শীর্ষ খবর ডেস্ক
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের অস্টিনে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) কর্মকর্তার গুলিতে এক ব্যক্তি আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গতকাল রবিবার এ ঘটনায় স্থানীয় কর্মকর্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, পায়ে হেঁটে ধাওয়া করার সময় ওই ব্যক্তিকে গুলি করা হয়। তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার অবস্থা স্থিতিশীল হলেও গুরুতর।
অস্টিনের মেয়র কার্ক ওয়াটসন বলেন, শহরের রাস্তায় আইসিই কর্মকর্তার গুলিতে একজন আহত হওয়ার ঘটনায় তিনি ‘খুবই ক্ষুব্ধ ও হতাশ’।
তিনি বলেন, অস্টিনে সাম্প্রতিক সময়ে আইসিই-এর অভিযান উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং এর মধ্যেই এ ঘটনা ঘটেছে। তবে আইসিই এখনো গুলির ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
অস্টিন কর্তৃপক্ষও আহত ব্যক্তির নাম, বয়স বা জাতীয়তা জানাতে পারেনি। কী পরিস্থিতিতে এবং কেন গুলি চালানো হয়েছে, সে বিষয়েও এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
মেয়র ওয়াটসন বলেন, ঘটনাটি তদন্তে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে যুক্ত করা উচিত। শুধু আইসিই-এর নিজস্ব তদন্ত যথেষ্ট নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন। কংগ্রেসম্যান গ্রেগ কাসারও ঘটনার তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এর আগে অন্যান্য শহরে আইসিই কর্মকর্তাদের গুলির ঘটনায় সংস্থাটি সব সময় সঠিক তথ্য দেয়নি।
কাসার অস্টিনে আইসিই-এর সাম্প্রতিক তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগের কথাও জানান।
তিনি বলেন, কয়েক সপ্তাহ আগেই তিনি ও অন্যরা আইসিই-এর উপস্থিতি নিয়ে সতর্ক করেছিলেন এবং কোনো ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হওয়ার আগেই অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারের সময় বিপুলসংখ্যক নথিবিহীন অভিবাসীকে দেশ থেকে বহিষ্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ক্ষমতায় আসার পর তার প্রশাসন নির্বাসন প্রক্রিয়া দ্রুত করা এবং সীমান্ত দিয়ে অবৈধ প্রবেশ কমানোর লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট মাসে দেশটিতে প্রায় ৫১ হাজার নথিবিহীন অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়। ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিষয়ক অভিযান বাস্তবায়নে আইসিই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
আইসিই-এর ভারী অস্ত্রে সজ্জিত এবং অনেক সময় মুখোশ পরা কর্মকর্তাদের অভিযান নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনা রয়েছে। বিশেষ করে অভিযান পরিচালনার সময় সহিংসতার অভিযোগ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
এর আগে ২০২৫ সালের মার্চে ২৩ বছর বয়সী রুবেন রে মার্টিনেজকে আইসিই কর্মকর্তারা গুলি করে হত্যা করেন। ‘দ্য টেক্সাস ট্রিবিউন’-এর তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে কোনো মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার এটিই প্রথম জানা ঘটনা।
কাসার মিনিয়াপোলিসে গত জানুয়ারিতে রেনে গুডকে আইসিই কর্মকর্তার গুলি করার ঘটনাটিও উল্লেখ করেন। ওই ঘটনার প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজ আইসিই-এর দেওয়া বিবৃতি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছিল। আইসিই দাবি করেছিল, গুড একজন ফেডারেল এজেন্টকে গাড়ি দিয়ে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।
আ/আ

