স্টাফ করেসপন্ডেট, ময়মনসিংহ :
নগরীর আনন্দমোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতাধীন পুরাতন ৪ টি বিল্ডিংয়ের কাজ ওয়াকশনে স্থানীয় ঠিকাদার এম এস কনস্ট্রাকশনের প্রোপাইটর মীর ওয়াহিদ ও হারুন অর রশীদ টিটো কাজ নেয়ার পর কলেজের ভেতরে পুরাতন দুটি পরিত্যক্ত বিল্ডিং ও একটি হিন্দু হোস্টেলের ছাত্রাবাস ও একটি ডাইনিংয়ের বিল্ডিংয়ের কাজ শুরু করলে ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কাজ বন্ধ করে দিলে ঠিকাদারের নিকট কাজ করার জন্যে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে।
স্থানীয় ঠিকাদার দাবিকৃত চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কাজ বন্ধ করার জন্য হুমকি দেয়। এ ঘটনায় এলাকার স্থানীয় ঠিকাদার জেলা ছাত্রলীগের দাবিকৃত চাঁদার টাকা না দেয়ার অস্বীকার করলে ছাত্রলীগের সাথে এলাকাবাসীর ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। রাতের বেলায় দেশীয় অস্ত্র সজ্জে সজ্জিত হয়ে এলাকাবাসীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকায় লোকজনের সাথে বাকবিতন্ডায় সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবির পালিয়ে গেলেও সভাপতি আল আমিনকে এলাকার লোকজন আটক করে বেধড়ক মারধর করে।

এ বিষয়ে আনন্দমোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের প্রিন্সিপাল মোঃ আমান উল্লাহ বলেন, কলেজের পরিত্যক্ত বিল্ডিং ওয়াকশনের কাজ পান এম এস কনস্ট্রাকশন। কাজ শুরু করার পর আমি জানতে পারি ঠিকাদার ও ছাত্রলীগের সাথে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে তবে এখন পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
সূত্র জানায়, রবিবার দুপুরে পুনরায় ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো: আলআমিন ও সাধারণ সম্পাদক মো: হুমায়ুন কবীর কলেজের ভেতরে গিয়ে আবারো দাবীকৃত চাঁদার টাকার জন্য ঠিকাদার ওয়াহিদ ও টিটোকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে হুমকি দেয়। পরবর্তীতে সন্ধ্যায় পুনরায় কলেজ ক্যাম্পাসে দেশীয় অস্ত্রসজ্জিত হয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়ে শ্রমিকদের মার ধর করে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আল আমিন ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবিরের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় এলাকার ঠিকাদার মীর ওয়াহিদ ও হারুন অর রশীদ টিটোর লোকজনের সাথে বাকবিতন্ডার এক পযার্য়ে ছাত্রলীগ নেতাদের সাথে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনার পর এলাকাবাসী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আল আমিনকে আটক করার পর পুলিশ এসে ছাড়িয়ে নিয়ে যায় ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবির দৌঁড়ে পালিয়ে যায় বলে জানান এম এস কনস্ট্রাকশন প্রোপাইটর মীর ওয়াহিদ।
এসব ঘটনায় জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো: আল আমিন বলেন, এসব কথা ভিত্তিহীন বলে জানিয়ে তিনি জানান, ঠিকাদারের কাছে কোন চাঁদা দাবী করেনি। এলাকার লোকজন বিগত সময়ে কলেজের হোস্টেলের শিক্ষার্থীদের জিস্মী করে রাখতো বহিরাগত লোকজন সব সময় শিক্ষার্থীদের উত্যক্ত করে যেতো এসব ঘটনায় মূলত হোস্টেলের শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছে। কোন চাঁদাবাজির সাথে ছাত্রলীগ জড়িত নয়।
জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক হুমায়ূন কবির জানান, কোন সরকারি কাজে বাঁধা দিতে পারে না ছাত্রলীগ। মূলত বিগত দিনে কলেজের হোস্টেল গুলোতে এলাকার একটি সিন্ডিকেট মাদক ব্যবসায় ব্যবহার করে আসছে। এবং হোস্টেলের শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে অস্ত্রশস্ত্র প্রদর্শন করে মাদক ব্যবসা করার ফলে আমরা বাঁধা দিয়ে আসছি। আমরা ছাত্রলীগ কোন চাঁদাবাজি সাথে সম্পৃক্ত নয়।
এসব ঘটনায় এম এস কনস্ট্রাকশনের ঠিকাদার মীর ওয়াহিদ ও হারুন অর রশীদ টিটো বলেন, কলেজের পরিত্যক্ত বিল্ডিং ওয়াকশনের কাজ পাওয়ার পর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আল আমিন ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবির সরকারি কাজে বাঁধা ও ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে আসছিলো আমরা তাদের চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে পরপর তিনদফা চাঁদা দাবী করে ও কাজ বন্ধ করে দেয়। একপর্যায়ে তারা অস্ত্রসজ্জে সজ্জিত হয়ে এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের গালিগালাজ করলে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় হুমায়ুন পালিয়ে যায় ও আল আমিনকে অস্ত্রসহ আটক করে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।













