বিশেষ প্রতিনিধি
ঢাকা–৮ আসনের রাজনীতিতে পরিচিত মুখ এবং ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ওসমান হাদির ওপর সশস্ত্র হামলার পর তাঁর শারীরিক অবস্থা ‘ক্রিটিক্যাল’ বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচারে নেওয়া হয়েছে এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
এই ঘটনার পর সারাদেশে নিন্দার ঝড় উঠেছে। পাশাপাশি তাঁর দ্রুত সুস্থতার জন্য দেশবাসীর প্রতি দোয়া কামনা করেছে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি)।
এনডিপির চেয়ারম্যান ও মহাসচিবের দোয়া প্রার্থনা
আজ এক যৌথ বিবৃতিতে এনডিপির চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্তজা এবং মহাসচিব মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন—
ওসমান হাদির অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। তাঁর অস্ত্রোপচার চলছে। দেশবাসীর কাছে আমাদের অনুরোধ—সবাই আল্লাহর কাছে দোয়া করুন, তিনি যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসতে পারেন।”
তারা আরও বলেন—
ওসমান হাদি শুধু একজন রাজনৈতিক কর্মী নন—তিনি গণমানুষের কণ্ঠস্বর, আন্দোলনের সাহসী যোদ্ধা। তাঁকে হারানোর শঙ্কায় আমরা অত্যন্ত উদ্বেগে রয়েছি।”
“দিনের আলোয় হামলা—গভীর ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত”
এনডিপির নেতারা প্রশ্ন তোলেন, নির্বাচনকেন্দ্রিক উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই দিনের আলোয় কিভাবে এমন ভয়াবহ হামলা সংঘটিত হলো?
তারা বলেন—
“প্রকাশ্যে দিনের আলোয় কারা ওসমান হাদির উপর গুলি করলো? নির্বাচন তফসিল ঘোষণার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মাথায় এ হামলা গভীর ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দেয়। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।”
নেতৃবৃন্দ মনে করেন, নির্বাচনকে ঘিরে বিভিন্ন পক্ষের নাশকতামূলক তৎপরতা বেড়েছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বিপন্ন করতে পারে।
দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি
এনডিপি হামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়—
এটি শুধু একজন নেতার ওপর হামলা নয়—এটি নির্বাচনী পরিবেশ অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা। আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি অনুরোধ করছি—দোষীদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করুন।”
হাসপাতালে কড়া নিরাপত্তা, টানা চিকিৎসা সেবা
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হাদির শরীরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আঘাত লাগায় তাঁর অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটাপন্ন। চিকিৎসা সেবায় সিনিয়র সার্জনসহ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল নিয়োজিত রয়েছে।
হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকায় বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা।
রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোড়ন
ঢাকা–৮ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এই হামলা ঘটায় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এ ঘটনা নির্বাচনী পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত ও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।

