• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও পরিবর্তনশীল সংপ্রশ্ন

প্রকাশ: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৪:২৮
আপডেট: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৪:২৮

IMG 4447

বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও পরিবর্তনশীল সংপ্রশ্ন

একটি দেশের সংস্কৃতিসমূহ মূলত প্রতিফলিত হয় জনগণের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট, বিশ্বাস, মূল্যবোধ, আচরণ ও আদর্শকে কেন্দ্র করে । তাছাড়া নৃতাত্ত্বিক ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দীর্ঘ সময় একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের মানুষের চালচলন চর্চার মাধ্যমে এই সংস্কৃতি একটি বৈশিষ্ট্যে রূপান্তরিত হয় । তেমনিভাবে রাজনৈতিক সংস্কৃতি হলো একটি দেশের আর্থসামাজিক, রাজনৈতিক , ধর্মীয়, আদর্শগত বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আচরণগত যে প্রতিক্রিয়া তার উপর ভিত্তি করেই রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে ওঠে । মূলত বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের যখন জন্ম হয়েছিল, তখন থেকেই রাজনৈতিক সংস্কৃতির ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক চর্চাই রাজনীতিতে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায় । যদি তার বিপরীতে বাম রাজনীতির একটি প্রতিবাদী অংশগ্রহণ ছিল।কেননা ১৯৭১ সাল তৎপরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ ছাড়া আর কোনো শক্তিশালী রাজনৈতিক দল ছিল না । সেই পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় আওয়ামী লীগের বলপ্রয়োগমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি ১৯৭৫ সালে একটি রাজনৈতিক সংকটের জন্ম দেয়। ফলশ্রুতিতে রাজনীতিতে সামরিক বাহিনীর সম্পৃক্ততা স্বয়ংকৃয়ভাবে অনিবার্য হয়ে পড়ে। আর সেই রাজনৈতিক সংকটকে উত্তরণের জন্য বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথ উন্মুক্ত করেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আজও গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিকরনের প্রথম ধাপ হিসেবে স্বীকৃত ।

তথাপি বাংলাদেশের রাজনীতিতে হুসাইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ (১৯৮২-১৯৯০) আবারো রাজনৈতিক সংকটের জন্ম দেয় এবং রাজনীতিতে ধর্মীয় পরিচয়কে সাংবিধানিকভাবে প্রতিষ্ঠা এক নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা করেন। পরবর্তীতে একটি সফল গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে এরশাদের সামরিক শাসনের অবসান ঘটে এবং ১৯৯১ সালের নির্বাচনে সদ‍্য প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে একটি কাঙ্ক্ষিত গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা লাভ করে । তাই পর্যবেক্ষণে বলা যায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও সংকটের ইতিহাস ব্রিটিশ আমল থেকে পাকিস্তানি শাসনামলে অনুপ্রবেশ করে আওয়ামী রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সূচনা হয় ।

