• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

রাজনীতি

ফ্যাসিবাদ টিকিয়ে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করেছিল হাসিনা সরকার: রিজভী

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৫:০২
আপডেট: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৫:০২

ফ্যাসিবাদ টিকিয়ে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করেছিল হাসিনা সরকার: রিজভী

নিজস্ব প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

স্বৈরাচারী শাসন ও ফ্যাসিবাদ টিকিয়ে রাখতে তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিজেদের মতো করে সাজিয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) প্রয়াত সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, বিগত সরকারের আমলে ফ্যাসিবাদের আক্রমণ থেকে দেশের কোনো খাতই মুক্ত ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস, খেলার মাঠ থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট—সবকিছুই নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পুলিশ ও র‍্যাবসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে নিজেদের লোকদের নিয়োগ দিয়ে বিরোধী মত দমনে তাদের নির্মমভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।

তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, চারদিকের সব পথ বন্ধ হয়ে গেলেও জাতীয় প্রেস ক্লাবের মতো জায়গায় কিছুটা গণতান্ত্রিক পরিসর অবশিষ্ট ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই জায়গাতেও হস্তক্ষেপের চেষ্টা চালানো হয়। একপর্যায়ে জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকেও তাঁকে নজিরবিহীনভাবে বিপুল সংখ্যক পুলিশ পাঠিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে ইতিহাস প্রমাণ করে, ফ্যাসিবাদ বা একনায়কতন্ত্র সাময়িক টিকে থাকলেও শেষ পর্যন্ত তার পতন অবধারিত।

প্রয়াত সাংবাদিক নেতা রুহুল আমিন গাজীর অবদানের কথা স্মরণ করে রিজভী বলেন, “রুহুল আমিন গাজী ছিলেন এক নির্ভীক মুক্তিযোদ্ধা ও আপসহীন সাংবাদিক। চরম নির্যাতন, চাপ, মামলা ও রিমান্ডের মুখে পড়েও তিনি ফ্যাসিবাদের সঙ্গে কোনো আপস করেননি। নির্যাতন সহ্য করেও তিনি মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে লড়াই করে গেছেন।”

রুহুল আমিন গাজীর সঙ্গে নিজের ব্যক্তিগত স্মৃতির কথা উল্লেখ করে রিজভী আরও বলেন, “৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের আগে তাঁর প্রয়াণ আমাকে ব্যক্তিগতভাবে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বাধীনতার মূল্যবোধে বিশ্বাসী এই সাংবাদিক নেতার জীবন ও সংগ্রাম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি মোহাম্মদ শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলমের সঞ্চালনায় স্মরণসভায় অন্যান্যের মধ্যে বিএফইউজের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাশির জামাল এবং দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আব্দুল হাই শিকদারসহ শীর্ষস্থানীয় সাংবাদিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য দেন।