• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

নির্বাচন

গাইবান্ধা -২লাঙ্গল-ধানের শীষের লড়াইয়ে ‘ফ্যাক্টর’ দাঁড়িপাল্লা

প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ১:১০
আপডেট: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ১:১০

গাইবান্ধা -২লাঙ্গল-ধানের শীষের লড়াইয়ে ‘ফ্যাক্টর’ দাঁড়িপাল্লা

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র বিধৌত গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনে নির্বাচনী উত্তাপ এখন তুঙ্গে। চায়ের কাপের ঝড় থেকে শুরু করে গ্রামের মেঠো পথ, সর্বত্রই এখন নির্বাচনী আমেজ। ভোটারদের সমীকরণে উঠে আসছে নানান হিসাব-নিকাশ। বড় দলগুলোর শোডাউন আর বিরামহীন গণসংযোগে সরগরম হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক মাঠ। এবারের নির্বাচনে মূলত ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপি’র প্রার্থী আনিসুজ্জামান খান বাবু, লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির আব্দুর রশিদ সরকার এবং দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল করিমের মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে মনে করছেন সাধারণ ভোটাররা।

​মাঠের লড়াইয়ে বিএনপি’র প্রার্থী আনিসুজ্জামান খান বাবু ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে চষে বেড়াচ্ছেন নির্বাচনী এলাকা। হারানো আসন পুনরুদ্ধার করতে মরিয়া এই নেতা দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে দিন-রাত এক করছেন। যদিও তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে এখনো জয়লাভ করেননি। তবে দলের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতা ও সাংগঠনিক কারিগর হিসেবে তার শক্ত অবস্থান রয়েছে। তিনি জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির গ্রাম সরকার বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয় ভোটারদের মতে, বিএনপি যদি তাদের তৃণমূলের বিশাল ভোটব্যাংক অটুট রাখতে পারে, তবে বাবু শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে শেষ পর্যন্ত লড়াইয়ে থাকবেন। ​অন্যদিকে গাইবান্ধা তথা উত্তরবঙ্গ জাতীয় পার্টির দুর্গ হিসেবে পরিচিত। সেই ধারাবাহিকতায় লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী আব্দুর রশিদ সরকারও ছাড় দিতে নারাজ। এই আসন থেকে ১৯৯১ এবং ১৯৯৬ সালে তিনি দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার ঝুলি তার বেশ ভারী। ২০১৮ সালে তিনি দল পরিবর্তন করে ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করলেও এবার নিজ ঘর লাঙ্গলে ফিরেছেন। এরশাদ আমলের উন্নয়ন আর আঞ্চলিক আবেগকে পুঁজি করে তিনি ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করছেন। তার সমর্থকদের দাবি, গ্রামীণ জনপদে লাঙ্গলের ভিত্তি এখনো অত্যন্ত মজুবত। ​তবে ভোটের মাঠে ‘বড় ফ্যাক্টর’ হিসেবে ভাবা হচ্ছে জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল করিমকে। দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে তিনি সুসংগঠিত প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। সংসদ সদস্য না হলেও আব্দুল করিম ২০১৪ সালে গাইবান্ধা সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। যা তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার প্রমাণ দেয়। দলের সাংগঠনিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে তিনি ভোটের সমীকরণ যেকোনো সময় বদলে দিতে পারেন বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
​বড় তিন দলের বাইরেও ভোটের মাঠে সরব উপস্থিতি রয়েছে বাম ও ইসলামী দলগুলোর।

সিপিবি’র প্রার্থী মিহির ঘোষ (কাস্তে) এবং বাসদ (মার্কসবাদী) প্রার্থী আহসানুল হাবীব সাঈদ (কাঁচি) মেহনতি মানুষ ও সচেতন মহলে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছেন। বিশেষ করে চরাঞ্চলের মানুষের অধিকার আদায়ে তাদের বিগত দিনের আন্দোলন ভোটের মাঠে প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী আব্দুল মাজেদ হাতপাখা প্রতীক নিয়ে ধর্মপ্রাণ ভোটারদের কাছে টানছেন। এ ছাড়া জনতার দলের প্রার্থী শাহেদুর জাহান কলম প্রতীক নিয়ে লড়লেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তার অবস্থান এখনো অনেকটা পেছনে। ​সাধারণ ভোটাররা বলছেন, এবারের লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি। ডিবি রোডের ব্যবসায়ীরা জানান, তারা মূলত শান্তি ও নিরাপত্তা চান। যে প্রার্থী এলাকার উন্নয়ন ও রাস্তাঘাটের সংস্কার করবেন, তাকেই বেছে নেবেন তারা। চরাঞ্চলের মানুষও মুখিয়ে আছেন ভোট দেয়ার জন্য। সবমিলিয়ে গাইবান্ধা-২ আসনে এখন টানটান উত্তেজনা। শেষ হাসি কে হাসবেন, সাবেক এমপি রশিদ সরকার, সাংগঠনিক নেতা বাবু নাকি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল করিমÑ তা দেখার অপেক্ষায় এখন পুরো সদরবাসী।


সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ

উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রকেস )
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: sheershakhoboronline@gmail.com


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com