• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

আন্তর্জাতিক

হুথিদের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় কেঁপে উঠল সৌদি আরব

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৫৪
আপডেট: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৫৪

হুথিদের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় কেঁপে উঠল সৌদি আরব

হুথিদের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় কেঁপে উঠল সৌদি আরব

শীর্ষ খবর ডেস্ক
ছবি : সংগৃহীত

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা আবারও সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের দাবি, বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খামিস মুশাইত, আবহা ও জাজান শহরকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়। খবর সামা টিভি অনলাইনের।

এর একদিন আগেই হুথিদের হামলায় সৌদি আরবের চারটি শহরে ৭৩ জন আহত হন এবং কয়েকটি তেল স্থাপনায় আগুন ধরে যায়। ফলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

সৌদি জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি বলেন, ইরান-সমর্থিত হুথিরা সৌদি আরবের জাতীয় সম্পদ ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর ‘জঘন্য হামলা’ অব্যাহত রেখেছে।

হামলার পর আবহা ও খামিস মুশাইতে সৌদি সিভিল ডিফেন্স জরুরি সতর্কতা জারি করে সম্ভাব্য বিপদের বিষয়ে বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলে। পরে তাৎক্ষণিক হুমকি কেটে গেলে সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়। সাম্প্রতিক হামলার পর দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় চতুর্থবারের মতো খামিস মুশাইত অঞ্চলে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় ‘অল ক্লিয়ার’ ঘোষণা দেয় সিভিল ডিফেন্স।

টানা দ্বিতীয় দিনের হামলা

সর্বশেষ হামলার মাত্র একদিন আগে হুথিরা ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরান সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক সংঘাতের পর সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় হামলাগুলোর একটি চালায়।

মঙ্গলবার খামিস মুশাইতের একটি বিমানঘাঁটি এবং আশপাশের শহরগুলোর তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা করা হয়। এতে ৭৩ জন আহত হন এবং বিভিন্ন তেল স্থাপনায় আগুন লাগে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, নতুন করে শুরু হওয়া এ হামলা সৌদি আরব ও হুথিদের দীর্ঘদিনের সংঘাতকে আবারও বড় আকারের যুদ্ধে রূপ দিতে পারে।

জবাব দেওয়ার ঘোষণা সৌদির

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, দেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় সম্পদ ও বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য সর্বশেষ হামলার ‘কড়া জবাব’ দেওয়া হবে।

সৌদি আরব হুথিদের হামলাকে বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি হিসেবে বর্ণনা করেছে। অন্যদিকে হুথিদের দাবি, ইয়েমেনে সৌদি সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধির প্রতিক্রিয়াতেই তারা এসব হামলা চালাচ্ছে।

আবারও বাড়ছে সংঘাতের আশঙ্কা

২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির পর কয়েক বছর তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতি থাকলেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে সংঘর্ষ আবারও তীব্র হয়েছে।

সৌদি আরব ইয়েমেনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে। প্রায় ১২ বছর আগে হুথিরা রাজধানী সানার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে দেশটির সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার অংশে পরিণত হয়েছে।

গত জুলাইয়ে হুথিরা লোহিত সাগরে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করে। এর জবাবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের ভেতরে হুথিদের সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায় বলে দাবি করে।

ইয়েমেনে হতাহতের দাবি

হুথি-নিয়ন্ত্রিত আল মাসিরাহ টিভি, দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, গত দুই দিনে ইয়েমেনের আল-জাওফ অঞ্চলে সৌদি হামলায় অন্তত ৩২ জন নিহত হয়েছেন।

তবে সৌদি আরব আল-জাওফে কোনো হামলা চালানোর কথা স্বীকার বা নিশ্চিত করেনি।

পাকিস্তানের নিন্দা

এদিকে পাকিস্তান হুথিদের সর্বশেষ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। ইসলামাবাদ পবিত্র ভূমি সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে চালানো হামলা অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে জটিল করে তুলতে পারে।

আ/আ