এবার রাজনৈতিক সংস্কৃতির তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশের রাজনীতিতে তার প্রতিক্রিয়া ও চালচিত্র তুলে ধরা প্রয়োজন । একটি দেশের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের উপর ভিত্তি করে Gabriel Almond এবং Sidney Verba তাদের বিখ্যাত The Civic Culture (১৯৬৩) বইয়ে লিখেছেন জনগণ কিভাবে ও কোন পদ্ধতিতে একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থায় প্রতিক্রিয়া জানায়। প্রথমত- নিম্ন রাজনৈতিক অংশগ্রহণ (Parochial Political Culture), যেখানে জনগণের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে অনীহা রয়েছে বা রাজনৈতিক সচেতনতার অভাব বিদ্যমান।বিশ্বের অনুন্নত দেশসমূহে কিংবা যোগাযোগ হীন গ্রামীণ কিংবা পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে এজাতীয় বৈশিষ্ট্য লক্ষণীয় ।দ্বিতীয়ত- অধীনস্ত রাজনৈতিক সংস্কৃতি (Subject Political Culture) যেখানে জনগণের রাজনৈতিক কার্যকলাপ সম্পর্কে সচেতন কিন্তু সিদ্ধান্ত জানানোর সুযোগ নেই । তবে জনগণ সরকার শাসন ব্যবস্থার প্রতি সমর্থন থাকে। আধুনিক যুগে রাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় তা দেখা যায় । তৃতীয়ত-অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি (Participant Political Culture) হলো যেখানে জনগণের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও মতামত কিংবা দ্বিমত প্রকাশের অধিকার রয়েছে । Almondn ও Verba বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক ব‍্যবস্হার উপর ভিত্তি করে তাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি সম্পর্কে অভিমত ব্যক্ত করেন । তাই তাত্ত্বিকদের মধ্যে এই ধারণার অনেক সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে । তবে এখানে আমার আলোচনার বিষয়বস্তু হলো, বাংলাদেশের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ মূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতির স্বরূপ বিশ্লেষণ করা ।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি পর্যালোচনা করলে দেখা যায় তা ঐতিহাসিকভাবে পরিবর্তিত হয়ে বর্তমান পর্যায়ে রূপান্তরিত হয়েছে ।বিশেষ করে চব্বিশের রাজনৈতিক গণঅভ্যুত্থানের পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির বহুমাত্রিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে ।প্রথমত, আওয়ামীলীগ সরকারের ক্ষমতা কাঠামোর অবসানের মাধ্যমে ক্ষমতা কেন্দ্রিক পদ্ধতি গুলোর পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়েছে ।জনগণের মধ্যে শুধুমাত্র বড় রাজনৈতিক দলের প্রতি আস্থা রাখতে পারছে না। কেননা সেখানে ব‍্যক্তিকেন্দ্রীক রাজনীতির কারণে রাষ্ট্রীয় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মৃতপ্রায় অবস্থা দেখা যাচ্ছে । যার কারণে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দলের বিপরীতে ছোট রাজনৈতিক দলগুলো ও জনপ্রিয়তা পাচ্ছে । দ্বিতীয়ত,জেন-জি উত্থান ২৪শের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে পরিলক্ষিত হচ্ছে । বিশেষ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) তরুণ প্রজন্মের নেতৃবৃন্দ কথা উল্লেখযোগ্য । তাছাড়াও অন‍্যান‍্য দলেও তরুণ প্রজন্মের নেতা- কর্মী রয়েছেন কিন্তু এনসিপির মতো তারা সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় জড়িত নন । Almond ও Verba যেখানে অধীন রাজনৈতিক সংস্কৃতির ( Subject Political Culture) কথা বলেছেন, সেই জি প্রজন্ম সেই দেয়ালকে মানতে নারাজ । কারণ তারা তরুণ প্রজন্ম ও ডিজিটাল সংস্কৃতির সাথে অভ্যস্ত । তারা যে কোনো প্রতিবাদ সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করতে দ্বিধাবোধ করেন না । যার ফলে জি- প্রজন্মের উত্থান ও রাজনীতিতে তাদের প্লাটফর্ম বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে ।পাশাপাশি রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমালোচনার রাজনৈতিক পথ প্রশস্ত হয়েছে । তৃতীয়ত-বাংলাদেশের রাজনীতিতে বাহ্যিক প্রভাব ও সম্পর্কের ক্ষেত্রে একক ক্ষমতা কেন্দ্রিক প্রভাব (Single vector power) ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং সম্পর্কের ক্ষেত্রে বহু মাত্রিক কৌশল ও সম্পর্কের ওপর নীতি প্রণয়ন গুরুত্ব পাচ্ছে । চতুর্থত- সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাব রাজনৈতিক সংস্কৃতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে । বিশেষ করে ফেসবুক, টিকটক, এআই এবং ইউটিউবে রাজনৈতিক ক্রিয়া- প্রতিক্রিয়া এমনভাবে প্রচারিত হচ্ছে যেখানে সাধারণ মানুষের কাছে দ্রুত পৌঁছে যাচ্ছে এবং এক ধরনের মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হচ্ছে।মোদ্দা কথা হলো বক্তব্যের সত্যতা যাচাইয়ের আগেই জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করে রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে দূষিত করে তোলা হচ্ছে । যার কারণে যেখানে সেখানে বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক গুজবের উপর ভিত্তি করে কর্মসূচি পালন করে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ক্রমেই বাড়িয়ে তুলছে ।

সুতরাং দেখা যাচ্ছে রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক সংকট অতিক্রম করার ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে।যার ফলে ২৪শের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বাংলাদেশ গঠনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিষয়ে ঐক‍্যমত‍্যের বিপরীতে ভিন্ন মতের মাত্রাগত সংপ্রশ্ন তৈরি হচ্ছে । আর তা হলোঃ

