জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
রবিবার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরে জাতীয় দৈনিক, ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও অনলাইন নিউজ পোর্টালের সম্পাদক ও প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমদ দলের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চান।
তিনি বলেন, ‘‘যে অপশক্তির উত্থান সবাই এখানে আজকে বলেছেন, মতি ভাই (মতিউর রহমান) প্রকাশ্যে বলেছেন, সেই অপশক্তির উত্থান আমরা লক্ষ্য করেছি। বিশেষ করে ৫ আগস্টের পরবর্তী সময় থেকে এখন পর্যন্ত। সেটার একটা স্বরূপ, চেহারা এবং কর্ম গত কয়েকদিন ধরে প্রকাশিত হয়েছে।’’
সালাহ উদ্দিন আহমদ আরও বলেন, ‘‘জাতীয় ঐক্যকে ধরে রাখতে হবে এবং জাতীয় স্বার্থে আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে। এ ক্ষেত্রে আপনাদের সংবাদপত্র এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় ঐক্য রক্ষায় আপনাদের সহযোগিতা খুবই প্রয়োজন।’’
তিনি গণমাধ্যমের কাছে গঠনমূলক সমালোচনা ও সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন। পরে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক মওদুদ আলমগীর পাভেল বক্তব্য রাখেন।
মতবিনিময় সভা রেডিসেন ব্লু, ঢাকা ওয়াটার গার্ডেনে অনুষ্ঠিত হয়। এটি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষ্যে আয়োজিত হয়। সভার পর মধ্যাহ্নভোজে সাংবাদিক ও সম্পাদকরা আপ্যায়ন করা হয়।
যায়যায়দিন সম্পাদক শফিক রেহমান বলেন, ‘‘সাংবাদিকদের দায়িত্ব সমালোচনা করা ঠিক আছে, কিন্তু প্রশংসা করাও তাদের দায়িত্ব। আমি নির্দেশ দিয়েছি যে সম্পাদক বিভাগকে খেয়াল রাখতে হবে, এমন ছোটখাটো প্রশংসার বিষয়ও নিয়মিত প্রকাশ করা হোক।’’
তিনি বলেন, ‘‘সাংবাদিকদের দায়িত্ব হলো প্রশংসা এবং সমালোচনা দুটোই করা। সাংবাদিক হওয়া মানে ফ্রি লাইসেন্স পেয়ে সরকারের সমালোচনা করা নয়।’’
প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, ‘‘দেশে রাজনৈতিক শূন্যতা রয়েছে এবং এটি বিপদজনক। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান যদি আরও আগে দেশে আসতেন, হয়ত একটি ভালো রাজনৈতিক অবস্থা তৈরি হতো।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘বিএনপি বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ দল এবং আমাদের জরিপ অনুযায়ী তারা নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়ে বিজয়ী হবেন।’’
মতিউর রহমান সাংবাদিকদের প্রতি বিনয়, সৌজন্য ও গঠনমূলক আচরণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘‘আগামী দিনে বিএনপি ক্ষমতায় এলে মিডিয়া নীতি স্পষ্ট হবে, এবং তা বাস্তবায়িত হলে দেশের গণমাধ্যম সামনে এগিয়ে যাবে।’’
ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, ‘‘বাংলাদেশের ৫৩ বছরের ইতিহাসে কোনো মিডিয়ার অফিস আগুনে পুড়েনি। প্রথম আলো-ডেইলি স্টারের ঘটনা দৃষ্টান্ত। সাংবাদিকদের উচিত সত্যিকার অর্থে প্রশ্ন করা এবং স্বাধীনতা বজায় রাখা।’’
মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘‘দেশ দু’ভাগে বিভক্ত। বিভাজনের মধ্যে কথা বলাও কঠিন। তবে আজকের এই অনুষ্ঠান থেকে আশা জাগছে।’’
সভায় উপস্থিত ছিলেন নোয়াব সভাপতি একে আজাদ, ইনকিলাব সম্পাদক এএমএম বাহাউদ্দিন, যুগান্তর সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, কালের কণ্ঠ সম্পাদক হাসান হাফিজ, বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, ইউএনবির সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, নয়া দিগন্তের নির্বাহী সম্পাদক মাসুদুর রহমান খলিলী, বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক মনজুরুল ইসলাম, চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের পরিচালক জহিরুল আলম, যমুনা টিভির সিইও ফাহিম আহমেদ, বিবিসির জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি কাদির কল্লোল, এটিএন বাংলার পরিচালক বার্তা হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরন, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব কাজী জেসিন, আশরাফ কায়সার, আবদুর নূর তুষার, নিউজ টোয়েন্টিফোরের হেড অফ নিউজ শরীফুল ইসলাম খান প্রমুখ।
বিএনপির নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, সেলিমা রহমান, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, ভাইস চেয়ারম্যান ইসমাইল জবিহ উল্লাহ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জিয়া উদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম মহাসচিব শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, কেন্দ্রীয় নেতা মাহাদী আমীন, রশিদুজ্জামান মিল্লাত, আতিকুর রহমান রুমন, মীর হেলাল, মোর্শেদ হাসান খান, শাম্মী আখতার, শায়রুল কবীর খান, মাহমুদা হাবিবা, ফারজানা শারমিন পুতুল, শামসুদ্দিন দিদার, খালেদা জিয়া-তারেক রহমানের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এটিএম শামসুর ইসলাম প্রমুখ।

