পটুয়াখালী প্রতিনিধি
ছবি : প্রতিনিধি
পটুয়াখালীতে কলেজছাত্র মনিরুল ইসলাম ইমনকে রাতভর নির্যাতন ও এক লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগে করা মামলার প্রধান আসামি ছাত্রদল নেতা সাকিব আল হাসানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুর ১ টার দিকে সদর উপজেলার মোহাম্মদপুর বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন সাকিব। সংবাদ সম্মেলনের পরপরই তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
সাকিব আল হাসান পটুয়াখালী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক ছিলেন। কলেজছাত্র নির্যাতনের অভিযোগ ওঠার পর মঙ্গলবার তাকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ। এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
মামলা সূত্র ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, গত রবিবার রাত ১১টার দিকে পটুয়াখালী সদর উপজেলার বসাক বাজার এলাকা থেকে মনিরুল ইসলাম ইমনকে তুলে নিয়ে মোহাম্মদপুর এলাকায় নেওয়া হয়। পরে সোমবার সকাল ৭টা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে দফায় দফায় তাকে মারধর ও নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ, এ সময় ইমনের Samsung Galaxy S25 Ultra মোবাইল ফোন ও সঙ্গে থাকা টাকা নিয়ে নেওয়া হয়। পরে এক লাখ টাকা দেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
আহত ইমনকে সোমবার বিকেলে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসকরা জানান, তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এ ঘটনায় ইমনের বড় ভাই বাদী হয়ে পটুয়াখালী সদর থানায় মামলা করেন। মামলায় সাকিব আল হাসানসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
তবে সাকিব আল হাসান অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, ইমনকে একটি নারীঘটিত ঘটনায় স্থানীয় লোকজন আটক করে মারধর করছিলেন। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, কলেজছাত্র নির্যাতনের মামলায় সাকিবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।