১. একটি স্বেচ্ছাচারী শাসন ব্যবস্থা থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করতে হলে নিয়মতান্ত্রিক ও পদ্ধতিগত পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ ।যাতে করে জনগণকে ব‍্যক্তি কেন্দ্রিক ও বড় রাজনৈতিক দলকেন্দ্রিক একক প্রভাবের দিকে ধাবিত হতে না হয় । এই চর্চার জন্য ক্ষমতাশীল দল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং আমলাদের ব্যবহার করে নিজস্ব নীতি ও আদর্শ প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট থাকে। উদাহরণস্বরূপ গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ২১০ টি আসন নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও বিরোধী জোট জামাত-এনসিপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মোট ৯০টি আসনে জয়লাভ করেছে । সুতরাং নিয়মতান্ত্রিক গণতন্ত্র কাজ করলে ৯০ জন সাংসদ সরকারি দলের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরার জন্য যথেষ্ট।

২. সংসদে অতিমাত্রায় সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়ে আওয়ামী লীগ ১৯৭৩ সালের নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতিতে সকল রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করে বাকশাল গঠন করে। সর্বশেষ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেই একই দল সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে স্বেচ্ছাচারিতার চরম পর্যায়ে উপনীত হয় । যার চূড়ান্ত পরিণতি হলো ২৪শের গণঅভ্যুত্থান । সুতরাং বিএনপির ক্ষেত্রেও একই বাস্তবতা । অর্থাৎ সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা ক্ষমতা অর্জন করেছে ঠিকই, কিন্তু ক্ষমতার এই বৈধতা নির্ভর করবে কিভাবে তা বিরোধী দল ও জনগণের মধ্যে নিয়ন্ত্রন পরিধি প্রয়োগ করবে। এটা ক্ষমতাসীন দলের জন্য যেমন সুযোগ তেমনি ঝুঁকিপূর্ণ ।কেননা বর্তমান সরকারের জন্য কিছু মৌলিক ও অপরিহার্য প্রতিশ্রুতিশীল কাজ রয়েছে যা একটি রাজনৈতিক ব্যবস্হার জন্য বাস্তবায়ন জরুরি । আর তা হলো, আমলাতান্ত্রিক সংস্কার, শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, সাংবিধানিক সংস্কার, আইন শৃঙ্খলার স্হিতিশীলতা, ব‍্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা ইত্যাদি । তাই বলা যায়, নয়া রাজনৈতিক সংস্কৃতির সাথে এসমস্ত রাজনৈতিক মৌলিক বিষয় পরবর্তী কয়েক বছর সরকারের জন্য অগ্নিপরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হবে ।

৩.গণভোটে পাসকৃত জুলাই সনদ ও সরকার ঘোষিত ৩১ দফা সমূহ একটি মৌলিক ও সাংবিধানিক ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।কেননা এই বিষয়ে কথার প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন শুরু করা বেশি জরুরি ।তাছাড়া জুলাই সনদ বাংলাদেশের রাজনৈতিক খেলার প্রধান এজেন্ডায় পরিণত হয়েছে। তার কারণ হলো, এখানে কতকগুলো মৌলিক সংশোধন দরকার। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার সময়কাল, ক্ষমতা ও ভারসাম্য নীতি প্রণয়ন, উচ্চ কক্ষের গঠন করলে তার গঠনতন্ত্র ও ক্ষমতা কাঠামোর নীতি নির্ধারণ, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বায়ত্বশাসন নিশ্চিত করা, মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা ইত্যাদি । এই মৌলিক ইস্যুগুলো নিয়ে সরকার ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে বাস্তবায়নকৃত পদ্ধতিতে মতানৈক্য তৈরি হয়েছে যা রাজনৈতিক সংকটকে উসকে দিতে পারে।যদি এ বিষয়ে সরকার মৌলিক সংশোধনী (Amendment ) আনতে বদ্ধপরিকর । কিন্তু বিরোধী দল চায় সংস্কার (Reform) ।সুতরাং সরকার ও বিরোধী দলের সংশোধনী ও সংস্কারের বিতর্কে না গিয়ে, এ সমস্ত বিষয়ে যে পরিবর্তন আনা যে প্রয়োজন তা নিশ্চিত করতে হবে । অর্থাৎ বিড়াল সাদা কালো না দেখে উভয় দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কিভাবে ইঁদুর মারতে হয়, সেই বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন ।

