জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সিরাজগঞ্জ-২ (সদর-কামারখন্দ) আসনে গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনসহ বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা। সিরাজগঞ্জ-২ কে জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসন বলে বিবেচনা করা হয়। বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার পর থেকেই পুরোপুরি জমে উঠেছে নির্বাচনি প্রচারণা।
সিরাজগঞ্জ-২ আসনে বরাবরের মতোই এগিয়ে রয়েছে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। অন্যদিকে, অনেক আগে থেকে ভোটের মাঠে ছুটছেন জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম। আগামী নির্বাচনে এ আসনে দীর্ঘদিনের জোটসঙ্গী বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে লড়াই হতে যাচ্ছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে এই আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তিনি একজন হেভিওয়েট প্রার্থী। এ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির তাঁতিবিষয়ক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন ইসলাম খান, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা মোস্তফা জামান ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান। এই আসনে কোনো বিভেদ না থাকলেও প্রার্থীর পক্ষে তেমন প্রচার এখনো চোখে পড়েনি। নিজের নেতা-কর্মীদের নিয়েই এলাকায় কার্যক্রম চালাচ্ছেন ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৩৮৩ জন। যার মধ্যে ২ লাখ ৩৫ হাজার ৫০৩ পুরুষ, ২ লাখ ৩৩ হাজার ৮৭৬ নারী ও চারজন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন।
জানা যায়, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ১৯৮৬ ও ২০০১ সালে এ আসন থেকেই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে আইনি জটিলতায় তিনি নির্বাচন করতে পারেননি। ওই সময় তার স্ত্রী জেলা বিএনপির বর্তমান সভাপতি রুমানা মাহমুদ নির্বাচিত হন। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে ডা. হাবিবে মিল্লাত ও সর্বশেষ ২০২৪ সালের ডামি ভোটেও আওয়ামী লীগের জান্নাত আরা হেনরী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
এর আগে ১৯৯১ সালে বিএনপি থেকে মির্জা মুরাদুজ্জামান ও ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের মোহাম্মদ নাসিম এ আসনে নির্বাচন করে জয়ী হন। গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বদলে গেছে ভোটের মাঠের সমীকরণ। নয়া সমীকরণে আগামী নির্বাচনে এ আসনে মুখোমুখি হচ্ছে বিএনপি-জামায়াত। উভয় দল নিজ নিজ ভোট ব্যাংকের বাইরে সাধারণ ভোটারদের কাছে টানার চেষ্টা করছে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, ‘এ আসনে বিএনপি সবসময় ঐক্যবদ্ধ ছিল। ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করার জন্য এখনো সবাই ঐক্যবদ্ধ আছে।’
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের হাতে অনেকবার নির্যাতিত হয়েছি। রাজনৈতিক মামলায় অনেকবার কারাবরণ করতে হয়েছে। তবুও জাতীয়তাবাদী দলের আদর্শ থেকে একচুলও বিচ্যুত হইনি। স্বৈরাচার সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি। মাঠে কাজ করেছি, কাজ করে যাচ্ছি। বিগত সময়ে জাতীয় নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। ভোটারদের মধ্যে আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। দল থেকে আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। আশা করছি আমার আসনের ভোটাররা আমাকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করবেন। আগামীদিনে বিএনপি সরকার গঠন করলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এলাকায় উন্নয়ন, সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করব।
জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘দলের নেতা-কর্মীরা স্বৈরাচার সরকারের গায়েবি হামলা-মামলার আসামি ছিলেন। গণ-অভ্যুত্থানের পর নেতা-কর্মীদের মনোবল চাঙা হয়েছে। প্রতিটি পাড়া-মহল্লায়
কর্মীসহ দলের কর্মীরা মানুষের কাছে শান্তির বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন। ভোটারদের দ্বারে যাচ্ছি, উঠান বৈঠক করছি ও ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করছি। আমাদের সাংগঠনিক অবস্থা আগের চেয়ে এখন মজবুত। যারা সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি করছেন, জনগণ তাদের বর্জন করবেন। জনগণ দুর্নীতি ও সন্ত্রাসমুক্ত স্বচ্ছ ইমেজের প্রার্থীকেই বিজয়ী করবেন। ভোটাররা আমাকে ভোটে নির্বাচিত করলে এলাকার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সব উন্নয়নমূলক কার্যক্রম করব।
আওয়ামী লীগ সরকারের দোসর হওয়ায় জাপার প্রার্থী প্রকাশ্যে আসতে পারছেন না। আসনটিতে এখনো এনসিপি কোন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মুফতি মুহাম্মদ মুহিবুল্লাহ মাঠে রয়েছেন। তিনি ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন।

