদ্ধের পর বাজারে আসতে শুরু করে ‘কসকো’ সাবান। এটি ছিল গ্লিসারিনযুক্ত সাবান। এর আগে বাংলাদেশের আর কোনো গ্লিসারিন সাবান ছিল না। ফলে ক্রমেই এই সাবানের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। সত্তর, আশি দশকের পর থেকে এই সাবান ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে।

কসকো পুরোনো সাবান। ক্ষয় কম হয়, টেকে বেশি দিন। অন্য সাবান দ্রুত ফুরিয়ে যায়, কিন্তু কসকো একটু বেশি দিন টেকে।