• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

মতামত

“মুক্তিযুদ্ধের অপ্রকাশিত ” অব দ্যা রেকর্ড ও শহীদ জিয়া”

প্রকাশ: সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ ৪:১৭
আপডেট: সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ ৪:১৭

“মুক্তিযুদ্ধের অপ্রকাশিত ” অব দ্যা রেকর্ড ও শহীদ জিয়া”

নজরুল ইসলাম চৌধুরী

১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর এক সাগর রক্ত বিসর্জন, লাখো শহীদের আত্মত্যাগ আর শত সহস্র মা বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে আমাদের অর্জিত মহান বিজয়। আজ ২০২৫ সালের ১৬ ই ডিসেম্বর বাংলাদেশের – ৫৪তম মহান বিজয় দিবস। শুরুতেই আমি গভীর শ্রদ্ধা ভরে স্মরন করছি মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কে। শ্রদ্ধা নিবেদন করছি তাঁর বিদেহী আত্মার প্রতি। শ্রদ্ধা নিবেদন করছি মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এম এ জি ওসমানী সহ জেড ফোর্স, কে ফোর্স,এস ফোর্স এর সকল সেক্টর কমান্ডারের বীর কৃতি অধীনায়ক সহ সকল প্রয়াত রণবীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিদেহী আত্মার প্রতি। মহান রাব্বুল আল্ আমিনের দরবারে কায়মনোবাক্যে আমি সকল শহীদের বিদেহী আত্মার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধার সাথে মাগফেরাত কামনা করছি। শ্রদ্ধাভরে স্সরণ করছি লাখো লাখো সস্ভ্রম হারা সকল মা বোনদের। আমৃত্যু আমরা তাঁদেরকে শ্রদ্ধাভরে হৃদয়ে গভীরে জাগ্রত রাখব ইনশাহআল্লাহ্।


সম্মানিত পাঠক বৃন্দ, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস আমদের কারো অজানা নয়। বর্তমানে যাদের পঞ্চাশের কোটায় তাদের অনেকেরই অজনা। আমি নিশ্চিত ইতিহাস থেকে তারা অনেক কিছুই জানতে পেরেছেন। অপ্রিয় হরেও সত্য যে, দেশের বেসামাল ও আত্মকেন্দ্রিক দলান্ধ মানসিকতার ফলে প্রজন্মের পর প্রজন্মদের কে সত্যিকারের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানাতে আমরা তথা ইতিহাসবীদগন কতখানি তিঁনাদের ইমানী দায়িত্ব পালন করেছি কিম্বা করেছেন ??
পাঠক বৃন্দ আজ আমি আমার লেখায় তদকালিন মহান স্বাধীনতা ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠান শুরুতেই বংগভবন থেকে একটি বিশেষ টেলিফোনের কারনে সেই সাক্ষাৎকারটি না দিতে বাধ্য হয়ে বলেছিলেন — স্যরি, আপনাদের ইন্টারভিউ দিতে অপারকতার জন্য আমায় ক্ষমা করবেন। সাক্ষাৎকার গ্রহনকারী প্রশ্ন করছিলেন, স্যার কারনটা কি জানকে পারি? উত্তরে জিয়াউর রহমান হৃদয়ের গভীরে রক্ষ খরনের অনুভূতি নিয়ে বলেছিলেন — ” ইট্স অব দ্যা রেকর্ড “। আজ আমি সেই সেই অব দ্যা রেকর্ড বিষযটি নিয়ে আমার কিছু কথা লিখনির মাধ্যমে তুলে ধরার মনস্থ করেছি ——–
