• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

সম্পাদকীয়

নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সক্রিয় হয়ে ওঠা ঠেকাতে হবে

প্রকাশ: বুধবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৫ ২:৫৪
আপডেট: বুধবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৫ ২:৫৪

নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সক্রিয় হয়ে ওঠা ঠেকাতে হবে

আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন বানচালের নানা ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের আলামত স্পষ্ট হয়ে উঠছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। তাদের মতে, এর সাথে জড়িয়ে আছে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র। হঠাৎ করে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও তার দোসরদের তৎপর হয়ে ওঠা থেকে এ ষড়যন্ত্র আরও বিস্তৃত হচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন হওয়া নিয়ে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছেন। দেশ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত বলে বলেছেন। নির্বাচন নিয়ে তাঁর এই দৃঢ় অবস্থানে ষড়যন্ত্রকারিরা আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে, দুই-তিনটি রাজনৈতিক দল সংস্কার, বিচার, তাদের দাবি সম্বলিত জুলাইসনদ ও নির্বাচনে পিআর পদ্ধতি বাস্তবায়ন নিয়ে নির্বাচন হবে না, করব না বলে বক্তব্য দিচ্ছে। এ নিয়ে ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতদ্বৈততা দেখা দিয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিরোধিতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফ্যাসিবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার এই বিরোধ ও মতদ্বৈততার সুযোগে গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ও তার দল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের চাঙা হয়ে উঠার পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। দেশে-বিদেশে তারা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। ঝটিকা মিছিলসহ গোপনে নানা ধরনের বৈঠক করছে। গতকাল এবং গত কয়েকদিনে কলেজ শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারি, বিভিন্ন দাবিতে গার্মেন্ট শ্রমিকদের সড়ক অবরোধে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি ইত্যাদির পেছনে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীর সক্রিয় অংশগ্রহণ ও উসকানি রয়েছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করেন। শুধু তাই নয়, কোথাও কোথাও তারা জুলাই যোদ্ধাদের ওপর হামলাও করছে। গত রবিবার (২৪ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বাংলাদেশ কনস্যুলেটের ভেতরে যখন বৈঠক করছিলেন, তখন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বাইরে বিক্ষোভ করে। এক পর্যায়ে তারা অফিসের প্রবেশ পথের দরজা ভাঙচুর করে। এ ঘটনা নিশ্চিতভাবেই নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের চরম ধৃষ্টতা। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।Local

গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে ইস্পাততুল্য ঐক্য দেখা গিয়েছিল, সেই ঐক্য এখন আর দেখা যাচ্ছে না। তাদের অবস্থান দুই মেরুতে। তাদের মধ্যকার এই বিভেদই যে, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ চেয়েছে, তার সক্রিয় হয়ে উঠা থেকেই তা বোঝা যাচ্ছে। দলটির নেতাকর্মীরা ভেতরে ভেতরে নিজেদের গুছিয়ে নিচ্ছে এবং মাঠে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব হয়ে উঠেছে। এমনকি, গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারি সম্মুখ সারির সমন্বয়কসহ রাজনৈতিক দলগুলোকে দেখে নেয়ার হুমকি দিচ্ছে। নিউইয়র্কে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের বিরুদ্ধে সমাবেশ ও কনস্যুলেটের প্রবেশপথ ভাঙাই তার প্রমাণ। এই প্রবণতা যে, সামনের দিনগুলোতে আরও বৃদ্ধি পাবে, তাতে সন্দেহ নেই। কারণ, আওয়ামী লীগ এমন একটি দল, যে হত্যা, গুমসহ হেন কোনো সন্ত্রাসী কার্যক্রম নেই, যা করতে পারে না। ক্ষমতায় থেকেও এগুলো করেছে, ক্ষমতার বাইরে থেকেও করেছে। দলটির ইতিহাস ও বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী, এসব সন্ত্রাসী কাজে সে অত্যন্ত পারদর্শী। অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দলটির সমর্থক ইউটিউবার এবং সংবাদপত্র ও টেলিভিশনে ঘাপটি মেরা থাকা তার দোসর সাংবাদিকরা নানা কৌশলে এখন আওয়ামী লীগের পক্ষে বয়ান সৃষ্টিতে অধিক তৎপর হয়ে উঠেছে। টেলিভিশন টক শো গুলোতে তার পক্ষের বক্তাদের হাজির করে তাদের দিয়ে ইনিয়ে বিনিয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষে কথা বলাচ্ছে। জাতীয় প্রেসক্লাব, ডিআরইউসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনেও চিহ্নিত আওয়ামী সাংবাদিক ও সমর্থকরা দাপট দেখাতে শুরু করেছে। সম্প্রতি একটি চ্যানেলের টক শোতে বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ফজলুর রহমান গণঅভ্যুত্থানকে কটাক্ষ করে বক্তব্য দিয়ে অযথা বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন। তার এ বক্তব্যের কারণে বিএনপি তাকে শোকজ করেছে। ফজলুর রহমান একসময় আওয়ামী লীগ করতেন এবং গণঅভ্যুত্থানের পর তার বক্তব্য নানাভাবে সমালোচিত হয়ে আসছে। তার এ ধরনের বক্তব্যে যেমন বিএনপির ভাবমর্যাদা ক্ষুণœ হচ্ছে, তেমনি তা ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের পক্ষে যাচ্ছে। দেখা যাচ্ছে, যে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ও তার দলের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে রাজনৈতিক দল ও সমন্বয়করা ঐক্যবদ্ধ হয়ে জীবন দিয়ে লড়াই করে তার পতন ঘটিয়ে বিতাড়িত করেছে, সেই তাদের মধ্যে এখন চরম অনৈক্য দেখা দিয়েছে। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের উত্থান ঠেকানের পরিবর্তে নিজেদের মধ্যে ঝগড়া-ঝাটি শুরু করেছে। তাদের এই অনৈক্যের সুযোগ নিয়ে আওয়ামী লীগ মাঠে নেমেছে। উল্লেখ করা নিস্প্রয়োজন, আওয়ামী লীগের কাছে লুটপাট ও পাচারের হাজার হাজার কোটি টাকা রয়েছে। সে এখন দেশে অস্থিতিশীল ও অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে এ অর্থ ব্যয় করছে। ফ্যাসিবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর অনৈক্যের সুযোগে আওয়ামী লীগ যদি ফিরে আসে, তাহলে তার দায় তাদেরকেই নিতে হবে।

বিদ্যমান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক মতভেদ থাকতে পারে। যেকোনো রাজনৈতিক ইস্যুতে প্রত্যেকে প্রত্যেকের জায়গা থেকে যেমন ঐক্যমত প্রকাশ করতে পারে, তেমনি দ্বিমতও প্রকাশ করতে পারে। দ্বিমত থাকলে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে ঐকমত্যে পৌঁছানোই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। তাদের সম্পর্ক পারস্পরিক শত্রুতায় পরিণত হলে গণতন্ত্রের পথ উত্তরণের পথ কঠিন হয়ে পড়বে। দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তৎপরতা বৃদ্ধি তার ইঙ্গিত দিচ্ছে। যে গণতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদ চিরতরে বিলুপ্ত করার জন্য ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান হয়েছে, তা যদি ফ্যাসিবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার বিভেদের কারণে বিনষ্ট হয়, তবে তা হবে জাতির জন্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের। এটি গণঅভ্যুত্থানে দেড় হাজারের অধিক শহীদ ও ত্রিশ হাজারের অধিক চিরতরে পঙ্গু হয়ে যাওয়া মানুষের সাথে বেঈমানীর শামিল। ফ্যাসিবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে এ বিষয়টি বুঝতে হবে। গণঅভ্যুত্থানকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে বিতর্কিত করা, কিংবা অনৈক্যর মাধ্যমে ব্যর্থতার দিকে ঠেলে দেয়ার অর্থই হচ্ছে, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন করা। ক্রিয়াশীল রাজনৈতিক দলগুলোকে এখন এ প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে, নিজেদের মধ্যকার অনাকাক্সিক্ষত বিরোধের কারণে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ও তার দল আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করতে চায় কিনা? যদি না চায়, তাহলে যেসব ইস্যু নিয়ে তাদের মধ্যকার বিরোধ ও মতভেদ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, তা নিরসনে পারস্পরিক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে সহায়তা করে চিরতরে ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটাতে হবে এবং গণঅভ্যুত্থানের ঐক্যকে ধরে রাখতে হবে।


সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ

উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রকেস )
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: sheershakhoboronline@gmail.com


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com