শীর্ষ খবর ডেস্ক
ছবি : সংগৃহীত
ন্যায্য, সাশ্রয়ী ও সবার জন্য নির্ভরযোগ্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিশ্চিত করতে হবিগঞ্জে জেলা সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি সবার জন্য’ শীর্ষক এ সংলাপে জেলার বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি, স্থানীয় মানুষের চাহিদা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা এবং তরুণদের অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা হয়।
বৃহস্পতিবার হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন এলাকার তরুণ, সরকারি কর্মকর্তা, নারী, কমিউনিটি প্রতিনিধি, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, গবেষক ও পরিবেশকর্মীরা অংশ নেন।
ইয়াং ক্লাইমেট অ্যাকশন নেটওয়ার্কের উদ্যোগে, দ্য আর্থ সোসাইটির জাতীয় যুব প্ল্যাটফর্ম ইয়ুথ ফর কেয়ারের সহযোগিতায় এবং উদ্ভাবনী বিজ্ঞান ক্লাবের অংশীদারত্বে সংলাপটি আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইয়াং ক্লাইমেট অ্যাকশন নেটওয়ার্কের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক যুধিষ্ঠির চন্দ্র বিশ্বাস।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন–হবিগঞ্জের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নূর-ই-হাফসা। বিশেষ অতিথি ছিলেন দ্য আর্থ সোসাইটির সহকারী পরিচালক রকি জোসেফ হীরা। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন–এসডিএম ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সুব্রত দাস, দ্য আর্থ সোসাইটির উপ-প্রকল্প সমন্বয়কারী নাশিয়া নাফিস এবং উদ্ভাবনী বিজ্ঞান ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মোশাহিদ মজুমদার।
সংলাপে তরুণরা হবিগঞ্জের জ্বালানি পাওয়ার সমস্যা, জ্বালানির খরচ এবং নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন, পানিসম্পদ কাজে লাগানো এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।
আলোচনায় তরুণ ও নারীদের জন্য সবুজ দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।
অংশগ্রহণকারীরা বলেন, জ্বালানি নিয়ে পরিকল্পনা করার সময় শুধু কেন্দ্রীয় পর্যায়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর না করে স্থানীয় মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
প্রধান অতিথি নূর-ই-হাফসা বলেন, জ্বালানি রূপান্তরের ক্ষেত্রে স্থানীয় বাস্তবতা, মানুষের অংশগ্রহণ এবং তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন অংশীজনকে নিয়ে এ ধরনের সংলাপ স্থানীয় সমস্যা ও সম্ভাবনা চিহ্নিত করতে সহায়তা করবে।
রকি জোসেফ হীরা বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি বলতে শুধু সৌরবিদ্যুৎকে বোঝালে হবে না। বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন এবং পানিসম্পদ ব্যবহারের মতো সম্ভাবনাগুলোও খুঁজে দেখতে হবে। একই সঙ্গে টেকসই পরিবর্তনের জন্য সরকার, ব্যক্তি, কমিউনিটি ও বিভিন্ন সংগঠনকে নিজ নিজ জায়গা থেকে ভূমিকা রাখতে হবে।
সুব্রত দাস হবিগঞ্জের স্থানীয় মানুষের অভিজ্ঞতা ও চাহিদাকে জ্বালানি পরিকল্পনায় গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেন। মোশাহিদ মজুমদার তরুণদের বিজ্ঞান, গবেষণা ও প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করে স্থানীয় সমস্যার উপযোগী নতুন সমাধান তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। নাশিয়া নাফিস তরুণদের নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক জ্বালানি রূপান্তরের ওপর গুরুত্ব দেন।
সংলাপে অংশগ্রহণকারীরা হবিগঞ্জের জ্বালানি খাতের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নযোগ্য কিছু উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন। বিশেষ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সবুজ দক্ষতা, তরুণদের কর্মসংস্থান এবং স্থানীয় উদ্ভাবনকে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
আয়োজকেরা জানান, সংলাপে উঠে আসা মতামত ও প্রস্তাবের ভিত্তিতে ‘হবিগঞ্জ জেলা সুপারিশনামা: ন্যায্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জ্বালানি রূপান্তর’ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ের সমস্যা, চাহিদা ও সম্ভাবনাগুলো নীতিনির্ধারণী আলোচনায় তুলে ধরার চেষ্টা করা হবে।
আ/আ













