জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের হাড্ডাহাড্ডি ভোটের লড়াই শুরু। এ নিয়ে চলছে দু’টি দলের মাঠে-ময়দানে গ্রামে-গঞ্জে প্রচার প্রচারণা ও মহিলা সমাবেশসহ বিভিন্ন কার্যক্রম। এ আসনে বর্তমানে বিএনপি-জামায়াত-এনসিপি-জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ ১২জন এমপি প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় মাঠে ময়দানে চলছে, জনসভা, উঠান বৈঠক, গণসংযোগ। সবমিলিয়ে নির্বাচনে নোয়াখালী-৫ এ তুমুল লড়াই শুরু হয়েছে। ধানের শীষে নির্বাচনী প্রচারণার সময় চরএলাহী ইউনিয়নে বিএনপি দু’গ্রুপে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৩০জন আহত হয়েছে। এ আসনে মরহুম ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বার বার নির্বাচিত হয়েছেন। এটি ভিআইপি আসন। ১/১১ সরকারের পর এক সময় সাবেক আওয়ামী সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এ আসনটি দখল করে। মরহুম ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের এ আসনে বিএনপি’র শক্ত ঘাঁটি। এ আসনে মাঠপর্যায়ে সবচেয়ে বেশি শক্তি প্রয়োগ করছে দু’টি রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আলহাজ মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামকে বিএনপি আসনটি উদ্ধারের লক্ষ্যে চূড়ান্তভাবে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। দল দু’টির নেতাকর্মীরা প্রতিদিন উঠান বৈঠক, গণসংযোগ, পথসভা ও মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার মাধ্যমে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন। এদিকে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থীরা প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। ফখরুল ইসলাম গত কয়েকদিনে বিভিন্ন ইউনিয়নের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও মহিলা সমাবেশ, ইমাম ও খতিব সমাবেশ করেছেন। এ সব কর্মসূচিতে ব্যাপক সাড়া মিলেছে বলে দাবি করেছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী বেলায়েত হোসেন গত এক বছর ধরে প্রতিটি ইউনিয়ন ও পাড়া- মহল্লায় গণসংযোগ করছেন বলে দাবি করেছেন জামায়াতের নেতৃবৃন্দ। ইতিমধ্যে গ্রামভিত্তিক ছোট-বড় কর্মী সমাবেশ করেছেন বেলায়েত হোসেন। এ সব কর্মসূচির ফলে কর্মীরা উজ্জীবিত হয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন বলে দলটির দাবি। বসুরহাট পৌরসভা বিএনপি’র সভাপতি ও সম্পাদক আবদুল মতিন লিটন ও আবদুল আল মামুন জানান, নোয়াখালী-৫ আসনে বিএনপি গ্রহণযোগ্যতা সম্পূর্ণ মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামকে সমর্থন করে এবং মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ইনশাআল্লাহ্ বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয় লাভ করবেন। জামায়াতে ইসলামীর পৌরসভার আমীর মাওলানা মোশারফ হোসেন বলেন, আমাকে অজ্ঞাত মোবাইল ফোন থেকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে এবং আমার নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে বলে জানানো হয়। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী বেলায়েত হোসেন কবিরহাট এলাকার একজন সম্মানিত শিক্ষক ও জনবান্ধব একজন ব্যক্তি, তাই আমরা মনে করি, তিনি দাঁড়িপাল্লা মার্কা নিয়ে জয় লাভ করবেন। কর্মসংস্থান বাড়ানোর পাশাপাশি ইসলামী সমাজব্যবস্থা কায়েম হবে। জাতীয় পার্টির প্রার্থী ব্যারিস্টার খাজা তানভীর আহম্মেদ মরহুম ব্যরিস্টার মওদুদ আহমদের কবর জিয়ারতের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছে। বিএনপি’র মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ফখরুল ইসলাম বলেন, এ আসনে জনগণ আমাকে নির্বাচিত করলে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো ও মুছাপুর রেগুলেটর উন্নয়নের কাজ অব্যাহত রাখবো এবং মরহুম ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ সাহেবের অসমাপ্ত উন্নয়নের কাজগুলো সমাপ্ত করব। তিনি আরও বলেন- আমি নির্বাচিত হলে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, সালিশ বাণিজ্য, অবৈধ বালু উত্তোলন, বালুমহালসহ কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করবেন বলে জানান। অপরদিকে তিনি আরও বলেন, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিল্পকারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেবেন। অন্যদিকে বিএনপি’র কিছু কিছু নেতার পরিবার জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট করছেন বলে এলাকাবাসী জানায়। এতে করে ধানের শীষে ভোটের প্রভাব পড়তে পারে। এছাড়া যারা মনোনয়নপত্র সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ছিলেন হাসনা জসীম উদ্দীন মওদুদ, বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতা ফজলুল করিম আবেদ ও মোহাম্মদ কিসমত আলী। এরা প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষে মনোনয়ন চেয়েছিল, মনোনয়ন যাকে দেওয়া হলো, তার পক্ষে ধানের শীষের মাঠে কোন কাজ করছে না। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) মনোনীত প্রার্থী কামাল উদ্দিন পাটওয়ারী বলেন, স্বাধীনতার প্রথম পতাকা উত্তোলন করেছিলেন আ.স.ম রব। তার মতে, প্রস্তাবিত সংসদের উচ্চকক্ষে শ্রমজীবী, কর্মজীবী ও পেশাজীবী শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা গেলে গণতন্ত্র আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী (পাখা মার্কা) আবু নাছের বলেন, নির্বাচিত হলে তিনি ইসলামী শরীয়াহ্ভিত্তিক সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলবেন। জনগণের নৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে একটি আদর্শ সমাজ প্রতিষ্ঠা, এলাকার উন্নয়ন জোরদার এবং কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি। এনসিপি মনোনীত প্রার্থী হুমায়রা নূর এ আসনে প্রার্থী হয়ে প্রথম দফা গণসংযোগের মধ্য দিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছেন। গণসংযোগকালে তিনি উন্নয়ন, সুশাসন ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিতের কথা তুলে ধরেন। এছাড়া উন্নয়নের স্বার্থে তাকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

