• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

রাজনীতি

এক বছরে ডাকসুর কার্যক্রম-অর্জনের হিসাব, অসহযোগিতায় আটকে উদ্যোগ

প্রকাশ: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০১
আপডেট: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০১

এক বছরে ডাকসুর কার্যক্রম-অর্জনের হিসাব, অসহযোগিতায় আটকে উদ্যোগ

শীর্ষ খবর ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) এক বছর মেয়াদ পূর্তিতে নিজেদের কার্যক্রম, অর্জন ও বাস্তবায়নাধীন উদ্যোগের তথ্য তুলে ধরেছেন নির্বাচিত নেতারা। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পরিবহন, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, গবেষণা, ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও আইনি সহায়তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কার্যক্রম পরিচালনা করেছে ডাকসু। তবে বেশ কিছু উদ্যোগ প্রশাসন ও সরকারের অসহযোগিতার কারণে বাস্তবায়ন করা যায়নি বলে, তাদের।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ডাকসু ভবনের সামনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এক বছরের কার্যক্রমসংক্রান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করে ডাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) আবু সাদিক কায়েম ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ।

এ নিয়ে কার্যবিবরণী ’খতিয়ান’ প্রকাশ করেছে ডাকসু। যেখানে দেখা যায়, ডাকসুর উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে- ২৮৪১ কোটি টাকার প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত ৫টি নতুন হল ও ১০টি হলে নতুন ভবন দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সরকারের সাথে ধারাবাহিকভাবে কাজ করার মাধ্যমে প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন; ১৫০০ ছাত্রী ধারণক্ষমতার ছাত্রী হল নির্মাণ দ্রুততর করার লক্ষ্যে চীনা রাষ্ট্রদূতের সাথে দুই দফায় আলোচনা হয়েছে। ইতোমধ্যে সকল চুক্তি সম্পন্ন হয়ে কাজ শুরুর অপেক্ষায়; হল ভিত্তিক পরিচ্ছন্নতা, মশক নিধন ও ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে ছারপোকা নিধন কর্মসূচী; সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের জন্য ৬.৫ কোটি, হাজী মুহম্মদ মুহসিন হলের জন্য ৮১ লক্ষ, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলের জন্য ২০ লক্ষ, মাস্টারদা’ সূর্য সেন হল, শামসুন নাহার হলসহ ঝুঁকিপূর্ণ সকল হল সংস্কারে পদক্ষেপসহ অসংখ্য শিক্ষার্থীবান্ধব উদ্যোগের কথা তোলা হয়।

এদিকে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ডাকসুর চেষ্টায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হলেও বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বাধায় সেসব আটকে যায়, বলে দাবি করা হয় ওই কার্যবিবরণীতে। এর মধ্যে রয়েছে- এটুআই ও আইসিটি ডিভিশনের সহায়তায় হলগুলোতে কম্পিউটার ল্যাব, আইটি প্রশিক্ষণ, ইন্টার্নশিপ, ইনোভেশন হাব ও জব ফেয়ার; স্থানীয় সরকার ও ডিএসসিসির সহায়তায় হলের প্রবেশদ্বার, ক্যাফেটেরিয়া, ওয়াকওয়ে, পুকুরপাড় ও সৌন্দর্যবর্ধন; ক্যান্টিন, ডাস্টবিন, রিকশা ও পরিবহন ব্যবস্থা, মাঠ সংস্কার, টিসিবির পণ্য সরবরাহ, পাবলিক ওয়াশরুম, রাস্তা সংস্কার, বাগান, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সুবিধা, ওয়েবসাইট ও ‘অল ইন ওয়ান ডিইউ অ্যাপ’, মসজিদ সংস্কার ও মক্তবসহ বেশ কিছু উদ্যোগ রয়েছে। বলা হয়েছে, এসবের অনেকগুলোতে মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন ও অর্থায়ন থাকলেও প্রশাসনিক জটিলতা ও উদ্যোগের অভাবে বাস্তবায়ন হয়নি।

এছাড়া বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ডাকসুর উদ্যোগে নেওয়া বিভিন্ন প্রকল্প বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে ডাকসুর কার্যক্রমে নানাভাবে বাঁধা দেওয়া হয়েছে, বলে দাবি করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে- মসজিদে এসি সংযোগ দিতে বিলম্ব, ছাত্রীদের ৬৫ লাখ টাকার জিমনেসিয়াম চালু করতে না দেওয়া, কেন্দ্রীয় মাঠের দুই কোটি টাকার সংস্কার না করা, ৫০০ ডাস্টবিন ও ভ্রাম্যমাণ টয়লেট স্থাপন, চীনের অর্থায়নে হল নির্মাণ এবং শিক্ষক-গবেষণা সহকারী পদ সৃষ্টির উদ্যোগ আটকে দেওয়া, ডাকসু ও হল সংসদকে পর্যাপ্ত বাজেট না দেওয়া, আবাসিক সিটে অভিন্ন নীতিমালা না করা, শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু না করা এবং পুরোনো নিয়োগ নীতিমালা বহাল রাখার অভিযোগও রয়েছে। এছাড়া ছাত্রদলের হামলায় ডাকসু নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিক আহত হওয়ার ঘটনায় অভিযোগ দিয়েও বিচার হয়নি, ফজলুল হক হলের শিক্ষার্থী হেনস্তার ঘটনায় প্রভোস্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো হল সংসদের নেতাদের শোকজ করা হয়েছে। ক্যাফেটেরিয়ার খাবারের মান ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগেও প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি বলে, ওই কার্যবিবরণীতে ডাকসুর অভিযোগ করে।

সার্বিক বিষয়ে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ‘আমরা ১ বছর জুড়ে যেসব কাজ করেছি, সেসব কার্যবিবরণী উল্লেখ করেছি। অনেক কাজ এখনও চলমান, আগামীতে বড়পরিসরে কার্যবিবরণী প্রমাণ-ছবিসহ বড় আকারে প্রকাশ করা হবে। এতে সকল হিসেব-নিকেশ থাকবে। একই সঙ্গে ডাকসুর সভাপতি, একটি অডিট টিম গঠন করে দিয়েছে। অডিট শেষ হলে, সেই রিপোর্টও তুলে ধরা হবে।’