৪. আওয়ামীলীগ বর্তমান রাজনৈতিক কাঠামোয় থেকে দূরে রয়েছে যা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সংকটের আশংকা করা যায়। অর্থাৎ রর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতির বড় সংকট হলো আওয়ামী রাজনীতির ভবিষ্যতে প্রশ্নে। যদিও আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ কিন্তু রাজনৈতিক দল হিসেবে নিষিদ্ধ নয় । অর্থাৎ আওয়ামী লীগ দল হিসেবে তাদের কোনো সভা, প্রকাশনা, ও অনলাইন বক্তব্যের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। সুতরাং এটা থেকে স্পষ্ট যে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিকভাবে ফিরে আসতে হলে হাসিনা শাসনামলের সংঘটিত অপরাধের বিচার ও দল হিসেবে তাদের জাতির কাছে ক্ষমা ও ভবিষ্যতের রাজনীতিতে জবাবদিহিতার পূর্ণ অঙ্গীকার ছাড়া ফিরে আসা সম্ভব হবে না । আওয়ামী লীগ কে দীর্ঘ মেয়াদে রাজনৈতিক কাঠামো থেকে দূরে রাখা কঠিন হবে । কারণ ঐতিহাসিকভাবে আওয়ামী লীগের নাম পরিবর্তন ও পুনর্গঠনের মাধ্যমে টিকে থাকার ইতিহাস আছে । এখানে দুই দিক থেকে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যত রাজনীতির বিষয়ে কৌশলগত নীতি গ্রহণ করা যেতে পারে যাতে করে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক কাঠামো মধ্যে নিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে। প্রথমত- সরকারকে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিকভাবে ফিরে আসার কৌশল বা নীতি গ্রহণ করতে হবে । যাতে করে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক অচলাবস্থা ( Political Deadlock) সৃষ্টি না হয়। সেটা হতে পারে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনার সুযোগ দেয়া, প্রকৃত অপরাধীদের বিচার বাস্তবায়ন এবং আওয়ামী লীগের যারা তরুণ নেতৃত্ব রয়েছে যাদের জুলাই গণঅভ্যুত্থান , পিলখানা, ঘুমখুন ও শাপলা চত্বরের মতো জঘন্য হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত নয় এ জাতীয় নেতা- কর্মীদের জন্য রাজনৈতিক পথ উন্মুক্ত করা। সরকারকে এ বিষয়ে রাজনৈতিক কৌশলগত সময় ও পুনপ্রবেশ বিবেচনা নেয়া প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত- আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে ফিরে আসতে হলে তাদেরকে সাংগঠনিক পিরামিড ঢেলে সাজাতে হবে এবং শেখ হাসিনাকে দলীয় প্রধানের দায়িত্ব থেকে নিজ উদ্যোগে সরে যেতে হবে।আওয়ামী লীগ তাদের তরুণ প্রজন্মের নেতাকর্মীদের সুযোগ না দিলে সরকার ও জনগণ বর্তমান আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেকে অপরাজনীতির চক্র হিসেবে যে চিহ্নিত করেছে তা থেকে সরে আসবে না । লীগের তরুণ প্রজন্মের যে নেতৃত্বই আসুক না কেন তাদেরকে বাংলাদেশপন্হী ও প্রতিহিংসাহীন রাজনীতির শপথ নিতে হবে । গতানুগতিক ভারত ঘেঁষা নীতি অবলম্বন করলে বাংলাদেশের রাজনীতির ক্ষমতা কাঠামোর মধ্যে আসা তাদের পক্ষে কঠিন হবে ।