১৯৭২ সালে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সোনালী ফসল ১৬ই ডিসেম্বর মহান বিজয় অর্জনের কয়েক মাস পার হতে না হতেই ভারত” কলিকাতার” আনন্দবাজার” পত্রিকায় একটি সুদৃশ্য সংকলন গ্রন্থ প্রকাশ করা হয়েছিল। যার শিরোনাম ছিল ” বাংলা নামে দেশ “। সেই গ্রন্থটি একটি নিপীড়িত জাতির মুক্তির সংগ্রামের প্রতি ক্ষণ ও মুহুর্তের অন্তরজ্ঞা দলিল। যে দলিলে ছিল বহু বিতর্কিত এবং অজ্ঞাত তথ্যের সমৃদ্ধ ———————–
“বাংলা নামেে দেশ ” গ্রন্থের পরিচিতি পত্রে অনেক কথার ভেতরে ছিল যে সব কথা। কিন্তু ” আনন্দবাজারী” আলখেল্লায় মোড়ানো ঐ গ্রন্থের অনেক কথাই ছিল অপুর্ন এবং অসত্য এমন কি ডাহা মিথ্যা। প্রিয় পাঠক বৃন্দ , আপনারা সেই বইটি সংগ্রহ করে পড়েন, তবেই অনুধাবণ করতে পারবেন যে, স্বাধীনতা সংগ্রামে বাংলাদেশ মুক্তিবাহিনীর ভুমিকা ছিল একেবারেই গৌন আর ভারতীয় সেনাদের ভুমিকা ছিল মুখ্য। যা সেই গ্রন্থে ছাপা হয়েছিল। অতি দুঃখের বিষয় ছিল “আনন্তবাজার” পত্রিকায় সেই বইটিতে মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে হেয় প্রতিপন্ন এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ভুমিকাকে অর্থহীন তোলাই ছিল মুখ্য উদ্দেশ্য।
ঐ সময়তে আমাদের সরকার প্রধান, রাষ্ট্র প্রধান কিম্বা পররাষ্ট্র দপ্তরের সবাই ছিল নিশ্চুপ। ঠিক যেন মুখে তালা দেয়ার মত। ঐ নিশ্চুপতার রহস্য যদিও অস্পষ্ট ছিল কালক্রমে তা জাতির নিকট স্পষ্ট। তবে ” আনন্দ – -বাজারী” গ্রন্থটি প্রকাশের পর পর দেশের তদকালিন —-” দৈনিক বাংলা ” পত্রিকার কতৃপক্ষ একটি বলিষ্ঠ এবং মহৎ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সেই সাহসী সিদ্ধান্তটি ছিল — ” বাংলা নামের দেশ ” প্রকাশিত গ্রন্থের যথার্থ জবাব হিসাবে প্রকাশ করবে একটি প্রতিবেদন গুচ্ছ। যাতে থাকবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সকল রণবীরদের রণনীতি , রণকৌশল সহ বিবিধ অপারেশনের সঠিক চিত্র আর মহান মুক্তিযুদ্ধের যথাযথ বিবরন আর সত্যিকারের ইতিহাস। তারই প্রেক্ষিতে ১৯৭২ সালের পহেলা ডিসেম্বর থেকে ১৬ই ডিসেম্বর পর্যন্ত পর্তিদিন দৈনিক বাংলা পত্রিকার শেষ পৃষ্ঠায় ধারাবাহিক ভাবে ছাপা হবে। পুরো পাতা জুড়েই থাকার সিদ্ধান্ত ছিল সেই প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনটিতে থাকার কথাছিল মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানী সহ জেড ফোর্স , কে ফোর্স, এস ফোর্সের তিন অধিনায়ক সহ মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন সেক্টর কমান্ডার ও বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধাদের সাক্ষাৎকার।
তারই ধারাবাহিকতায় জেনারেল এম এ জি ওসমানী এবং জেড ফোর্স, কে ফোর্স এবং এস ফোর্সের তিনজন অধীনায়কদের সাক্ষাৎকার গ্রহন করে স্টোরি তৈরী করার গুরুদায়িত্ব পেয়েছিলেন তদকালিন প্রক্ষাত সাংবাদিক ( প্রয়াত) জনাব হেদায়েত হোসাইন মোরশেদ।
১৯৭২ সালের নভেম্বর মাসের প্রথম সাপ্তাহে প্রখ্যাত লেখক জনাব হেদায়েত হোসাইন মোরশেদ তাঁর এসাইন্টমেন্টের কাজ শুরু করেছিলেন তদকালিন সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী দৈনিক বাংলা কর্তৃপক্ষ সকল প্রতিবেদন – প্রধানমন্ত্রী এভং প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়ের কাছ থেকে ক্লিয়ারেন্স করিযে নিয়েছিলেন বাংলাদেশ তথ্য মন্ত্রনালয় এবং আইএসপিআার এর মাধ্যমে।
