ফেনী প্রতিনিধি
ছবিঃ সংগৃহীত
একটি জনবহুল দেশে রাজনৈতিক দলের দুষ্ট লোকজন কিছু অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটাচ্ছে আর সেটিকে পুঁজি করে দেশে অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, এতে দেশের উন্নয়নের ব্যহত হলে তার দায়ভারও তাদের নিতে হবে। বিএনপি সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বদ্ধ পরিকর।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ডে শুধু দেশই নয়, বহি:বিশ্বেও বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে, অথচ তারা অন্যেদর নসিয়ত করে বেড়াচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় ফেনীর মহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (১ম পর্যায়) শীর্ষক প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
সরকার প্রদান বলেন, একটি রাজনৈতিক দল ৭১ -এর রূপে আবারও ফিরে গেছে, মা-বোনদের ইজ্জত হরণ আর হত্যায় মেতে উঠেছে। বিএনপি নেতাকর্মী ও উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন এখন সময় এসেছে এদের মুখোশ উন্মোচনের।

নাম উল্লেখ না করে প্রধানমন্ত্রী ওই রাজনৈতিক দলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, দয়া করে আগে নিজের ঘর সামলান, পরে অন্যদের নসিয়ত করুন।
দেশে অনেক রাজনৈতিক দল থাকলেও একমাত্র বিএনপি দেশ ও জনগনের কল্যাণে কাজ করে দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের ৫ বছরের মেয়াদে দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১৫০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। একইসঙ্গে এসব স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কিডনি রোগীদের ডায়ালিসিসের ব্যবস্থা করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী সরকার গঠনের পরপরই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে বিএনপি সরকার। এতে সরকারের প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয় হলেও উপকৃত হয়েছেন দেশের ১৩ লাখ কৃষক।

১৭ বছর স্বৈরাচার সরকার জনগনের কণ্ঠরোধ করে অধিকার বঞ্চিত করেছিল। ১২ ফেব্রুয়ারি জনগনের রায়ে বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে সে অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছে।
মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়) বাস্তবায়িত হলে বৃহত্তর নোয়াখালীর মানুষ বন্যার ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, এ প্রকল্পের ফলে নতুন করে ৩৪ হাজার হেক্টর জমি চাষাবাদের আওতায় আসবে। পাশাপাশি ফসল উৎপাদন প্রায় এক লাখ মেট্রিক টন বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এতে খাদ্যশস্য মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা সহজ হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

পানি সম্পদমন্ত্রী শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন।
এর আগে দিনব্যাপী সফরের শুরুতে ফেনীর পরশুরামে পৌঁছে মুষলধারে বৃষ্টি উপেক্ষা করে মুহুরী নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দুপুর সোয়া ২টার দিকে সড়কপথে পরশুরাম উপজেলার ঘাটঘর এলাকায় পৌঁছে তিনি প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন। এ সময় বৃষ্টিতে ভিজেই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উপভোগ করেন স্থানীয় মানুষ।
এর আগে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের জন্য দুপুর ২ টার পর ঢাকা থেকে সড়কপথে ফেনীর পরশুরাম পৌছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
পরশুরামের অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ফুলগাজী যাওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে মধ্যাহ্নবিরতির পর তিনি সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। অনুষ্ঠান থেকে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কার্যক্রম, ইমাম ও পুরোহিতদের ভাতা প্রদান এবং ২৪৯ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন সরকারপ্রধান।

কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় ফেনী জেলায় মোট ৫ হাজার ৬৪৩ জনকে কার্ড দেওয়ার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ১ হাজার ১২ জন কৃষকের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। তাদের মধ্য থেকে ১০ জন কৃষক প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সরাসরি কৃষক কার্ড গ্রহণ করবেন।
অন্যদিকে, জেলার বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত ও সেবায়েতদের সম্মানি ভাতা প্রদানের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এ কার্যক্রমের আওতায় ফেনী জেলায় মোট ২৭৫ জনকে সম্মানীর জন্য মনোনীত করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মনোনীতদের মধ্য থেকে ৬ জন ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেম, ২ জন সেবায়েত এবং ২ জন পুরোহিত প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সম্মানি গ্রহণ করবেন।
পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সহায়তা এবং রোগীদের জন্য বিনামূল্যে রাষ্ট্রীয় চিকিৎসার বিশেষ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হবে। সফরকালে তিনি দলীয় নেতাকর্মী ও সুধী সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন। ফুলগাজী সরকারি হাই স্কুল মাঠে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিবেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।