৫. জামায়াত ইসলামী বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রথম বারের মতো বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে জাতীয় সংসদে ৬৮ টি আসন নিয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে । আগে যেখানে আওয়ামী লীগ, বিএনপি কিংবা বিশেষ কৌশলে জাতীয় পার্টির সরকার বা বিরোধী দলের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে সেখানে গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী জামায়াতের ভূমিধস উত্থান ঘটেছে বলা যায় । এটা কি জামায়াতের কৃতিত্ব নাকি এনসিপির প্রতি সাধারণ মানুষের সহানুভূতির কারণে তারা বিরোধী শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে তা নিকট ভবিষ্যতে আরো স্পষ্ট হবে । তবে এটা সত্য যে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে যে সামাজিক ও ঐতিহাসিকভাবে ভিন্ন ধর্মী সামাজিক আচরণ বা প্রবণতা ( Heterogeneous Social Behaviour or trend) রয়েছে গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তা প্রমাণিত হয়েছে। ফলশ্রুতিতে প্রচলিত রাজনৈতিক শক্তির বিরোধী মনোভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে । এই মনোভাব কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা নির্ভর করবে সরকার অভ্যন্তরীণভাবে জনগণকে এবং বাহ‍্যিকভাবে তাদের সবার আগে বাংলাদেশ নীতির কৌশলগত সাফল্যের ওপর । সুতরাং ২৪শের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী নয়া রাজনৈতিক সংস্কৃতির সাথে জামায়াতের যে সরকারী দল হবার পরিকল্পনা তা নির্ভর করবে সরকারের ব‍্যর্থতার কিংবা সরকারের প্রতি জনগণের সন্তুষ্টির উপর। তাই এটা স্পষ্টভাবে বলা যায়, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপির ব‍্যর্থতা মানে হলো বাংলাদেশ একটি রাজনৈতিক অচলাবস্থার (Political Deadlock) মধ্যে নিমজ্জিত হবে।

৬. এনসিপি বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন তারুণ্য শক্তির রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে । যাদের কোন রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা আগে ছিল না, কিন্তু হাসিনা সরকার পতনের আন্দোলনের সূচনা তাদেরকে কেন্দ্র করেই শুরু হয়েছে। তৎপরবর্তী সময় থেকে এনসিপি ও জামাত জোটবদ্ধ হয়ে বিভিন্ন ইস্যুতে আন্দোলন ও জনগণকে সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে অভিন্ন কৌশলে এগিয়ে যাচ্ছে । বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের সক্রিয়তা অনেক বেশি সুসংগঠিত হয়েছে। তবে জামাত ও এনসিপির মধ্যে জনপ্রিয়তায় কে এগিয়ে তা বলা মুশকিল।জোটবদ্ধ থাকার কারণ তাদের মধ্যে কে বেশি জনপ্রিয় হচ্ছে তা একটি গবেষণার বিষয় হতে পারে । তাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে এনসিপিকে পরিস্থিতির পরিবর্তনশীল (Wild Card) শক্তি হিসেবে বিবেচনা করতে হবে ।

উপরে উল্লিখিত পর্যবেক্ষণগুলো ছাড়াও সরকারকে মানবাধিকারের ইস্যুতে সোচ্চার হতে হবে। তাছাড়া নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির উত্থানে রাজনৈতিক ব্যবস্থা যেভাবে অস্হিতিশীলতীয় দিকে যাচ্ছে তাতে করে সরকারকে বহুমুখী সমস্যা মোকাবেলা করতে হবে। রাজনৈতিক এ সমস্ত সমস্যা ছাড়াও জনগণের অর্থনৈতিক ক্রয়ক্ষমতা, বিদ‍্যুৎ , গ্যাস, দ্রব্য মূল্য নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পারলে সরকারের জনপ্রিয়তার সার্বজনীনতা হারাতে হবে। তখন দেখা যাবে সর্বাঙ্গে ব‍্যাথা ঔষুধ দিব কোথায়! পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে। সুতরাং বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী এ সরকারকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক যত সমস্যাই সৃষ্টি হোক না কেন তা মোকাবেলা করার সক্ষমতার উপর আগামী বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব‍্যবস্হার স্হিতিশীলতা ও সরকারের সাফল্য নির্ধারিত হবে।

৩.গণভোটে পাসকৃত জুলাই সনদ ও সরকার ঘোষিত ৩১ দফা সমূহ একটি মৌলিক ও সাংবিধানিক ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।কেননা এই বিষয়ে কথার প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন শুরু করা বেশি জরুরি ।তাছাড়া জুলাই সনদ বাংলাদেশের রাজনৈতিক খেলার প্রধান এজেন্ডায় পরিণত হয়েছে। তার কারণ হলো, এখানে কতকগুলো মৌলিক সংশোধন দরকার। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার সময়কাল, ক্ষমতা ও ভারসাম্য নীতি প্রণয়ন, উচ্চ কক্ষের গঠন করলে তার গঠনতন্ত্র ও ক্ষমতা কাঠামোর নীতি নির্ধারণ, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বায়ত্বশাসন নিশ্চিত করা, মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা ইত্যাদি । এই মৌলিক ইস্যুগুলো নিয়ে সরকার ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে বাস্তবায়নকৃত পদ্ধতিতে মতানৈক্য তৈরি হয়েছে যা রাজনৈতিক সংকটকে উসকে দিতে পারে।যদি এ বিষয়ে সরকার মৌলিক সংশোধনী (Amendment ) আনতে বদ্ধপরিকর । কিন্তু বিরোধী দল চায় সংস্কার (Reform) ।সুতরাং সরকার ও বিরোধী দলের সংশোধনী ও সংস্কারের বিতর্কে না গিয়ে, এ সমস্ত বিষয়ে যে পরিবর্তন আনা যে প্রয়োজন তা নিশ্চিত করতে হবে । অর্থাৎ বিড়াল সাদা কালো না দেখে উভয় দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কিভাবে ইঁদুর মারতে হয়, সেই বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন ।

