• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

জাতীয়

জ্বালানি তেল পাচার রোধে বিজিবি কঠোর অবস্থানে: বিজিবি

প্রকাশ: রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬ ৪:১৫
আপডেট: রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬ ৪:১৫

জ্বালানি তেল পাচার রোধে বিজিবি কঠোর অবস্থানে: বিজিবি

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত

রাজশাহী ব্যাটালিয়ন (১ বিজিবি) অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল রিয়াজ শাহরিয়ার বলেছেন, পার্শ্ববর্তী দেশে তেলের দাম আমাদের দেশের চেয়ে বেশি। বাংলাদেশ সরকার তেলের ওপর বড় অংকের ভর্তুকি দেয়। জ্বালানি তেল পাচার রোধে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, নৌপথেও তেল পরিবেশন করা হচ্ছে। সীমান্তবর্তী এলাকার বিওপিগুলো সতর্ক অবস্থানে আছে। সীমান্তের ওপারের বিওপিরা নিয়মিত নজরদারি করছে যাতে তেল ব্যারেল বা ছোট জারে (জার্কিন) করে পাচার না হয়। বিশেষ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বিভিন্ন আইসিটি পয়েন্টে বিজিবি সদস্যরা ট্রাকের ট্যাংকারের ভেতরের তেলের পরিমাণ যাচাই করছেন, যাতে অবৈধভাবে তেল বহন না করা হয়।

তিনি আরও বলেন, ভারত থেকে আসা তেল আন্তর্জাতিক বাজারের রেটে আসে। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার ভর্তুকি দিয়ে তা জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়। ভর্তুকি থাকায় দেশের তেলের দাম পার্শ্ববর্তী দেশের তুলনায় কম থাকে, যা পাচারের সম্ভাবনা তৈরি করে। এজন্য সীমান্তের ৮ কিলোমিটারের অংশ বিজিবি সরাসরি তদারকি করছে এবং বাকি অংশ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পর্যবেক্ষণ করছে।

লেফট্যানেন্ট কর্নেল রিয়াজ শাহরিয়ার জানান, রাজশাহী জেলায় তেল বিপণনে শৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরবিচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে পদ্মা অয়েল পিএলসি রাজশাহী, মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড হরিয়ান ও যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড রাজশাহী ডিপোতে গত ২৫ মার্চ থেকে তিনটি প্লাটুন বিজিবি মোতায়ন করা হয়েছে। এসব ডিপোতে বিজিবি সদস্যরা সার্বক্ষণিক উপস্থিত থেকে টহল ও তদারকি কার্যক্রম চালাচ্ছেন।

তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান নিশ্চিত করা হচ্ছে। রাজশাহী জেলায় দায়িত্বপূর্ণ এলাকার তিনটি ডিপো থেকে মোট ৬৪টি পেট্রোল পাম্পে নিয়মিতভাবে তেল সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে সীমান্তের ৮ কিলোমিটারের মধ্যে বিজিবির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ১২টি পাম্প রয়েছে। প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিজিবি বিশেষ নজরদারি চালাচ্ছে।

রাজশাহী ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ ১৬টি বিওপি থেকে সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত ১৯২টি বিশেষ টহল ও তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং ২২৮টি ভ্রাম্যমাণ চেকপোস্ট চালু করা হয়েছে। এ মাধ্যমে নিশ্চিত করা হচ্ছে যে তেল পার্শ্ববর্তী দেশে পাচার হবে না। এছাড়া বেলপুকুর ও রাজাবাড়ি স্থায়ী চেকপোস্টে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫০০টি ট্রাক, লরি ও অন্যান্য যানবাহনে তল্লাশি করা হয়েছে। নৌপথে স্পিডবোটের মাধ্যমে ২৫ মার্চ থেকে ৪৮টি নিয়মিত টহল পরিচালনা করা হয়েছে এবং নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিজিবির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।