ব্যারিস্টার রফিক আহমেদ, লন্ডন
বিষয়টি নিঃসন্দেহে একটি গুরুতর অপরাধের বিচারিক পরিণতি। তবে যখন সেই স্ত্রীর ছোট ছোট সন্তান রয়েছে, তখন এই রায় কেবল একজন ব্যক্তির শাস্তির প্রশ্নে সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি পরিণত হয় একটি পরিবারের, বিশেষ করে শিশুদের জীবনের ওপর গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলা এক কঠিন বাস্তবতায়।
মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করলে, ছোট শিশুদের মায়ের স্নেহ ও যত্ন থেকে বঞ্চিত করা অত্যন্ত নির্মম। একটি শিশুর শারীরিক, মানসিক ও আবেগিক বিকাশে মায়ের ভূমিকা অপরিসীম। মায়ের উপস্থিতি শিশুর নিরাপত্তাবোধ, আত্মবিশ্বাস এবং মানসিক স্থিতিশীলতা গড়ে তোলে। সেই জায়গায় রাষ্ট্র যদি এমন একটি শাস্তি কার্যকর করে, যা সরাসরি শিশুদের এই মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করে, তবে তা নিঃসন্দেহে একটি গভীর মানবিক সংকট তৈরি করে।
বিশ্বের অনেক সভ্য দেশে মৃত্যুদণ্ড বিলুপ্ত বা কার্যত স্থগিত রয়েছে। বিশেষ করে যেখানে শিশুদের স্বার্থ জড়িত, সেখানে আদালত ও রাষ্ট্র অনেক বেশি সংবেদনশীল ও বিবেচনাশীল ভূমিকা পালন করে। কারণ আইন শুধু শাস্তি দেওয়ার জন্য নয়, বরং ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয় ঘটানোর জন্য।
এই প্রেক্ষাপটে একটি যুক্তিসঙ্গত প্রস্তাব হতে পারে—বিচার প্রক্রিয়া চলবে, প্রমাণ ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতে রায় প্রস্তুত হবে, কিন্তু চূড়ান্ত রায় ঘোষণা বা কার্যকর করা স্থগিত রাখা যেতে পারে যতক্ষণ না সন্তানেরা প্রাপ্তবয়স্ক (১৮ বছর) হয়। ছোট বাচ্চার বয়স ১৮ হবার পর রায় ঘোষণা করা যেতে পারে। তারপর আপিল, ক্ষমা প্রার্থনা বা অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়ার সুযোগও থাকবে। এতে একদিকে বিচার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে, অন্যদিকে শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশের অধিকারও কিছুটা হলেও রক্ষা পাবে।
রাষ্ট্রের দায়িত্ব কেবল অপরাধ দমন নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখা। ছোট শিশুদের মানসিক আঘাত ও সামাজিক বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিয়ে কোনো শাস্তিই প্রকৃত অর্থে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারে না।
অতএব, সময়ের প্রয়োজনে আইন সংশোধন করে এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি, যেখানে ন্যায়বিচার এবং মানবিকতা—উভয়ই সমান গুরুত্ব পায়।

