• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

সারাদেশ

মাঝিরঘাটে ৭০০ মিটার নদীগর্ভে বিলীন,খোলা আকাশের নীচে বসবাস করছে মানুষ

প্রকাশ: সোমবার, ৪ আগস্ট, ২০২৫ ২:০০
আপডেট: সোমবার, ৪ আগস্ট, ২০২৫ ২:০০

মাঝিরঘাটে ৭০০ মিটার নদীগর্ভে বিলীন,খোলা আকাশের নীচে বসবাস করছে মানুষ

শরীয়তপুর প্রতিনিধি
শরীয়তপুরের জাজিরার মাঝিরঘাট পাইনপাড়া এলাকায় পদ্মাসেতুর কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডের ৩ কিলোমিটারের মধ্যে গত ৭ জুলাই থেকে প্রায় ১মাস যাবত অব্যাহত ভাবে থেমে থেমে নদী ভাংগনে প্রায় ৭০০ মিটার ডানতীর রক্ষাবাধ পদ্মা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। পাইনপাড়া সহ ৬/৭টি গ্রামের মানুষ আতংকে দিন কাটছে। তারা বাড়ি ঘর সরিয়ে নিচ্ছে। দিনরাত তাদের ঘুম নেই। কি খাবে কোথায় থাকবে এ নিয়ে তাদের ভিতর দুশ্চিন্তা। তারা অনাহারে অর্ধহারে দিন কাটাচ্ছে। তাদের একটাই দাবী কবে হবে স্থায়ী বেড়িবাধ ? জরুরী ব্যবস্থা না নিলে পুরো এলাকা নদীতে বিলীন হয়ে যাবে । পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছেন স্থায়ী বাধ নির্মানের প্রাক্কলন তৈরী কওে অনুমোদনের জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে কাজ শুরু করবো।
ক্ষতিগ্রস্থ আঃ মান্নান মাদবর জানান, ২০১০-১১ অর্থবছরে পদ্মা সেতু থেকে মাঝিরঘাট হয়ে পূর্ব নাওডোবা আলমখার কান্দি জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত ২কিলোমিটার পদ্মাসেতু প্রকল্পের কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড বাঁধ নির্মাণ করে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। এতে ব্যয় হয় ১১০ কোটি টাকা। গত বছরের ৩ নভেম্বর থেকে বাঁধের নাওডোবা ইউনিয়নের মাঝিরঘাট এলাকার ভাংগন শুরু হয়। গত বছর ওই বাঁধের যে ১০০ মিটার অংশ বিলীন হয়েছিল তা ২কোটি ৮৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ওই স্থানে বালু ভর্তি জিওব্যাগ ও সিসি বøক ফেলার কাজ শুরু হয়। এদিকে পদ্মা সেতু প্রকল্পের পূর্ব পাশের নদীর গভীরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় পুরো ২কিলোমিটার রক্ষা বাঁধটি ঝুঁকিপূর্ণ বলে নিশ্চিত করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এদিকে গত ৭ জুলাই শনিবার ভোররাতে সংস্কার করা বাঁধের ১০০ মিটার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। একদিনের মধ্যে বাঁধের ২৫০ মিটার অংশ নদীতে তলিয়ে যায়। ভোরে মাইকে নদী ভাংগনের আওয়াজ শুনে এলাকার লোকজন নদীর পাড়ে চলে আসে। তাৎক্ষনিক ভাবে যে যার মত করে ঘরবাড়ি সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে। খবর পেয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন এলাকা পরিদর্শন করে জিওব্যাগ ফেলে ভাংগন রোধ করার জন্য ঐদিন বিকেল নাগাদ জিও ব্যাগ ফেলানোর কাজ শুরু করে। এ পর্যন্ত ১হাজারের ও বেশি জিওব্যাগ ডাম্পিং করা হয়েছে। কিন্তু ভাংগন থামছেনা। একটু থেমে থেমে আবার ভাংগন শুরু হয়। ভাংগনের তীব্রতা এত বেশী যে মুহুর্তের মধ্যে নদীগর্ভে ঘরবাড়ি জমিজমা বিলীন হয়ে যায়। কোন কিছুই সরিয়ে নেয়ার সময় পাচ্ছেনা নদী তীরের মানুষ। গত ৭ জুলাই থেকে ৩ আগষ্ট পর্যন্ত প্রায় ৭০০ মিটার ডানতীর রকাবাধ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে করে ৩০০ পরিবারের বাড়ি ঘর বিলীন হয়েগেছে। ঐ এলাকার মানুষ খোলা আকাশের নিচে ,অন্যের জমিতে বসবাস করছেন।তাদের মাথা গোজার ঠাই নেই।তাদের একটাই দাবী স্থায়ী বেড়িবাধ কবে হবে ?
মনির হোসেন বলেন,পদ্মা নদী গত নভেম্বর থেকে থেমে আমার পাইন পাড়া ওসিমদ্দিন মাদবর কান্দি এলাকায় ভাংগন দেখা দেয়। রোববার পর্যন্ত প্রায় ৭০০ মিটার বেড়িবাধ ভেঙ্গে আমাদেও ঘরবাড়ি, দোকান পাট , ঘরের মালামাল আসবাবপত্র জামাকাপড় সবকিছুই ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। আমরা সরিয়ে নিতে সময়টুকু পাইনি। মুহুর্তের মধ্যে বিলীন হয়ে গেছে।আমরা একটা স্থায়ী বেড়ি বাধ চাই। শুধু শুনি হবে । কবে হবে বেড়িবাধ?।
নাছিমা বেগম বলেন, নদীতে আমাদের ঘরবাড়ি সবই ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। মাথা গোজার ঠাই নেই।পেটে ভাত নেই। কাজ নেই কর্ম নেই। অনাহারে রাত জেগে থাকি।অন্যেও জমিতে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করি। সরকারের কাছে দাবী আমাদেও পর্নবাসনের ব্যবস্থা করুন।
শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ রাকিবুল ইসলাম বলেন, ভাংগনের শুরুতেই পানি উন্নয়ন বোর্ড ডাম্পিং কাজ শুরু করেছে। এ কাজ চলমান রয়েছে। এ যাবত হাজারের অধিক বস্তা ডাম্পিং করা হয়েছে। স্থায়ী ভাবে রক্ষাবাধ নির্মাণের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলেই কাজ শুরু হবে।


সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ

উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রকেস )
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: sheershakhoboronline@gmail.com


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com