শীর্ষ খবর ডেস্ক
ছবি : সংগৃহীত
ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী মহানগর এক্সপ্রেসকে কক্সবাজার পর্যন্ত বর্ধিত করার উদ্যোগ নিয়েছে রেলওয়ে। ট্রেনটি এতদিন ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত চলাচল করায় নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জসহ পাঁচটি জেলার যাত্রীদের ট্রেনে চেপে কক্সবাজার যেতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হতো। আগামী মাস থেকে ওই পাঁচ জেলার যাত্রীরা মহানগর এক্সপ্রেসে চেপেই কক্সবাজার যাতায়াতের সুযোগ পাবেন। প্রায় তিন বছর ধরে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল করছে বিরতিহীনভাবে। মহানগর এক্সপ্রেসকে কক্সবাজার পর্যন্ত বর্ধিত করার উদ্যোগ গ্রহণের ফলে ১২টি স্টেশনের যাত্রী ট্রেনে করে কক্সবাজার যাতায়াতের সুযোগ পাবেন। এই উদ্যোগের ফলে রেলওয়ের আয়ও বৃদ্ধি পাবে। সব ঠিক থাকলে আগামী মাস থেকেই এই রুটে চলাচল করবে ট্রেনটি।
সূত্র জানায়, ঢাকার কমলাপুর স্টেশন থেকে রাত ৯টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে যায় মহানগর এক্সপ্রেস। কমলাপুর থেকে ছেড়ে আসার পর বিমানবন্দরসহ ১২টি স্টেশনে ট্রেনটির যাত্রাবিরতি রয়েছে। ঢাকার বিমানবন্দর ছাড়া নরসিংদী, কিশোরগঞ্জের ভৈরব বাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া ও কসবা, কুমিল্লা, লাকসাম ও নাঙ্গলকোট, ফেনী এবং চট্টগ্রামের কুমিরা স্টেশনে ট্রেনটি থামে। রাত সাড়ে ৩টায় এটি চট্টগ্রামে পৌঁছায়। কক্সবাজার পর্যন্ত সরাসরি ট্রেন না থাকায় এসব স্টেশনের যাত্রীদের সড়কপথে কক্সবাজার যেতে হয়। মহানগর এক্সপ্রেস কক্সবাজার পর্যন্ত বর্ধিত হলে ওই এলাকার যাত্রীরা সরাসরি ট্রেনে চেপে কক্সবাজার যেতে পারবেন। জানা গেছে, কক্সবাজার পর্যন্ত চলাচল শুরু হলে মহানগর এক্সপ্রেসের সময়সূচিতেও পরিবর্তন আনা হবে। তখন ঢাকার কমলাপুর থেকে রাত সাড়ে ৮টায় ট্রেনটি ছাড়বে এবং সাড়ে ৯ ঘণ্টা পর কক্সবাজারে পৌঁছবে সকাল ৬টায়। এছাড়া কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশে ফিরতি ট্রেন ছাড়বে সকাল ৯টায়।
সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে বাণিজ্যিকভাবে ট্রেন চলাচল শুরু হয়। বর্তমানে ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত দুই জোড়া বিরতিহীন আন্তঃনগর এবং চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত দুই জোড়া আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করছে। এর মধ্যে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ঢাকার কমলাপুর থেকে রাত ১১টায় ছেড়ে কক্সবাজারে পৌঁছায় সকাল ৭টা ২০ মিনিটে। আর পর্যটক এক্সপ্রেস ঢাকার কমলাপুর থেকে সকাল সোয়া ৬টায় ছেড়ে কক্সবাজারে পৌঁছায় বেলা ২টা ৪০ মিনিটে।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক সুজিত বিশ্বাস যুগান্তরকে বলেন, ‘ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত দুটি ট্রেন চলাচল করে। একটি কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও অপরটি পর্যটন এক্সপ্রেস। আর এই দুটি ট্রেনের আয় সর্বাধিক। তবে এই দুটি ট্রেন ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশন ও চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন ছাড়া অন্য কোথাও থামে না। এতে করে প্রায় পাঁচ জেলার মানুষ ট্রেনে কক্সবাজার যাতায়াতের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে মহানগর এক্সপ্রেসকে কক্সবাজার পর্যন্ত বর্ধিত করা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘ঢাকা-কক্সবাজার রুটে নতুন ট্রেন চালুর প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, কয়েক দিনের মধ্যে অনুমোদন পাওয়া যাবে। এরপর অগ্রিম টিকিট বিক্রির জন্য ১০ দিন সময় হাতে রেখে ট্রেন চালুর ঘোষণা দেয়া হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী মাসের (অক্টোবর) প্রথম সপ্তাহ থেকে ট্রেনটি চালুর প্রস্তুতি চলছে।’
আ/আ













