• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

সারাদেশ

পেঁয়াজের দামে হতাশ শরীয়তপুরের চাষিরা, গুনতে হচ্ছে লোকসান

প্রকাশ: শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ৪:১০
আপডেট: শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ৪:১০

9601 14

পেঁয়াজের দামে হতাশ শরীয়তপুরের চাষিরা, গুনতে হচ্ছে লোকসান

শরীয়তপুর প্রতিনিধি
শরীয়তপুরে এ বছর পেঁয়াজের বেশ ভালো আবাদ হয়েছে। তবে চড়া দামে বীজ কিনে কা্ংিখত দামে গোটা পেঁয়াজ বিক্রি করতেন পারছেন না কৃষকেরা। ফলে উৎপাদন খরচ আর বিক্রির মধ্যে বিস্তর ফারাক তৈরি হয়েছে। এতে মোটা অঙ্কের লোকসান গুনতে হচ্ছে চাষিদের। তবে ভরা মৌসুমে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হলে কৃষক কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারবেন বলে মনে করছেন কৃষিকাজের সাথে সংশ্লিষ্টরা
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর শরীয়তপুর সূত্র জানায়, জেলার ৬টি উপজেলার কম-বেশি পেঁয়াজের আবাদ হলেও জাজিরা-নড়িয়ায় আনুপাতিক হারে বেশি জমিতে পিয়াজ আবাদ হয়ে থাকে। চলতি মৌসুমে জেলায় পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৪ হাজার ১২০ হেক্টর জমিতে। এবার আবাদ হয়েছে ৪ হাজার ২৮০ হেক্টর জমিতে। এরমধ্যে মুড়িকাটা বা কন্দ পেয়াজ ৩ হাজার ৮৬০ হেক্টর ও হালি পেয়াজ ৪২০ হেক্টর জমিতে আবাদ করা হয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাঠজুড়ে চলছে মুড়িকাটা পেঁয়াজ তোলার ধুম। মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টিপাত হওয়ায় মোটা টাকা খরচ করে বেশ কয়েকবার পেঁয়াজ বীজ কিনে চাষ করেছেন চাষিরা। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে তাদের । আর ভালো ফলনে কিছুটা হলেও লাভের আশা করেছিলেন কৃষকরা। বাজারে পেঁয়াজের তেমন দাম না পাওয়ায় হতাশ এখন চাষিরা। প্রতি বিঘা জমিতে লোসখান হচ্ছে অন্তত ৪০ হাজার টাকা। দরপতনের কারণে বিক্রির উপযোগী হলেও অনেকেই জমি থেকে তুলছেন না পেঁয়াজ। বর্তমানে অনেক চাষি মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন পিয়াঁজ আবাদ থেকে।
ইড়িয়া উপজেলার নশাসন ইউনিয়নের মীরবহর কান্দি এলাকার কৃষক মজিবর রহমান শেখ। চলতি মৌসুমে একবিঘা জমিতে করেছেন মুড়িকাটা পেয়াজের আবাদ। বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ ও কৃষাণ খরচ নিয়ে
তার উৎপাদন খরচ এসেছে অন্তত ৮০ হাজার টাকা। উৎপাদন ভালো হলেও বাজার মূল্য হিসেবে সেই জমির পেঁয়াজ বিক্রি করতে পারবেন মাত্র ৪৫ হাজার টাকা। এতে মোটা অংকের লোকসানের আশংকা এ চাষির। তাই কিছু জমির পেঁয়াজ বিক্রি করেছেন আর কিছু পরিপক্ব হলেও দরপতনের কারনে মাঠ থেকে তুলছেন না এ কৃষক।তিনি বলেন পেঁয়াজের যে দাম তাতে আমাগো লস হইতাছে। এ কারণে পেঁয়াজ উঠানো বন্ধ রাখছি। যদি বাজার পরিস্থিতি ঠিক হয় তাহলে আবার উঠামু। এখন কৃষক যদি লাভ না হই তাহলে খরচ কইরা বদলি কামলা দিয়া কিভাবে পেঁয়াজ চাষ করবো।
জাজিরার টিএন্ডটি এলাকার কৃষক রাজ্জাক পাইক বলেন, এ বছর পেঁয়াজে এমন ধরা খামু বুঝতে পারিনি। অনেক টাকা দিয়া বীজ কিন্না চাষ করছি। এখন বাজারে পেঁয়াজের যে দাম সেই দামে লাগানোর খরচ উঠবো না। এমন হইলো আমরা কৃষক কীভাবে পরিবার নিয়া বাঁচমু।
বাচ্চু শিকদার নামের এক পেয়াজ চাষি বলেন, মুড়িকাটা পেঁয়াজে লস হইছে। তাই কিছু জমিতে নতুন করে হালি পেঁয়াজ আবাদ করছি। সামনের ঈদে যদি পেঁয়াজের দাম ভালো হয় তাহলে কিছুটা ক্ষতি পুষে উঠতে পারমু। তবে সরকারের কাছে একটাই দাবি সামনে যেন অন্য দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি না করে।
শরীয়তপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোস্তফা কামাল হোসেন বলেন, এ বছর উৎপাদন খরচ বাড়ায় মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষে লাভবান হতে পারছেন না কৃষক। তবে ভরা মৌসুমে পেয়াজ আমদানি বন্ধ করলে কৃষক কিছুটা লাভবান হতে পারে। আমরা কৃষকদের সবসময় পরামর্শ দিয়ে থাকি মৌসুমের শুরুতে যদি পেঁয়াজের আবাদ করা যায় তাহলে তারা লাভবান হতে পারবে।


সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ

উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রকেস )
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: sheershakhoboronline@gmail.com


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com