রংপুর প্রতিনিধি
ছবি : প্রতিনিধি
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলনের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ রেজাউল করীম। ছবি: খবরের কাগজ
ইসলামী আন্দোলনের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ রেজাউল করীম বলেছেন, ‘বিদেশি তাঁবেদারি ও ক্ষমতার লোভে মত্ত গোষ্ঠীকে বাংলার মাটি থেকে উৎখাত করতে হবে।’ তিনি অভিযোগ করেন, জনগণের রক্ত ও আন্দোলনের মূল্যায়ন না করে একটি শ্রেণি ক্ষমতায় যেতে ‘ডাবল পাগল’ হয়ে গেছে।
বুধবার (৩ ডিসেম্বর) বিকেলে রংপুর কালেক্টরেট ঈদগাহ ময়দানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জামায়াতসহ আট দলের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গণভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারিসহ পাঁচ দফা দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সৈয়দ রেজাউল করীম বলেন, ‘রংপুর থেকেই আওয়াজ তুলতে হবে, যেভাবে আবু সাঈদ স্বাধীনতার পরিবেশ তৈরি করেছিলেন, আজ একইভাবে চাঁদাবাজদের ও বিদেশি তাঁবেদারি বাস্তবায়ন করতে চাওয়া শক্তিকে বাংলার জমিন থেকে উৎখাত করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘দেশের মৌলিক দাবি ও আন্দোলনে নিহতদের আত্মত্যাগকে অবমূল্যায়ন করে একশ্রেণি ক্ষমতা ধরে রাখতে ডাবল পাগল হয়ে গেছে।’ তার প্রশ্ন, ‘হাজারও তরুণ কি শুধু একজনকে নামিয়ে আরেকজনকে বসানোর জন্য জীবন দিয়েছেন?’ ফ্যাসিবাদের হাত থেকে দেশকে বাঁচানোর জন্যই তারা আন্দোলন করেছিলেন।
রেজাউল করীম দাবি করেন, দেশজুড়ে মানুষ ইসলামের পক্ষে ভোট দিতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, ‘ক্ষমতা প্রেমিকদের বলব, বারবার ক্ষমতায় গিয়েছিলেন, আমাদের কী উপহার দিয়েছেন? নতুন শাড়িতে পুরান বউ, নতুনভাবে আর আমাদের ধোঁকা দিতে পারবেন না।’
সমাবেশে ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন্দ বলেন, ‘ঐক্য নষ্টের চেষ্টা করলে জনগণ প্রতিরোধ করবে।’ খেলাফত মজলিসের মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী খালেদা জিয়ার বাড়তি নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
জামায়াতের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘দুর্নীতি রোধে সিঙ্গাপুর হতে সময় লাগবে না এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক চাপ বাধা সৃষ্টি করছে।’
সমাপনী বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, ‘গত ৫৪ বছরে কোনো সরকারই জনগণের প্রকৃত কল্যাণে কাজ করেনি।’ তিনি দাবি করেন, গণভোট ছাড়া ন্যায়বিচার ও রাজনৈতিক পরিবেশ বদলানো সম্ভব নয়।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন নেজামে ইসলামী পার্টির নায়েবে আমির মুফতি মোখলেছুর রহমান কাসেমী, সাংগঠনিক সচিব হাফেজ মাওলানা আবু তাহের খান, খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমির মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, সংগঠক মুফতি মাহমুদুল হাসান, খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সালাহউদ্দিন, জাগপার সহসভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলামসহ আট দলের স্থানীয় নেতারা।













