• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

জাতীয়

আইপিডির সংলাপে বক্তারা মেট্রোরেলের অতিব্যয়ে ঋণঝুঁকি বাড়ছে

প্রকাশ: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৪৯
আপডেট: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৪৯

আইপিডির সংলাপে বক্তারা মেট্রোরেলের অতিব্যয়ে ঋণঝুঁকি বাড়ছে

আইপিডির সংলাপে বক্তারা মেট্রোরেলের অতিব্যয়ে ঋণঝুঁকি বাড়ছে

শীর্ষ খবর ডেস্ক
ছবি : সংগৃহীত

ঢাকার গণপরিবহণ পরিকল্পনায় মেট্রোরেলের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে নির্মাণ ব্যয় ও বৈদেশিক ঋণের ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)। সংস্থাটি মেট্রোরেল প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়নে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।

শুক্রবার ‘মেট্রোরেলের ব্যয় বৃদ্ধি ও পরিকল্পনায় ন্যায্যতা’ শীর্ষক এক অনলাইন সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন। আইপিডির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ঢাকার মতো শহরে গণপরিবহণ হিসাবে মেট্রোরেলের প্রয়োজন রয়েছে। তবে একে সব সমস্যার একমাত্র সমাধান হিসাবে বিবেচনা করা ঠিক নয়। গত এক দশকে ঢাকার বাস ব্যবস্থার কাক্সিক্ষত উন্নয়ন হয়নি। বাস রুট রেশনালাইজেশনও কার্যকর করা যায়নি। অন্যদিকে মেট্রোরেল প্রকল্পগুলোর ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।

সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, ৩১ দশমিক ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন-১-এর ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। এতে কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৩ হাজার ৬৬২ কোটি টাকা। আর ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্নের প্রস্তাবিত ব্যয় ৮৯ হাজার ৮৪৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এ প্রকল্পে কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় প্রায় ৪ হাজার ৪৯২ কোটি টাকা।

তিনি বলেন, মেট্রোরেলের প্রতি অতিরিক্ত আগ্রহ যোগাযোগের অন্য সম্ভাবনাকে বাধাগ্রস্ত করছে। কমলাপুর থেকে বিমানবন্দর হয়ে জয়দেবপুর পর্যন্ত বিদ্যমান রেলপথে দ্রুতগতির কমিউটার ট্রেন চালুর সুযোগ রয়েছে। কুড়িল থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত তুলনামূলক কম খরচে বিআরটি নির্মাণের সম্ভাবনাও যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি।

পরিবহণ পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞ মুনতাসীর মামুন বলেন, বর্তমানে ঢাকার মোট যাত্রার প্রায় ১ শতাংশ মেট্রোরেলের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে। পরিকল্পিত সব মেট্রোরেল বাস্তবায়িত হলেও সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১৫ শতাংশ যাত্রা বহন করা সম্ভব হবে। অবশিষ্ট যাত্রার জন্য কার্যকর বাস ও অন্য পরিবহণব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সভাপতি ড. মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বড় প্রকল্পে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র নিশ্চিতের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সংস্থাটি বাস রুটগুলো ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থায় আনা, বিদ্যমান রেলপথে কমিউটার ট্রেন চালু এবং মেট্রো স্টেশনের সঙ্গে ফুটপাত, সাইকেলপথ ও ফিডার সার্ভিস যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে। নতুন পরিবহণ প্রকল্প অনুমোদনের আগে মেট্রোরেলের পাশাপাশি বিআরটি, এলআরটি ও কমিউটার রেলের লাভ-ক্ষতি স্বাধীনভাবে বিশ্লেষণের দাবিও জানিয়েছে আইপিডি।

আ/আ