• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

রাজনীতি

কাদের সিদ্দিকী বললেন মেরুদণ্ড দেখান শক্ত রাখার চেষ্টা করব মন্তব্য সিইসির

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৮ জুলাই, ২০২২ ৬:৩০
আপডেট: বৃহস্পতিবার, ২৮ জুলাই, ২০২২ ৬:৩০

কাদের সিদ্দিকী বললেন মেরুদণ্ড দেখান শক্ত রাখার চেষ্টা করব মন্তব্য সিইসির

মেরুদণ্ড বাঁকা বা নতজানু করে নয়, মেরুদণ্ড শক্ত রেখে দায়িত্ব পালনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। তিনি বলেন, তবে কামিয়াব কতটুকু হব, সেটা আল্লাহ পাক জানেন। গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সংলাপে সমাপনী বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সংলাপে বিগত দশম সংসদ নির্বাচনের নানা তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, বীর উত্তম বলেছেন, বিগত নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে আপনারা মেরুদণ্ড দেখাতে পারেন। তাহলে যাই হয়ে থাকুক। মানুষের কাছে আপনারা শ্রদ্ধার, সম্মানের ব্যক্তিত্ব হয়ে থাকবেন। এর আগে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনে ১৫৩ জন বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। ইসির রিপোর্টে দেখেছি ৫০ ভোট কেন্দ্রে কোনো ভোট পড়েনি। ৫ হাজার কেন্দ্রে ১০০/২০০টি ভোট পড়েছে। ভোট কেন্দ্রে বাইরে কুকুর ঘুমিয়েছে। ভোটের ডিউটি যারা করেন তারা ঘুমিয়েছেন, কোনো কোনো কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসারও ঘুমিয়েছেন। সেই নির্বাচনে ইসি বলেছে ৪০ ভাগ ভোট পড়েছে। তবে (নির্বাচিত) ১৪৭ জন যদি ৪০ ভাগ ভোট পায়, তবে ভোট হয়েছে ২০ ভাগ। ২০ ভোগ ভোট নিয়ে তো একটা নির্বাচনকে সঠিক নির্বাচন হিসেবে স্বীকার করা যায় না। এসব বিষয় উল্লেখ করে তিনি ইসির উদ্দেশে বলেন, আপনারা যদি এটাকে মাথায় রেখে, আপনাদের মেরুদণ্ড দেখাতে পারেন। তাহলে যাই হয়ে থাকুক। মানুষের কাছে আপনারা শ্রদ্ধার, সম্মানের ব্যক্তিত্ব হয়ে থাকবেন।  ইসির উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা ছেড়ে দিতে চেয়েছেন, যদি না পারেন। দিতে পারেন। কিন্তু সত্যি যদি আপনার সঙ্গে বিরোধ হয়। নীতির সঙ্গে বিরোধ হয়, ন্যায়ের সঙ্গে বিরোধ হয়। সেই সময় আপনি পদত্যাগ করলেও মানুষের মাথার মণি হয়ে থাকবেন। তবে দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে পুরুষের লক্ষণ। মানুষের লক্ষণ।  চলমান রাজনৈতিক সংলাপে সময় নির্ধারণ নিয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) নিরপেক্ষতা হারিয়েছে বলে মনে করেন কাদের সিদ্দিকী। সংলাপে তিনি ইভিএম নিয়ে পুরস্কার ঘোষণা, সিইসির তলোয়ার-রাইফেল প্রসঙ্গ এবং কুমিল্লা সিটির বিষয় সিইসিকে নানা প্রশ্ন করেন। এ সময় সিইসি সেই সব প্রশ্নে ব্যাখ্যাও দেন। কাদের সিদ্দিকী বলেন, আমরা আপনাদের মতামত শুনিনি কিন্তু পত্রিকায় দেখেছি। সংলাপে বিএনপির জন্য দুই ঘণ্টা, আওয়ামী লীগের জন্য দুই ঘণ্টা বরাদ্দ, বাকিদের জন্য এক ঘণ্টা। এটা আপনাদের সিদ্ধান্ত কি-না? যদি আপনাদের সিদ্ধান্ত হয়ে থাকে, তবে আপনারা আপনাদের নিরপেক্ষতা হারিয়েছেন। নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণের বিষয়ে কাদের সিদ্দিকী বলেন, আমরা বলব, এখানে বিএনপি কিছু না, আওয়ামী লীগও কিছু না, এখানে সবকিছু হচ্ছে জনগণ এবং দেশের ভোটার। আপনাদের নিশ্চিত করতে হবে- ভোট যেন দেয় তা নিশ্চিত করতে হবে, ভোটাররা উৎসাহ পায় সে ব্যবস্থাও করতে হবে। বাধা অনেক আছে, প্রতিবন্ধকতা অনেক আছে। কিন্তু ঘোরতর কঠিন কোনো কাজ মোটেই নয়।  