৪. আওয়ামীলীগ বর্তমান রাজনৈতিক কাঠামোয় থেকে দূরে রয়েছে যা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সংকটের আশংকা করা যায়। অর্থাৎ রর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতির বড় সংকট হলো আওয়ামী রাজনীতির ভবিষ্যতে প্রশ্নে। যদিও আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ কিন্তু রাজনৈতিক দল হিসেবে নিষিদ্ধ নয় । অর্থাৎ আওয়ামী লীগ দল হিসেবে তাদের কোনো সভা, প্রকাশনা, ও অনলাইন বক্তব্যের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। সুতরাং এটা থেকে স্পষ্ট যে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিকভাবে ফিরে আসতে হলে হাসিনা শাসনামলের সংঘটিত অপরাধের বিচার ও দল হিসেবে তাদের জাতির কাছে ক্ষমা ও ভবিষ্যতের রাজনীতিতে জবাবদিহিতার পূর্ণ অঙ্গীকার ছাড়া ফিরে আসা সম্ভব হবে না । আওয়ামী লীগ কে দীর্ঘ মেয়াদে রাজনৈতিক কাঠামো থেকে দূরে রাখা কঠিন হবে । কারণ ঐতিহাসিকভাবে আওয়ামী লীগের নাম পরিবর্তন ও পুনর্গঠনের মাধ্যমে টিকে থাকার ইতিহাস আছে । এখানে দুই দিক থেকে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যত রাজনীতির বিষয়ে কৌশলগত নীতি গ্রহণ করা যেতে পারে যাতে করে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক কাঠামো মধ্যে নিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে। প্রথমত- সরকারকে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিকভাবে ফিরে আসার কৌশল বা নীতি গ্রহণ করতে হবে । যাতে করে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক অচলাবস্থা ( Political Deadlock) সৃষ্টি না হয়। সেটা হতে পারে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনার সুযোগ দেয়া, প্রকৃত অপরাধীদের বিচার বাস্তবায়ন এবং আওয়ামী লীগের যারা তরুণ নেতৃত্ব রয়েছে যাদের জুলাই গণঅভ্যুত্থান , পিলখানা, ঘুমখুন ও শাপলা চত্বরের মতো জঘন্য হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত নয় এ জাতীয় নেতা- কর্মীদের জন্য রাজনৈতিক পথ উন্মুক্ত করা। সরকারকে এ বিষয়ে রাজনৈতিক কৌশলগত সময় ও পুনপ্রবেশ বিবেচনা নেয়া প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত- আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে ফিরে আসতে হলে তাদেরকে সাংগঠনিক পিরামিড ঢেলে সাজাতে হবে এবং শেখ হাসিনাকে দলীয় প্রধানের দায়িত্ব থেকে নিজ উদ্যোগে সরে যেতে হবে।আওয়ামী লীগ তাদের তরুণ প্রজন্মের নেতাকর্মীদের সুযোগ না দিলে সরকার ও জনগণ বর্তমান আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেকে অপরাজনীতির চক্র হিসেবে যে চিহ্নিত করেছে তা থেকে সরে আসবে না । লীগের তরুণ প্রজন্মের যে নেতৃত্বই আসুক না কেন তাদেরকে বাংলাদেশপন্হী ও প্রতিহিংসাহীন রাজনীতির শপথ নিতে হবে । গতানুগতিক ভারত ঘেঁষা নীতি অবলম্বন করলে বাংলাদেশের রাজনীতির ক্ষমতা কাঠামোর মধ্যে আসা তাদের পক্ষে কঠিন হবে ।

