শীর্ষ খবর ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত
কয়েক দিন আগেও বরিশালের বাজারে ইলিশের দাম ছিল চড়া। এক সপ্তাহের ব্যবধানে সেই চিত্র বদলে গেছে। নদী থেকে ইলিশের সরবরাহ বেড়ে মোকামে আসা মাছের পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এর প্রভাবে আকারভেদে পাইকারি বাজারে মণপ্রতি দাম কমেছে ১৪ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত। খুচরা বাজারেও এর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বরিশাল নগরীর প্রধান ইলিশের মোকাম পোর্ট রোড ও কয়েকটি খুচরা বাজার ঘুরে ব্যবসায়ী, জেলে ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
পোর্ট রোড মৎস্য আড়তদার সমিতির সভাপতি জহির শিকদার বলেন, গত সপ্তাহে পোর্ট রোডের মোকামে প্রায় ৭৫ মণ ইলিশ এসেছিল। মঙ্গলবার এসেছে প্রায় ১৬০ মণ। অর্থাৎ এক সপ্তাহে সরবরাহ দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে দাম আরও কমতে পারে।
মোকামের পাইকারি ব্যবসায়ীদের হিসাবে, গত সপ্তাহে দেড় কেজির বেশি ওজনের ইলিশ প্রতি মণ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল। মঙ্গলবার একই আকারের মাছ বিক্রি হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকায়। ১ কেজি ২০০ গ্রাম থেকে দেড় কেজির
মাছ ১ লাখ ২৫ হাজার থেকে কমে হয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার টাকা।
এক কেজি থেকে ১ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম ১ লাখ ১০ হাজার থেকে কমে হয়েছে ৯৬ হাজার টাকা। ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রামের মাছ ৯৯ হাজার থেকে ৮০ হাজার, ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রামের ক্ষেত্রে ৮৫ হাজার থেকে ৭০ হাজার এবং ৪০০ থেকে
৫০০ গ্রামের ইলিশ ৬৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে।
ছোট আকারের ইলিশেরও দাম কমেছে। ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রামের মাছ ৫৫ হাজার থেকে কমে ৪০ হাজার এবং ২৫০ গ্রামের মাছ ৪২ হাজার থেকে কমে ৩০ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। এর চেয়ে ছোট ইলিশের দাম ৩২ হাজার থেকে নেমে হয়েছে ২০ হাজার টাকা।
পোর্ট রোডে মাছ কিনতে আসা অভিজিৎ সাহা বলেন, ‘এক সপ্তাহ আগে এক কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল। একই আকারের মাছ ২ হাজার ৪০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার ইলিশের দাম কিছুটা কম লক্ষ করা গেছে, তবে তা এখানো সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।’
নতুন বাজার এলাকার ক্রেতা সাইফুল ইসলাম রিপন বলেন, ‘গত সপ্তাহে ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৫০০ টাকা প্রতি কেজির দাম ছিল। বৃহস্পতিবার একই আকারের মাছ ২ হাজার টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।’
পোর্ট রোড মোকামের খুচরা বিক্রেতা নাসির উদ্দিন বলেন, গত সপ্তাহে চারটিতে এক কেজি ওজনের ইলিশ ১ হাজার টাকা কেজি দাম ছিল। এ সপ্তাহে একই ওজনের মাছ বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায়। এক কেজি ওজনের ইলিশ এখন ২ হাজার ২০০ টাকা কেজি, যা আগে ছিল ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকা।
হিজলা এলাকার জেলে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, দীর্ঘদিন নদীতে ইলিশের সংকট ছিল। তবে চার-পাঁচ দিন ধরে জালে আগের তুলনায় বেশি ইলিশ ধরা পড়ছে। এখনো ইলিশের পেটে ডিম আসেনি বলেও জানান তিনি।
তবে ইলিশের প্রজনন মৌসুমের নিষেধাজ্ঞার সময় পেছানোর দাবি জানিয়েছেন জেলে ও ব্যবসায়ীরা। মৎস্য ব্যবসায়ী জহির শিকদার জানান, গত বছরের ৪ অক্টোবর থেকে ইলিশ ধরা বন্ধ ছিল। তবে ব্যবসায়ীরা চান এ বছর ৩০ অক্টোবর থেকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার হোক। এখনো ইলিশের পেটে ডিম আসেনি। অক্টোবরের শেষ দিকে নিষেধাজ্ঞা শুরু হলে তখন ইলিশের সরবরাহ আরও বাড়বে।
বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক কামরুল হাসান বলেন, চার-পাঁচ দিন ধরে পর্যাপ্ত ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। আগের তুলনায় মোকামে প্রায় দ্বিগুণ ইলিশ যাচ্ছে। সরবরাহ বাড়ায় দাম কমেছে। নিষেধাজ্ঞার সময় নিয়ে বৈঠক চলছে। ইলিশের পেটে ডিম আসার পরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।













