• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

জাতীয়

শহীদ হাদির জানাজায় জনস্রোতের খবর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে

প্রকাশ: রবিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০৪
আপডেট: রবিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০৪

শহীদ হাদির জানাজায় জনস্রোতের খবর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকায় লাখো মানুষের উপস্থিতিতে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জনসমুদ্রের মতো ভিড়, শোকস্তব্ধ পরিবেশ এবং নীরবতার এক হৃদয়স্পর্শী মিশ্রণ এই জানাজাকে বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি বিশেষ অধ্যায়ে পরিণত করেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমও এ খবর গুরুত্বসহকারে তুলে ধরেছে।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শনিবার লাখো মানুষ শহীদ যুবনেতা ওসমান হাদির জানাজায় অংশ নেয়, যার মধ্যে ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। জানাজা শেষে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে তাকে দাফন করা হয়েছে, যা তার বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার স্বীকৃতি হিসাবে প্রকাশিত হয়েছে।

তুর্কি বার্তা সংস্থা টিআটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, “৩২ বছর বয়সী শরীফ ওসমান হাদি দেশের গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়গুলির স্পষ্ট সমালোচক ছিলেন এবং ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।” এই প্রতিবেদনে জানাজার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক প্রস্তুতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

আরেক তুর্কি সংবাদমাধ্যম আনাদোলু জানিয়েছে, শনিবারের জানাজায় অসংখ্য মানুষের উপস্থিতি ছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস, সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও রাজনৈতিক দলের নেতা জানাজায় অংশ নিয়েছিলেন।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হাদির জানাজায় বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। ২০২৪ সালের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের অন্যতম নেতা ওসমান হাদি রাষ্ট্রীয় শোকের মধ্য দিয়ে সমাহিত হন।

পাকিস্তানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ডন উল্লেখ করেছে, রাজধানী ঢাকায় শহীদ যুবনেতার শেষকৃত্যের সময় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। গত বছরের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহের এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হাদি ঢাকায় মুখোশধারী সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুরুতর আহত হন। ছয় দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর ১৮ ডিসেম্বর রাতে সিঙ্গাপুরে তিনি মারা যান।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, হাদির জানাজায় অংশ নেওয়া লাখো মানুষ বলেছে, “তার রক্ত বৃথা যাবে না।” ভোর থেকেই মানুষ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের দিকে ছুটে আসে, দ্রুত সংসদ ভবনের বাইরের এলাকা ভরে যায়। অনেকে হাতে জাতীয় পতাকা বহন করছিলেন, কেউ কেউ হাদির হত্যার জবাবদিহিতা দাবি করে স্লোগান দেন।

কলকাতা ভিত্তিক আনন্দবাজার প্রতিবেদনে জানিয়েছে, জানাজার সময় কিছু লোক জোর করে সংসদ ভবনে প্রবেশের চেষ্টা করেন, কিন্তু সেনা সদস্যরা তাদের বাধা দেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, টাইমস অব ইন্ডিয়াসসহ অন্যান্য মাধ্যমও একই ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিন ১২ ডিসেম্বর ঢাকার বিজয়নগর বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা দুই সন্ত্রাসীর গুলিতে গুরুতর আহত হন হাদি। তিনি প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন, পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে প্রেরিত হাদির মৃত্যু ১৮ ডিসেম্বর রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে ঘটে।

১৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হাদির মরদেহ আনা হয় এবং সরাসরি জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের হিমঘরে নেওয়া হয়। পরদিন মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে নেওয়া হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের পাশে দাফন করা হয়।

শহীদ ওসমান হাদির জানাজা এবং দাফন অনুষ্ঠানের বিশাল উপস্থিতি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।