শীর্ষ খবর ডেস্ক
ছবি : সংগৃহীত
দুই গ্রীষ্ম ধরে অ্যাস্টন ভিলা ছাড়ার চেষ্টা, একাধিকবার দলবদলের সম্ভাবনা তৈরি হয়েও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি। এবার আর কোনো বাধা থাকল না। অবশেষে ভিলা ছাড়ার ইচ্ছা পূরণ হয়েছে এমিলিয়ানো মার্তিনেজের। ৭৫ লাখ পাউন্ডে অ্যাস্টন ভিলা থেকে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষককে দলে নিয়েছে চেলসি।
৩৩ বছর বয়সী মার্তিনেজ স্ট্যামফোর্ড ব্রিজের ক্লাবটির সঙ্গে তিন বছরের চুক্তি করেছেন। ২০২২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার শিরোপাজয়ী দলের অন্যতম নায়ক এবং সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার ইয়াশিন ট্রফি দুবার জেতা এই গোলরক্ষকই এখন চেলসির এক নম্বর গোলরক্ষকের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। ফলে রবার্ট সানচেজের জায়গা হারানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
চেলসিতে যোগ দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন মার্তিনেজ। চেলসির ওয়েবসাইটে তিনি বলেন, ‘এই ফুটবল ক্লাবে আসতে পেরে আমি দারুণ আনন্দিত। আমার ও আমার পরিবারের জন্য চেলসিতে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া খুবই সহজ ছিল। আমি ভীষণ খুশি। শুরু করার জন্য আর অপেক্ষা করতে পারছি না। আমি এখানে সফল হতে চাই। আমি এমন একজন মানুষ, যে যা করি সবকিছুতেই জিততে চাই। আর এই মানসিকতাটা আমি এই ফুটবল ক্লাবেও নিয়ে আসতে চাই। কারণ এটি এমন একটি ক্লাব, যারা শিরোপা জেতে। তাই আমার মনে হয়, এটি দারুণ একটি মিল।’
নিজের আবেগ ও মানসিকতার কথাও জানিয়ে মার্তিনেজ বলেন, ‘আমি পুরোপুরি আবেগ দিয়ে খেলি এবং হৃদয় দিয়ে মাঠে নামি। প্রতিটি ম্যাচে, প্রতিটি অনুশীলনে ক্লাব, আমার সতীর্থ এবং সমর্থকদের গর্বিত করতে আমি শতভাগ দেব।’
চেলসিতে যোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে ভিলায় মার্তিনেজের ছয় বছরের অধ্যায়েরও ইতি ঘটল। ২০২০ সালে আর্সেনাল থেকে ভিলায় যোগ দেন তিনি। এরপর ক্লাবটির ইংলিশ ফুটবলের শীর্ষ সারিতে উঠে আসার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এই আর্জেন্টাইন। গত মৌসুমে ভিলার ইউরোপা লিগ জয়ের সাফল্যেও ছিল তার বড় অবদান।
তবে গত দুই গ্রীষ্ম ধরেই ভিলা ছাড়ার চেষ্টা করছিলেন মার্তিনেজ। গত বছরও দলবদলের চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু কোনো চুক্তি বাস্তবায়িত হয়নি। চলতি মাসের শুরুতে জুভেন্টাসে যাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সেই চুক্তিও ভেস্তে যায়। এবার অবশ্য আর আটকে থাকেনি দলবদল। ৭৫ লাখ পাউন্ডেই মার্তিনেজের চেলসি যাত্রা নিশ্চিত হয়েছে।
মার্তিনেজের বিদায় নিশ্চিত করে এক বিবৃতিতে অ্যাস্টন ভিলা বলেছে, ‘এমি ২০২০ সালে আর্সেনাল থেকে ক্লাবে যোগ দিয়েছিল এবং এখানে পুরো সময়জুড়ে গোলপোস্টে সে ছিল দুর্দান্ত ও কর্তৃত্বশীল। এর চূড়ান্ত সাফল্য আসে গত মে মাসে, যখন ভিলাকে ইউরোপা লিগ জিততে সহায়তা করে সে।’
ভিলা আরও জানায়, “অ্যাস্টন ভিলায় থাকাকালীনই সে আর্জেন্টিনার হয়ে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ পায়। এরপর সে আর্জেন্টিনার হয়ে দুটি কোপা আমেরিকা এবং একটি বিশ্বকাপ জেতে। বিশ্বের এক নম্বর গোলরক্ষক হিসেবেও তাকে দুবার নির্বাচিত করা হয়েছে। ২০২৩ ও ২০২৪ সালে টানা দুটি ইয়াশিন ট্রফি জেতার পাশাপাশি দুটি ‘দ্য বেস্ট ফিফা ফুটবল’ পুরস্কারও পেয়েছে সে।”
মার্তিনেজের প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানিয়েছে ভিলা, ‘তার অসাধারণ পারফরম্যান্স এবং প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের যাত্রা ও সাফল্যে এমির অবদান সবসময় মনে রাখা হবে। অ্যাস্টন ভিলা ছাড়ার সময় ফুটবল ক্লাবের প্রত্যেকের পক্ষ থেকে তার জন্য রইল আন্তরিক শুভকামনা।’

