শীর্ষ খবর ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
বৈশ্বিক, প্রযুক্তিগত ও ভূ-রাজনৈতিক বৈচিত্র্যময় অনিশ্চয়তার মধ্যেও দেশের মানুষের নিরাপত্তা, মৌলিক অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সমন্বিত ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একইসঙ্গে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানো এবং নারীর ক্ষমতায়ন তরান্বিত করতে ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার অন্তত ৮০ শতাংশই হবেন নারী।
রাজধানীতে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘বে অব বেঙ্গল কনভার্সেশন’-এর শেষ দিনে অনুষ্ঠিত “লীডার ইন এন এইজ অব আনসারটেইনিটি” শীর্ষক গুরুত্বপূর্ণ সেশনে এসব তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র জনাব মাহ্দী আমিন।
সম্মেলনের সেশনে আমন্ত্রিত অতিথিদের উদ্দেশ্যে প্রধান বক্তব্য প্রদানকালে মাহ্দী আমিন বলেন, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, অর্থনৈতিক সংকট ও বিশ্বজুড়ে পরিবেশগত দুর্যোগের কারণে প্রতিনিয়ত অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি, সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা ও সময়োপযোগী কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিটা চ্যালেঞ্জকেই জনগণের ক্ষমতায়ন ও সমস্যা সমাধানের সুযোগ হিসেবে রূপান্তর করা সম্ভব। জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট পেয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আসা এই সরকার মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ দায়বদ্ধ।
নাগরিকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে সরকারের মেগা কার্ড কর্মসূচির রূপরেখা তুলে ধরে তিনি জানান, প্রতিটি পরিবার ও মায়ের অর্থনৈতিক সুরক্ষায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং কৃষকদের সহায়তায় ‘ফার্মার কার্ড’-এর পর এখন দেশের প্রতিটি মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে ‘হেলথ কার্ড’ চালুর চূড়ান্ত কাজ চলছে। পরবর্তীতে এসব সেবাকে এক ছাতার নিচে নিয়ে এসে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ প্রদান করা হবে, যার মাধ্যমে রাষ্ট্র থেকে প্রাপ্য সব সুবিধা প্রতিটি নাগরিক সরাসরি পাবেন।
স্বাস্থ্যখাতে তৃণমূলের চিত্র বদলে দিতে কোভিড মহামারীর অভিজ্ঞতা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, যেকোনো সংকট মোকাবিলায় সঠিক প্রস্তুতি সবচেয়ে বেশি জরুরি। সেই লক্ষ্যে তৃণমূলের প্রতিটি ঘরে ঘরে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসুরক্ষা সেবা পৌঁছে দিতে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গ্রামীণ নারীদের কাজের পরিবেশ বৃদ্ধি ও তাঁদের স্বাবলম্বী করে তুলতে এই নিয়োগের ৮০ শতাংশই নারী স্বাস্থ্যকর্মীদের থেকে নিশ্চিত করা হবে।
পরিবেশ সুরক্ষায় সরকারের মহাপরিকল্পনার কথা ব্যক্ত করে মাহ্দী আমিন জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা ও কৃষক পরিবারের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন-পুনঃখনন করা হবে। প্রাকৃতিক ও ভূগর্ভস্থ পানি সংরক্ষণের জন্য বহুল কাঙ্ক্ষিত ঐতিহাসিক পদ্মা ব্যারেজ ও তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদনশীলতা কয়েকগুণ বাড়িয়ে অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখা হবে।
চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, এআই ও রোবোটিক্সের যুগে প্রযুক্তির কারণে চাকরি হারানোর আশঙ্কা তৈরি হলেও সঠিক রূপরেখার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, শিক্ষাক্রম আধুনিকায়ন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব বাড়ানো এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের চাহিদানুযায়ী কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তরুণদের বেকার না রেখে নতুন নতুন কর্মসংস্থানে নিয়োজিত করা হচ্ছে।
একইসঙ্গে দেশে অবস্থানরত ১৩ লাখ রোহিঙ্গাকে মানবিক সহায়তা দেওয়া নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁদের নিজ দেশ মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে বিশ্ব অংশীজনদের কার্যকর ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানান মাহ্দী আমিন। এছাড়া জ্বালানি সরবরাহ সুরক্ষিত রাখতে উৎস বহুমুখীকরণ এবং সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য শক্তিতে বিনিয়োগ বাড়ানো হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে “সবার আগে বাংলাদেশ” নীতি ধারণ করে সমতা, ন্যায্যতা ও মর্যাদার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুদৃঢ় সম্পর্ক বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের প্রত্যাশাকে নীতির কেন্দ্রে রেখে সব আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ ঐক্যবদ্ধভাবে জয়ের মাধ্যমে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন মাহ্দী আমিন।