আনন্দবাজার পত্রিকার কর্তৃপক্ষের ” বাংলা নামে দেশ” সংকলন গ্রন্থের যথার্থ জবাব দেয়ার প্রক্রিয়া অনুসারে প্রথমে জনাব হেদায়েত হোসাইন মোরশেদ ১৯৭২ সালের নভেম্বর মাসের শুরুতেই জেনারেল এম এ জি ওসমানী সহ এস – ফোর্স , কে – ফোর্স এর অধিনায়ক এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের রণাংগনের বিভিন্ন সেক্টর কমান্ডার অপরাপর রণবীদ মুক্তিযুদ্ধাদের কাছ থেকে সাক্ষাৎকার গ্রহনের কাজ সস্পন্ন করেছিলের।
নভেম্বর মাসের তৃতীয় সাপ্তাহে শেষের দিকে এক সন্ধায় পুর্বের নির্ধারিত এপয়েন্টমেন্ট অনুযায়ী জনাব হেদায়েত হোসাইন মোরশেদ সাক্ষাৎকার গ্রহন করার জন্য উপস্থিত হয়েছিলেন যুদ্ধকালীন সময়ের “জেড – ফোর্সের” অধিনায়ক, মহান স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের ক্যান্টলমেন্টের বাসায়। উল্লেখ্য যে, জিয়াউর রহমানের ইন্টারভিউ নেয়ার কাজে জনাব হেদায়েত হোসাইন মোরশেদের সাথে সংগী ছিলেন আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ দপ্তরের তদকালিন পরিচালক জনাব জাহিদ হোসেন। ঠিক সেই মুহুর্তে জিয়াউর রহমান সাহেবের বাসববনের ড্রইং রুমে আলাপরত ছিলেন তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু মুক্তিযুদ্ধের আরেক বিখ্যাত সমরনায়ক কে – ফোর্সের অধিনায়ক মরহুম খালেদ মোশাররফ সহ আরো কয়েকজন মেহমান। জনাব খালেদ মোশাররফ উক্ত ইন্টারভিউর বিষয়টি জানতেন বলেই হেদায়েত হোসাইন মোরশেদ সাহেবকে বলেছিলেন ” গেট দ্যা ইন্টারভিউ — ক্যারি অন চ্যাম “। এই কথা বলেই জনাব খালেদ মোশাররফ সহ বাকি মেহমান বৃন্দ জিয়াউর রহমানের বাসা থেকে বিদায় নিয়েছিলেন।জিয়া সাহেবের বাসায় আপ্যায়নের কিছু সময়ের পার হওযার পর জনাব মোশাররফ সাহেব জিয়া সাহেবের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে ইন্টারভিউ শুরু করার প্রস্তুতির পদক্ষেপ অনুসারে ক্যাসেট রেকর্ডারের বাটন টিপদিযে সাক্ষাৎকার ধারনের কাজ শুরু করেছিলেন। মোরশেদ সাহেব হাতের নোট খাতাটি খুলে কলম ধরেছিলের লিপিবদ্ধ করার জন্য। জিয়াউর রহমানের সেই ঐতিহাসিক সাক্ষাৎকার শুরু করার ঠিক পাঁচ মিনিট যেতে না যেতেই বাসার ভিতরে টেলিফোনের রিং জিয়া সাহেবের কানে আসল। তিঁনি স্যরি বলে ফোনে সাড়া দেয়ার জন্য দ্রুত ভিতরে চলে গিয়েছিলেন। ফোনে খুবেই অল্প সময়ে কথা সেরে জিয়াউর রহমান খুব গম্ভীর হয়ে ধীর পায়ে সাক্ষাৎকার বৈঠকে ফিরে এসেছিলেন। হতাশ আর বেদনাভরা কন্ঠে বলেছিলেন , স্যরি ভাই – আমি আর সাক্ষাৎকার দিতে পারবনা। জনাব মোরশেদ ও তাঁর সংগি কোন প্রশ্ন করার আগেই জিয়াউর রহমান বলেছিলেন — অব দ্যা রেকর্ড ” দুরালাপে কঠোর হুশিয়ারি আর নিষেধাজ্ঞার কারনে আমার সাক্ষাৎকার দেয়া মোটেই সম্ভর না। জনাব হেদায়েত হোসাইন মোরশেদ অতি বিনয়ের সাথে জানতে চেযেছিলেন কোথা থেকে ফোনটি এসেছে?
