জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি : সংগৃহিত
নতুন বাংলাদেশ গঠনে শিল্প-সংস্কৃতির মানুষদের এগিয়ে আসতে হবে: আইনমন্ত্রী
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘদিনের গুম, খুন, নিপীড়ন ও বৈষম্যের অবসান ঘটিয়ে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
তিনি বলেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে শিল্প-সংস্কৃতির মানুষদের এগিয়ে আসতে হবে। বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও মানবিক সমাজ গঠনে আবৃত্তিশিল্পীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে বাংলাদেশ আবৃত্তি ফেডারেশনের ত্রিবার্ষিক উৎসব ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে আয়োজিত বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের ১৬ বছরের শাসনামলে সাড়ে চার হাজারের বেশি মানুষকে বিনা বিচারে ‘ক্রসফায়ারের’ নামে হত্যা করা হয়েছে। একই সময়ে ৭০০-এর বেশি মানুষ গুম হয়েছেন। তাদের স্বজনরা এখনো প্রিয়জনের ফিরে আসার অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, বিরোধী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ৬০ লাখের বেশি মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও গায়েবি মামলা দেওয়া হয়েছিল। এমন ঘটনাও ঘটেছে, যেখানে মৃত ব্যক্তি, হজে থাকা মানুষ কিংবা শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তিকেও বোমা হামলা বা ডাকাতির মামলায় আসামি করা হয়েছে।
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না; দীর্ঘ ১৬ বছরের সংগ্রাম, নির্যাতন ও মানুষের আত্মত্যাগের ধারাবাহিক পরিণতিই ছিল এই আন্দোলন। তিনি জুলাই আন্দোলনে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্মরণ করে বলেন, মাত্র ২০ দিনের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে অসংখ্য মানুষ জীবন দিয়েছেন। প্রায় ৩০ হাজার মানুষ এ আন্দোলনে হাত, পা বা চোখ হারিয়েছেন কিংবা শরীরে গুলির ক্ষত নিয়ে বেঁচে আছেন।
আবৃত্তি ফেডারেশনের কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে আইনমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জুলাইয়ের চেতনা ছড়িয়ে দেওয়া এবং কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে প্রতিবাদ ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার উদ্যোগ প্রশংসনীয়।
আবৃত্তিকে শিল্পের স্বীকৃতি দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একসময় আবৃত্তি বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতির স্বতন্ত্র শাখা হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায়নি। পরবর্তীতে আইন সংশোধনের মাধ্যমে আবৃত্তিকে নৃত্য ও সংগীতের মতো শিল্পের একটি স্বীকৃত অঙ্গন হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, দেশে আবারও হিংস্র মৌলবাদের উত্থান দেখা যাচ্ছে, যা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি। তিনি বলেন, সন্ত্রাসের মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিভিন্ন কাঠামো ধ্বংসের চেষ্টা করা হয়েছিল, যার অবসান হয়েছে ৫ আগস্ট। ইতিহাস প্রমাণ করে, বিরোধীদলকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করে কোনো শাসনব্যবস্থা টিকে থাকতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, দেশে এখনো প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। অনাচার ও অবিচারের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক ও সাংস্কৃতিক চর্চা আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশ আবৃত্তি ফেডারেশনের সভাপতি মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আইনমন্ত্রীর সহধর্মিণী শিরিন সুলতানা এবং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান।
দিনব্যাপী আয়োজনে শোভাযাত্রা, নজরুল আবৃত্তি প্রতিযোগিতা, ‘জুলাইয়ের পঙ্ক্তিমালা’ শীর্ষক কবিতা পাঠ, স্মৃতিচারণ, শহীদদের স্মরণে দলীয় ও একক আবৃত্তি এবং পুরস্কার বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।