গত নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন সমস্ত দেশকে ডুবিয়েছে দাবি করে কাদের সিদ্দিকী বলেন, তার আগের জনও তাই করেছেন। তার আগের জনও কম বেশি তাই করেছেন। আমার দেখা মতে, আবু হেনার মতো শক্তিশালী মেরুদণ্ড ওয়ালা নির্বাচন কমিশনার দ্বিতীয় কেউ হননি। ইভিএমে ভুল ধরিয়ে দিলে ১০ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার ঘোষণা নিয়েও তিনি বলেন, কমিশনের পদে থেকে এই ধরনের বক্তব্য দেওয়া ঠিক নয়। সিইসি তখন বলেন, এটা ভুলে একজন নির্বাচন কমিশনার দিয়ে ফেলেছেন। আমার মুখ থেকে এমন শব্দ আমি উচ্চারণও করিনি। এটা বিভ্রান্তি। কাদের সিদ্দিকী আরও বলেন, অনেকে বলেন তত্ত্বাবধায়ক ছাড়া নির্বাচন করব না। নির্বাচনের সময় সরকার কে? আমাকে যদি জিজ্ঞেস করেন আমি বলব তফসিল ঘোষণা করার পর সরকার কে? যিনি প্রধানমন্ত্রী তিনি প্রধানমন্ত্রী, যিনি রাষ্ট্রপতি তিনি রাষ্ট্রপতি। কিন্তু আমি মনে করি নির্বাচন কমিশনই রাষ্ট্রপতি, নির্বাচন কমিশনই প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু আপনি সেই ক্ষমতার ব্যবহার করতে পারবেন, কি পারবেন না, সেটা মেরুদণ্ডের ব্যাপার। প্রধানমন্ত্রী তার গেটের বাইরে বের হবেন কি হবেন না, সেটাও ইসিকে জিজ্ঞেস করতে হবে। এদিকে নির্বাচনকালীন সরকার এবং প্রশাসন দল নিরপেক্ষ না হলে কোনোভাবেই নির্বাচন সুষ্ঠু করা সম্ভব নয় বলে মনে করে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ। দলটি লিখিত বক্তব্যে বলা হয়- আগের কমিশনগুলো সংলাপে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দল এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে নিদারুণভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইসির অসহায়ত্ব এবং বিভিন্ন অসংলগ্ন কথাবার্তা দেশের মানুষকে করেছে বিস্মিত। ইভিএম নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অতি উৎসাহ এবং অকল্পনীয় পুরস্কারের ঘোষণা ক্ষমতাসীনদের তল্পিবাহক হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।  এদিকে সিইসি বলেছেন, সময় পাল্টে গেছে, এটাই বোধহয় বাস্তবতা। তরুণ প্রজন্মকে রাজনীতির দায়িত্ব নিতে হবে। রাজনীতি থেকে গণতন্ত্রের বিস্তৃত হয়েছে। গণতন্ত্র নির্বাচনের জন্ম দিয়েছে। নির্বাচন পদ্ধতির জন্ম দিয়েছে। তাই আমি মনে করি যারা রাজনৈতিক নেতা দেশের, আপনাদের যে দায়িত্ব আপনাদের প্রতি আমাদের যে আস্থা, সম্মান এবং ভরসা, সেটা আমরা অক্ষুণ্ন রাখতে চাই।  সংলাপের নবম দিনে ৩২টি দলের সঙ্গে সংলাপ হওয়ার কথা থাকলেও সর্বশেষ বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ‘না’ করে দেওয়ায় গতকাল পর্যন্ত সংলাপে অংশ নেওয়া দলের সংখ্যা দাঁড়াবে ২৩টি। সংলাপ বর্জন করেছে ৮টি রাজনৈতিক দল।  গতকাল সকালে জাকের পার্টির সঙ্গে সংলাপ করে নির্বাচন কমিশন। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএমে) নিয়ে বাহিরে অনেক কথা চাউর আছে যে হ্যাকিং হতে পারে উল্লেখ করে সিইসি বলেন, এটাতে ভোট কারচুপি হতে পারে। কিন্তু আমরা এ পর্যন্ত সুস্পষ্ট কোনো প্রমাণ পাইনি। ইভিএমের হ্যাকিংটা কোনোভাবেই সম্ভব না বলে মনে করেন তিনি। ইভিএম নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেইনি বলেও জানান। নির্বাচনের মাঠে নিয়ন্ত্রণ করতে হলে সব দলের ওখানে থাকতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, সবাই যদি থাকেন আপনারা, তাহলে ওখানে (নির্বাচনে) একটা ভারসাম্য সৃষ্টি হয়। তখন আমাদের কাজ কমে যায়, আপনারা আপনারাই কিন্তু ভারসাম্য সৃষ্টি করেন। আমার এই আবেদন থাকবে। সংলাপে জাকের পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব শামীম হায়দারের নেতৃত্বে নয় সদস্যের প্রতিনিধি দল, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছাড়াও চার নির্বাচন কমিশনার ও ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নিয়েছেন।


সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ

উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রকেস )
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: sheershakhoboronline@gmail.com


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com