• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

জাতীয়

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কী ভাবছে সরকার

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:৪৫
আপডেট: মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:৪৫

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কী ভাবছে সরকার

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয় স্থানীয় সরকার নির্বাচন। ঢাকার দুই সিটিসহ সারাদেশের সিটি করপোরেশনগুলো বর্তমানে প্রশাসক দিয়ে পরিচালিত হওয়ায় নির্বাচিত প্রতিনিধি পেতে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের দাবি জোরালো হচ্ছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে হবে—এ প্রশ্ন এখন বিরোধী দল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রে। সরকারের সাম্প্রতিক কিছু পদক্ষেপ, বিশেষ করে বিভিন্ন সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদে দলীয় নেতাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ, এই নির্বাচন নিয়ে সন্দেহ ও ধোঁয়াশা তৈরি করেছে।

বিরোধী দলগুলোর দাবি, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদে দলীয় নেতাদের দায়িত্ব দেওয়ার মাধ্যমে নির্বাচনের আগেই স্থানীয় প্রশাসন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে সরকার। তবে দলীয় প্রতীক ছাড়া নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঈদের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচন ইস্যুতে দেশের রাজনৈতিক মাঠ আরও সরব হয়ে উঠতে পারে। তারা বলছেন, প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে সাময়িকভাবে প্রশাসন সচল রাখা হলেও দলীয় নেতাদের নিয়োগ জনগণের কাছে ইতিবাচক বার্তা দেয়নি।

মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, “দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন না হলে সরকারের জনপ্রিয়তা কমে যেতে পারে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, স্থানীয় সরকারে দলীয়করণ জুলাই আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং এর নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া হতে পারে।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞ আব্দুল আলীম বলেন, প্রশাসক নিয়োগ আইনসিদ্ধ হলেও নির্বাচিত প্রতিনিধি ও নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তির মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। নির্বাচিত প্রতিনিধির জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকে, যা অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসকদের মধ্যে অনুপস্থিত থাকতে পারে।

জুলাই আন্দোলনের পর দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় এক ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়। সাবেক সরকার প্রধান শেখ হাসিনা-এর পতনের পর অনেক জনপ্রতিনিধি হামলা, গ্রেফতার বা আত্মগোপনের কারণে দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। ফলে স্থানীয় প্রশাসনে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়।

এই পরিস্থিতিতে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেয়। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে সরকারি কর্মকর্তা বা প্যানেল চেয়ারম্যানদের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

তবে এই অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা প্রায় দেড় বছর ধরে চলায় এবং সামগ্রিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে স্থানীয় প্রশাসনে অচলাবস্থা আরও প্রকট হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাই দ্রুত নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জোরদার হচ্ছে।

নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়েছে। বিরোধী দলগুলো দ্রুত নির্বাচন চাইলেও সরকারের সাম্প্রতিক প্রশাসক নিয়োগ নিয়ে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

বিশেষ করে ১১টি সিটি করপোরেশন ও ৪২টি জেলা পরিষদে প্রশাসক হিসেবে বিএনপি-ঘনিষ্ঠ নেতাদের নিয়োগ দেওয়ায় বিরোধী দলগুলো প্রশ্ন তুলেছে। এ নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি পৃথক বিবৃতিতে প্রতিবাদ জানিয়েছে।

সংসদে বিরোধী দলীয় উপনেতা ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, “স্থানীয় প্রশাসনে দলীয় ব্যক্তিদের বসানো হলে সরকারের প্রতি মানুষের আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে।” তিনি দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানান এবং প্রয়োজনে আন্দোলনেরও ইঙ্গিত দেন।

অন্যদিকে বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচনের আগে স্থানীয় প্রশাসন সচল রাখতেই প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই।

তিনি বলেন, “নির্বাচন অবশ্যই হবে, তবে কিছুটা সময় প্রয়োজন। আমরা সর্বোচ্চ তিন মাস সময় নিতে পারি।”

নির্বাচনের পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি জানান, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়ে প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। এরপর ধাপে ধাপে উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। জেলা পরিষদের নির্বাচন তুলনামূলক পরে আয়োজন করা হতে পারে।

সব মিলিয়ে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন এখন দেশের রাজনীতির অন্যতম প্রধান ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের দাবি যেমন বাড়ছে, তেমনি সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্নও উঠছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এ ইস্যুতে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ

উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রকেস )
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: sheershakhoboronline@gmail.com


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com