৫. জামায়াত ইসলামী বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রথম বারের মতো বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে জাতীয় সংসদে ৬৮ টি আসন নিয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে । আগে যেখানে আওয়ামী লীগ, বিএনপি কিংবা বিশেষ কৌশলে জাতীয় পার্টির সরকার বা বিরোধী দলের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে সেখানে গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী জামায়াতের ভূমিধস উত্থান ঘটেছে বলা যায় । এটা কি জামায়াতের কৃতিত্ব নাকি এনসিপির প্রতি সাধারণ মানুষের সহানুভূতির কারণে তারা বিরোধী শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে তা নিকট ভবিষ্যতে আরো স্পষ্ট হবে । তবে এটা সত্য যে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে যে সামাজিক ও ঐতিহাসিকভাবে ভিন্ন ধর্মী সামাজিক আচরণ বা প্রবণতা ( Heterogeneous Social Behaviour or trend) রয়েছে গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তা প্রমাণিত হয়েছে। ফলশ্রুতিতে প্রচলিত রাজনৈতিক শক্তির বিরোধী মনোভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে । এই মনোভাব কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা নির্ভর করবে সরকার অভ্যন্তরীণভাবে জনগণকে এবং বাহ‍্যিকভাবে তাদের সবার আগে বাংলাদেশ নীতির কৌশলগত সাফল্যের ওপর । সুতরাং ২৪শের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী নয়া রাজনৈতিক সংস্কৃতির সাথে জামায়াতের যে সরকারী দল হবার পরিকল্পনা তা নির্ভর করবে সরকারের ব‍্যর্থতার কিংবা সরকারের প্রতি জনগণের সন্তুষ্টির উপর। তাই এটা স্পষ্টভাবে বলা যায়, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপির ব‍্যর্থতা মানে হলো বাংলাদেশ একটি রাজনৈতিক অচলাবস্থার (Political Deadlock) মধ্যে নিমজ্জিত হবে।

৬. এনসিপি বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন তারুণ্য শক্তির রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে । যাদের কোন রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা আগে ছিল না, কিন্তু হাসিনা সরকার পতনের আন্দোলনের সূচনা তাদেরকে কেন্দ্র করেই শুরু হয়েছে। তৎপরবর্তী সময় থেকে এনসিপি ও জামাত জোটবদ্ধ হয়ে বিভিন্ন ইস্যুতে আন্দোলন ও জনগণকে সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে অভিন্ন কৌশলে এগিয়ে যাচ্ছে । বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের সক্রিয়তা অনেক বেশি সুসংগঠিত হয়েছে। তবে জামাত ও এনসিপির মধ্যে জনপ্রিয়তায় কে এগিয়ে তা বলা মুশকিল।জোটবদ্ধ থাকার কারণ তাদের মধ্যে কে বেশি জনপ্রিয় হচ্ছে তা একটি গবেষণার বিষয় হতে পারে । তাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে এনসিপিকে পরিস্থিতির পরিবর্তনশীল (Wild Card) শক্তি হিসেবে বিবেচনা করতে হবে ।

উপরে উল্লিখিত পর্যবেক্ষণগুলো ছাড়াও সরকারকে মানবাধিকারের ইস্যুতে সোচ্চার হতে হবে। তাছাড়া নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির উত্থানে রাজনৈতিক ব্যবস্থা যেভাবে অস্হিতিশীলতীয় দিকে যাচ্ছে তাতে করে সরকারকে বহুমুখী সমস্যা মোকাবেলা করতে হবে। রাজনৈতিক এ সমস্ত সমস্যা ছাড়াও জনগণের অর্থনৈতিক ক্রয়ক্ষমতা, বিদ‍্যুৎ , গ্যাস, দ্রব্য মূল্য নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পারলে সরকারের জনপ্রিয়তার সার্বজনীনতা হারাতে হবে। তখন দেখা যাবে সর্বাঙ্গে ব‍্যাথা ঔষুধ দিব কোথায়! পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে। সুতরাং বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী এ সরকারকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক যত সমস্যাই সৃষ্টি হোক না কেন তা মোকাবেলা করার সক্ষমতার উপর আগামী বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব‍্যবস্হার স্হিতিশীলতা ও সরকারের সাফল্য নির্ধারিত হবে।

মোঃ শাহজাহান মিয়া
সাবেক জাতীয় বিতার্কিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।
( বর্তমানে লন্ডনে বসবাসরত)
ই-মেইলঃ shahjahanau.bd@.com


সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ

উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রকেস )
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: sheershakhoboronline@gmail.com


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com