জনতার আওয়াজ ডেস্ক
পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম। তিনি দৈনিক যুগান্তরের স্টাফ রিপোর্টার। অভিযুক্ত রাসেল মাহমুদুল আসাদ রাসেল রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।
সোমবার (৮ জুলাই) রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, এদিন নিয়মিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সংবাদ সম্মেলন ডাকেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। পরে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ চার মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সংবাদ সংগ্রহের জন্য সেখানে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৈঠক শেষে বের হওয়ার সময় এক প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন রফিকুল। এ সময় সাংবাদিকের উপর অতর্কিত হামলা করেন রাসেল ও তার সাঙ্গোপাঙ্গ। তারা উপর্যুপরি কিল-ঘুষি দিতে থাকে। এ সময় উপস্থিত কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনার প্রতিবাদ জানান। পরে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা এগিয়ে আসলে রাসেল ও তার ক্যাডার বাহিনী সরে যান।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাহমুদুল আসাদ রাসেল সবার কাছে মাস্তান রাসেল হিসেবে পরিচিত। রাজবাড়ীর নেতা হলেও বসবাস করেন ঢাকায়। সার্বক্ষণিক আওয়ামী লীগ অফিসে অবস্থান করেন। দলের এক সিনিয়র নেতাকে দেন বিশেষ প্রটোকল। ওই নেতার ছত্রছায়ায় গড়ে তুলেছেন ‘বিশেষ প্রটোকল’ বাহিনী। এই বাহিনীর মাধ্যমে চলে মাস্তানি। তার বিরুদ্ধে তদবির বাণিজ্য, দলীয় নেতাকর্মী এবং পেশাদার সাংবাদিক হয়রানির অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
ধানমন্ডির কার্যালয়ে সারাদেশ থেকে আগত নেতাকর্মী, এমনকি দলের অনেক কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গেও দুর্বব্যবহার করেন রাসেল। আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে কর্মরতরাও তার ওপর নানা কারণে ক্ষুব্ধ। সর্বশেষ সোমবার রাসেলের হামলার শিকার হলেন সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম।

