সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির ও উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতিসহ দু’জনকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার দুপুরে জামালগঞ্জ থানা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা আমিরের বাসায় বৈঠক চলাকালে তাদের আটক করে।
আটককৃতরা হলেন উপজেলা জামায়াতের আমির মো: হাবিবুর রহমান। তিনি উপজেলার ভীমখালি ইউনিয়নের কামলাবাজ গ্রামের মৃত আকবর উল্ল্যার ছেলে। উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি শেখ মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম। তিনি উপজেলার সাচনা বাজার ইউনিয়নের সাচনা বাজার গ্রামের মৃত শেখ মোহাম্মদ মুজিবুর রহমানের ছেলে।
জানা যায়, এদিন দুপুরে জামালগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মোহাম্মদ আব্দুন নাসেরের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা জামায়াতের আমির হাবিবুর রহমানের কামলাবাজ গ্রামের নিজ বাড়িতে গোপন মিটিং চলাকালে তাদের এই দু’জনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
এ সময় পুলিশ আমিরের বাড়ি থেকে জিহাদী বইসহ লিফলেট উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় জামালগঞ্জ থানার এসআই মো: জুলহাস উপজেলা জামায়াতের আমির মো: হাবিবুর রহমানকে প্রধান আসামি করে জামালগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মামলায় অন্য আসামিরা হলেন আটককৃত উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি শেখ মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম (৫০), পলাতক শাহপুর গ্রামের মৃত মো: আব্দুল বারীর ছেলে জামায়াত নেতা ফখরুল আলম চৌধুরী (৫০), মানিগাঁও গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে রুমেল (৩৪), ফেনারবাঁক গ্রামের মৃত আব্দুল মোমেনের ছেলে খাইরুল ইসলাম (৫০), তেলিয়া গ্রামের মৃত আজিজুর রহমানের ছেলে মো: আব্দুল মুহিত (৪৫), তেলিয়া নতুনপাড়া গ্রামের আব্দুল কদ্দুছের ছেলে মো: শফিক মিয়া (৩৫), শাহপুর গ্রামের মৃত আব্দুল ওয়াহিদের ছেলে সিরাজুল ইসলাম (৫৫), রাঙ্গামাটিয়া গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে শেরু আলম (৫০), তেলিয়া গ্রামের মৃত রজিম উল্ল্যার ছেলে লিয়াকত আলী (৫৫), শুকদেবপুর গ্রামের মাওলানা আব্দুল আওয়াল (৭০), নোয়াগাঁও গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম (৩০)। এছাড়াও মামলায় আরো ১০ থেকে ১২ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।
জামালগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মোহাম্মদ আব্দুন নাসের বলেন, মামলার আসামিরা সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ঘটাইয়া জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করে, জনসাধারনের জানমালের ক্ষতিসাধন চেষ্টায় পরিকল্পনাসহ দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরো অস্থিতিশীল করে তোলার লক্ষ্যে ষড়যন্ত্র করছিল।
উপজেলা জামায়াতের আমির হাবিবুর রহমানের পারিবারিক সূত্র দাবি করেন, তিনি বাড়িতে অবস্থান করার সময় হঠাৎ পুলিশ এসে তাকে আটক করে নিয়ে যায়। বাড়িতে কোনো বৈঠক হয়নি।
জামায়াত নেতাকে গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সুনামগঞ্জ জেলা জামায়াত নেতৃবৃন্দ।
বিবৃতিতে তারা বলেন, কোনো মামলা ছাড়াই সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে জামায়াতের নেতাদের আটক করা হয়। অবিলম্বে নিরপরাধ জামায়াত নেতাদের নিঃশর্ত মুক্তি ও বাসা বাড়িতে গ্রেফতারের নামে পুলিশী অভিযান বন্ধের দাবিও জানান তারা।
সোমবার এক বিবৃতিতে সুনামগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা তোফায়েল আহমদ খান, নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শামস উদ্দিন ও সেক্রেটারি মোমতাজুল হাসান আবেদ বলেন, ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বৃহত্তর সুনামগঞ্জ জেলায় বন্যার শুরু থেকে জামায়াত বন্যাদুর্গতদের জন্য কাজ করে আসছেরন। প্রত্যন্ত অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে জামায়াত সাধ্যের সবটুক সামর্থ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। এসব জনকল্যাণমূল কাজ ক্ষমতাসীন সরকার পছন্দ করেনি। তাই কোনো কারণ বা মামলা ছাড়াই চারজন জামায়াত নেতাকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রামে জামায়াতের নেতা-কর্মীদের বাসা বাড়িতে পুলিশী অভিযান চালানো হচ্ছে। এতে জনমনে ভীতির সঞ্চার হয়েছে।
তারা বলেন, দেশে নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতিতে জন-জীবন অতিষ্ঠ। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে মহাবিপর্যয় নেমে এসেছে। সারাদেশের ন্যায় জামালগঞ্জ ও ছাতকে জামায়াতের উদ্যোগে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। মিছিল সমাবেশ যেকোনো নাগরিকের মৌলিক অধিকার। মিছিল দেয়ার কারণে কাউকে গ্রেফতার প্রমাণ করে দেশে আইনের শাসন বলে কিছু নেই। অবিলম্বে গ্রেফতারকৃত নেতাকে নিঃশর্ত মুক্তি দান ও হামলা-মামলা, গ্রেফতার ও পুলিশী অভিযানের পথ পরিহার করার জন্য সরকারের প্রতি
জোর দাবি জানান তারা।

