• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

জাতীয়

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য: মন্ত্রী

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬ ৫:৩২
আপডেট: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬ ৫:৩২

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য: মন্ত্রী

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবিঃ সংগৃহীত
দেশের মানুষের জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করা বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি বলেন, এই দেশের প্রতিটি নাগরিকের মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে, তিনি যেখানেই থাকুন না কেন কিংবা তার আর্থিক সামর্থ্য যেমনই হোক না কেন। সবাইকে একসঙ্গে এমন একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যা হবে সহজপ্রাপ্য, জবাবদিহিমূলক, জনগণমুখী এবং সহনশীল।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘বাংলাদেশের নগর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় পরিবর্তন: পরিধি বাড়ানোর জন্য সরকারের নির্দেশিত একটি মডেল’ শীর্ষক সভায় এ কথা বলেন তিনি। সভাটি আয়োজন করে আলো ক্লিনিক ও স্বাস্থ্য অধিদফতর, সহযোগিতা ছিল সুইডেন দূতাবাস, ইউনিসেফ ও পিএইচডি সংগঠন।

নগরায়ণের কারণে শহরের ভাসমান ও নিম্নআয়ের মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বকুল আলো ক্লিনিকের কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, শহরের সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় যেভাবে আলো ক্লিনিক মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছে, তা সত্যিই অনুসরণযোগ্য একটি উদ্যোগ। আলো ক্লিনিক কীভাবে কার্যকরভাবে তাদের সেবা পরিচালনা করছে, সে বিষয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য আগামী সপ্তাহের মধ্যেই তিনি নিজে একটি আলো ক্লিনিক পরিদর্শন করবেন বলেও জানান।

মন্ত্রী বলেন, সিটি কর্পোরেশনের কাছ থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যে ১৯২টি নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দায়িত্ব গ্রহণ করেছে, সেসব কেন্দ্র পরিচালনা ও সেবার মানোন্নয়নে আলো ক্লিনিকের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হবে।

সব মানুষের জন্য টেকসই স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, ব্যয়বহুল বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া দেশের সব মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। সে কারণে সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে এমন পর্যায়ে উন্নীত করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা তৈরি হয়। তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মূল্যবান পরামর্শ বিবেচনায় নিয়ে স্বাস্থ্যসেবার পরিধি আরও সম্প্রসারণ করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, চিকিৎসার অভাবে দেশের একজন মানুষকেও মৃত্যুবরণ করতে দিতে চায় না সরকার। দেশের একেবারে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছেও সহজে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, দেশের জনসংখ্যা যত বড়ই হোক না কেন, সমগ্র জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সরকারের অঙ্গীকার এবং সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য খাতের চলমান বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় তৃণমূল পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা হাসপাতাল এবং জেলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে পর্যায়ক্রমে ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণ করা হবে।

তিনি আরও জানান, দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকার রোগীদের দ্রুত উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে স্থানান্তরের সুবিধা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চসংখ্যক অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

সভায় আলো ক্লিনিক মডেলের চার বছরেরও বেশি সময়ের বাস্তবায়ন অভিজ্ঞতা থেকে অর্জিত বিভিন্ন শিক্ষা ও সাফল্য তুলে ধরা হয়। এসব অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে এ মডেল সম্প্রসারণের বিষয়ে সরকারের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক ভূমিকা রাখছে বলেও জানানো হয়।

সভায় জানানো হয়, আলো ক্লিনিক মডেলের আওতায় মাতৃস্বাস্থ্য, নবজাতক ও শিশুসেবা, টিকাদান, পুষ্টি স্ক্রিনিং, রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসাসহ বিভিন্ন ধরনের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে ১৬৮ জন রোগী এসব সেবা গ্রহণ করেন।

এছাড়া কমিউনিটি আউটরিচ কার্যক্রম এবং ডিজিটাল গৃহভিত্তিক পরিদর্শনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর্মীরা গর্ভবতী নারী শনাক্ত করছেন, শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সংযুক্ত করছেন।

বর্তমানে আলো ক্লিনিকের চারটি কেন্দ্রে ২৪ ঘণ্টা, সপ্তাহের সাত দিন ধাত্রী-নেতৃত্বাধীন নরমাল ডেলিভারি সেন্টার চালু রয়েছে। এসব কেন্দ্রে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত এক হাজারের বেশি নিরাপদ প্রসবসেবা প্রদান করা হয়েছে।

সভায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, ইউনিসেফের স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান ডা. মালালাই আহমেদজাই, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশেদ মোহাম্মদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।