তার উত্তরে আবরো বললেন ” ইট্স অলসো অব দ্যা রেকর্ড ” সাক্ষাৎকার ধারনকারী মোরশেদ সাহেব তাঁর সংগী জনাব জাহিদ হোসেনের চোখে চোখ রেখে বলেছিলেন , কি ভাই জাহিদ , আমার পুর্বের অনুমান কি সঠিক না! তাই তো হলো!! সর্বশেষ এই ধারনার বিপত্তি ঘটার পুর্বাভাষ যদিও জনাব মোরশেদ সাহেব দিয়েছিলেন তাঁর সংগী জাহিদ হোসেন কে। কিন্তু এই পু্র্বাভাষটি জনাব জাহিদ বিন্দুমাত্রও বিশ্বাস করে ছিলেন না। জনাব হেদায়েত হোসাইন মোরশেদ ভাষায় ঐ সময়ে বেশ ক্ষুব্দ আর অস্থির মনে হয়েছিল মহান স্বাধীনতার ঘোষক ” জেড – ফোর্স ” এর অধিনায়ক জিয়াউর রহমান কে। আমতা আমতা করে জিয়াউর রহমান কে মোরশেদ সাহেব বলেছিলেন , স্যরি স্যার, আমাদের ঘোষনা অনুযায়ী দেশ ও জাতি এবং সংবাদ জগতের নিকট আমরা ফ্রট হয়ে যাবো। দেশের পাটকরাও ভাববে আমরা মুখেই শুদু বুলি ছড়িয়েছি। কিন্তু কাজের বেলায় কিছুই করতে পারিনি। আর তা ছাড়া আমাদের অফিস কর্তৃপক্ষ কি আমাদের বিশ্বাস করবে? দয়া করে ব্যাপারটি কি ফোন করে তারা ভাইকে বলবেন? জিয়া সাহেব প্রশ্ন করেছিলেন , আমাকে কি জনাব ফইজুল করিম তারা ভাই কে বলতে হবে? ঠিক আছে আমি আপনার সান্মান রখব বলে ওঠে দাঁড়িয়ে আমাকে ( জনাব হেদায়েত হোসাইন মোরশেদ কে) নিয়ে বাসার ভিতরে প্রবেশ করে ফোন করে জনাব ফউজুল করিম তারা সাহেব কে বলেছিলেন — ” তারা ভাই, আমি কমল বলছি ” – শুরু করেছিলাম, কিন্তু শেষ করা অসম্ভব হয়ে পড়ল। মোরশেদ সাহেব আমার পাশেই দাঁড়িয়ে আছেন। সব কিচু তাঁর কাছ থেকে পরে শুনবেন।রাখি, আল্লাহ্ হাফেজ। দুরালাপে কথা শেষে ড্রইং রুমে ফিরে আসার পর বেশ কিছুক্ষণ জিয়া সাহেব ছিলেন হতভম্ব আর নিরব। তাঁর চোখ মুখে যে উত্তপ্ত আগুনে জ্বলছিল। আমি এবং আমার সংগি উভয়ে ছিলাম নির্বাক নিস্তব্ধ। কিছুক্ষণ পর মোরশেদ সাহেব বলেছেন , স্যরি স্যার, আমরা কি আসব? আচমকা জিয়া সাহেব দাঁড়িয়ে আপদমস্তকে অনুতপ্ত সুরে বলেছিলেন , আবার দেখা হবে। জিয়াউর রহমান তাঁর বাসার গার্ড হাউজ পর্যন্ত এসে মোরশেদ সাহেব ও জাহিদ হাসান সাহেব কে এগিয়ে দিয়েছিলেন। বিদায় লগ্নে জিয়া সাহেব আবারো বলেছিলেন , ওকে, ইটস পার্ট অব দ্যা লাইফ। ফরগেট ইট। আল্লাহ্ হাফেজ।
সন্মানিত পাঠকবর্গ – প্রখ্যাত সাংবাদিক, লেখক, গবেষক মরহুম হেদায়েত হোসাইন মোরশেদ সাহেবের লিখা বই — ” একজন জিযা ” গ্রন্থ থেকে আমি উল্লেখিত বিষযটি তুলে ধরেছি মাত্র। জনাব মোরশেদ তাঁর লেখায় আরো উল্লেখ করেছিলেন , জিয়াউর রহমান বাসার গেট থেকে যখন আমাদের বিদায় দিচ্ছিলেন তখন আমার মনে হচ্ছিল যে, তাঁর ভেজা চোখ? নাকি শানিত?? তিঁনি আমদের কাছে লজ্জা পেয়েছিলেন??? নাকি চোয়াল কষে তাঁর ক্রোধ লুকিয়ে রেখেছিলেন???? সন্ধাকালিন সময়ে আবছা আলোর কারনে কিছুই ঠাহর করতে পারছিলাম না।
