• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

জাতীয়

বিচ্ছিন্ন ঘটনা দিয়ে বাংলাদেশকে বিতর্কিত করার চেষ্টা অসত্য: নৌপরিবহন মন্ত্রী

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৪:১৬
আপডেট: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৪:১৬

বিচ্ছিন্ন ঘটনা দিয়ে বাংলাদেশকে বিতর্কিত করার চেষ্টা অসত্য: নৌপরিবহন মন্ত্রী

শীর্ষ খবর ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত
বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির ৬৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং বিশ্ব সামুদ্রিক দিবসের উদ্বোধন করছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। ছবি: খবরের কাগজ
দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি নিয়ে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

তিনি বলেন, ‘বহির্বিশ্বে দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা আমাদের বিতর্কিত করেছে, কথাটি সত্য নয়। এটি অসত্য। সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে আমরা যে শাণিত হয়েছি, দায়িত্বশীল হয়েছি এবং আরও দক্ষ ও যোগ্য হয়েছি, বিশ্ব দরবারে সেটার নিদর্শন আমরা রাখতে চাই।’

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রামের জুলদিয়ায় বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির ৬৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং বিশ্ব সামুদ্রিক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত যৌথ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশের মেরিনাররা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অত্যন্ত দায়িত্বশীল, দক্ষ ও যোগ্যতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন জানিয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রী বলেন, ‘বাইরে গিয়ে আমাদের নাবিকেরা যখন চাকরির পর জাহাজে উঠতে চান, সেখানে ভিসাগত কিছু সমস্যা তৈরি হয়। বিষয়টি ইতোমধ্যে আমি জেনেছি এবং তা দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কথাবার্তাও বলেছি। এই প্রতিবন্ধকতাগুলো আমরা যেকোনো মূল্যে দূর করতে চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বের ৮০০ কোটি মানুষের অর্থনৈতিক গতিশীলতা, বাণিজ্য, পণ্য ও ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে মাত্র ১৮ থেকে ২০ লাখ মানুষের পারফরম্যান্সের ওপর। এই সাড়ে ১৮ লাখ সমুদ্রগামী মানুষের প্রচেষ্টায় বিশ্বের প্রায় ৯০ শতাংশ বাণিজ্য পরিচালিত হচ্ছে। ফলে খাতটি কতখানি জরুরি ও সম্ভাবনাময়, তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই এই খাতে নজরদারি, মনোযোগ এবং সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ আরও অনেক বাড়ানো দরকার।’

তিনি বলেন, ‘জীবনের প্রকৃত অবসর হচ্ছে চলে যাওয়া (ডিপার্চার)। এছাড়া জীবনে কোনো অবসর আছে বলে আমি মনে করি না। জীবনচক্রে একটি সময় প্রত্যক্ষভাবে কাজ করতে হয়, আর পরবর্তী সময়ে পরোক্ষভাবে অন্যদের দিয়ে কাজ করাতে হয়। জ্যেষ্ঠ মেরিনাররা প্রত্যক্ষ কাজের অধ্যায় শেষ করেছেন, এখন নতুন প্রজন্মকে নিজেদের জ্ঞান, সাহস ও অভিজ্ঞতা দিয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়ার অধ্যায় বাকি রয়েছে।’

‘শুধু নাবিক তৈরি নয়, গড়ে তুলতে হবে সমন্বিত সামুদ্রিক অর্থনীতি’
অনুষ্ঠানে বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, কেবল সমুদ্রগামী নাবিক তৈরি করে বাংলাদেশের বিশাল সামুদ্রিক সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব নয়। নীল অর্থনীতিকে (ব্লু ইকোনমি) চাঙ্গা করতে হলে জাহাজ পরিচালনা (শিপ ম্যানেজমেন্ট), বন্দর ব্যবস্থাপনা, জাহাজ নির্মাণ ও মেরামত, পুরোনো জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ (শিপ রিসাইক্লিং), সামুদ্রিক বিমা এবং তীরভিত্তিক (শোর-বেইজড) বিভিন্ন সেবা খাতের ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটানো প্রয়োজন।

এবারের বিশ্ব সামুদ্রিক দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে,‘নীতি থেকে বাস্তবায়ন: সামুদ্রিক উৎকর্ষের পথে এগিয়ে যাওয়া’। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নীতি ও প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে নিরাপদ, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব সামুদ্রিক খাত গড়ে তোলাই এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য।

‘মেরিন একাডেমির ৬৪ বছরের গৌরবোজ্জ্বল পথচলা’
একাডেমি সূত্রে জানা গেছে, কর্ণফুলী নদীর মোহনায় জুলদিয়ায় ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি গত ছয় দশক ধরে আন্তর্জাতিক মানের সামুদ্রিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) নির্ধারিত এসটিসিডাব্লিউ মানদণ্ড অনুসরণ করে। এটি যুক্তরাজ্যের মার্চেন্ট নেভি ট্রেনিং বোর্ড, আইএমআরইএসটি এবং নটিক্যাল ইনস্টিটিউট কর্তৃক স্বীকৃত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাপনা সনদে সমৃদ্ধ। বাংলাদেশ ২০০০ সাল থেকে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার ‘হোয়াইট লিস্টে’ সুনামের সঙ্গে অবস্থান করছে। একাডেমি থেকে এ পর্যন্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৫ হাজারের বেশি মেরিনার দেশি-বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে সুনামের সঙ্গে কর্মরত থেকে দেশের অর্থনীতিতে বিশাল অঙ্কের রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। বর্তমানে একাডেমির ১২৫ জনেরও বেশি প্রশিক্ষিত নারী মেরিনার দেশি-বিদেশি জাহাজে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।

স্বাগত বক্তব্যে একাডেমির কমান্ড্যান্ট ক্যাপ্টেন কাজী এবিএম শামীম বলেন, ‘নীতিমালার সঠিক বাস্তবায়ন এবং সম্ভাবনাকে উৎকর্ষে রূপান্তরের মাধ্যমেই বঙ্গোপসাগরের সম্ভাবনাকে বাংলাদেশের টেকসই অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত করা সম্ভব।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. জাকারিয়া।

এ সময় ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, মেরিটাইম খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তি, প্রশিক্ষক, ক্যাডেট ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।