সেই ‘৭২ সালের কলকাতার ” আনন্দবাজার ” পত্রিকা কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত সংকলন গ্রন্থটি প্রকাশ যেভাবে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস কে কলংকিত আর খাটো করেছিল তার যথাযথ উত্তর কিন্তু আমরা ৫৪ বছর অবধি দিতে ব্যার্থ হয়েছি। বড়ই পরিতাপের বিষয় যে একটি মহল মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নামের খই ফুটিয়ে পরাশক্তিকে খুশি করে নিজের দেশের মহান স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব কে জলাঞ্জলি দিয়ে শুধুমাত্র নিজস্ব ফায়দা লুটার জন্য মরিয়া হয়ে আজো বিদ্ধমান। আরো পরিতাপের বিষয় যে, দেশের কতিপয় বুদ্ধিজীবী নামের ভারতের সেবাদাস দাসী দেশের সু মহান স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব কে ক্ষিণ করার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। না বললেই নয় – এমন ঘৃনিত এবং ন্যাক্করজনক বিষয়টি জাতিগত ভাবে বিন্দুমাত্রও আমলে আনা হচ্ছে না। বলাবাহুল্য, ৭২ পরবর্তী সময় থেকে দেশের কতিপয় রাজনৈতিক মহলে, বুদ্ধিজীবীর পাশাপাশি সাংবাদিক মহলের একটি অংশ ও সংবাদ জগতের কতিপয় মাধ্যম গুলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কে পুঁজি করে আজো পরাশক্তি তথা ভারতের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে নিজ দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব কে কলংকিত করে অনৈতিক ফায়দা লুটে পুটে চলেছে।
কিশের দুবর্লতার কারনে মহান স্বাধীনতা ও স্বার্বভৌমত্ব কলংকিত করা সহ মহান মুক্তিযুদ্ধের এবং মুক্তিযোদ্ধের ইতিহাস গৌন করে ভারত সরকারের মদদে সেই আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেন ” বাংলা নামে দেশ” গ্রন্থের যথাযথ উত্তর দানে দৈনিক বাংলা প্রত্রিকা কর্তৃক ধারাবাহিক প্রতিবেদন টি প্রকাশিত হলো না?
” মুক্তিযুদ্ধের ” জেড ফোর্স ” এর অধিনায়ক জিয়াউর রহমানের সেই বিশেষ সাক্ষাৎকারটি কোন ক্ষমতাধর ব্যাক্তি বা মহলের প্রভাবে ধারন করা হলো না তা আজো কি ” অব দ্যা রেকর্ড ” হয়ে থাকবে? আর কত কাল সেই ” অব দ্যা রেকর্ড ” রয়ে যাবে?
হে মহান বিজয় দিবস তুমি চির অমর হও।
লেখক ঃ – নজরুল ইসলাম চৌধুরী।
সাবেক সভাপতি ফেনী জেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।