• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • [email protected]

জাতীয়

সুস্থ ও আত্মপ্রত্যয়ী জাতি গঠনে খেলাধুলার বিকল্প নেই: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১:৩০
আপডেট: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১:৩০

 

শীর্ষ খবর ডেস্ক
ছবি : সংগৃহীত

খেলাধুলা মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও শ্রদ্ধাবোধ বাড়ানোর পাশাপাশি দেশপ্রেমের চেতনাকে আরও শক্তিশালী করে। একটি সুস্থ, সচেতন, কর্মক্ষম ও আত্মবিশ্বাসী জাতি গঠনে ক্রীড়াচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জাতীয় উন্নয়নে খেলাধুলার অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।রাজনৈতিক খবর পড়ুন

প্রয়াত ক্রীড়া সংগঠক আরাফাত রহমান কোকোর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আয়োজিত ‘কোকো ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতা-২০২৬’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের আয়োজনে আগামী ২৩ থেকে ২৫ অক্টোবর এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রতিযোগিতা উপলক্ষে আয়োজক, অংশগ্রহণকারী অ্যাথলেট, প্রশিক্ষক, কর্মকর্তা, বিচারক, ক্রীড়া সংগঠক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রতিযোগিতার সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

তিনি বলেন, এ আয়োজন দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়াস। এর মাধ্যমে নতুন প্রতিভার বিকাশ ঘটবে, তরুণ-তরুণীদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়বে এবং জাতীয় পর্যায়ে অ্যাথলেটিক্সের ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্রীড়া এখন শুধু বিনোদন কিংবা শারীরিক সুস্থতার মাধ্যম নয়, বরং একটি পেশা হিসেবেও স্বীকৃতি পেয়েছে। বাংলাদেশেও খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে বর্তমান সরকার স্কুল পর্যায় থেকেই ক্রীড়া শিক্ষাকে পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত করেছে। শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক দৃঢ়তা, শৃঙ্খলা, আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে খেলাধুলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তিনি আরও বলেন, অ্যাথলেটিক্স খেলাধুলার অন্যতম মৌলিক ভিত্তি। দৌড়, লাফ ও নিক্ষেপের মতো ইভেন্টের মাধ্যমে একজন অ্যাথলেটের গতি, শক্তি, সহনশীলতা, সমন্বয় ও মানসিক দৃঢ়তার বিকাশ ঘটে। আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে একটি দেশের সামগ্রিক সক্ষমতা ও ক্রীড়ার উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরতেও অ্যাথলেটিক্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বাংলাদেশের অ্যাথলেটিক্সের উন্নয়ন, তৃণমূল পর্যায়ে প্রতিভা অন্বেষণ এবং আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়াবিদ গড়ে তুলতে পরিকল্পিত ও ধারাবাহিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শহর পর্যন্ত অসংখ্য প্রতিভাবান তরুণ-তরুণী রয়েছে, যাদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে। তাদের প্রতিভা বিকাশে উপযুক্ত পরিবেশ, আধুনিক প্রশিক্ষণ, দক্ষ কোচ, বিজ্ঞানভিত্তিক অনুশীলন, পুষ্টি ও চিকিৎসাসেবা এবং নিয়মিত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। জাতীয় অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতার মতো আয়োজন খেলোয়াড়দের নিজেদের সামর্থ্য তুলে ধরার সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে।

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আরও শক্তিশালী এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জনের উপযোগী করে তুলতে তৃণমূল থেকে প্রতিভা অন্বেষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এ লক্ষ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠন, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের ক্রীড়া সংস্থা এবং জাতীয় ফেডারেশনগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরিচর্যার পাশাপাশি তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ জীবিকার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। একজন ক্রীড়াবিদ যেন খেলাধুলাকে সম্মানজনক পেশা হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন, সে পরিবেশ তৈরিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ক্রীড়ার প্রকৃত সৌন্দর্য নিহিত রয়েছে ন্যায়সংগত প্রতিযোগিতা, শৃঙ্খলা, সততা এবং প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মধ্যে। জয়-পরাজয় প্রতিযোগিতার স্বাভাবিক অংশ। একজন প্রকৃত ক্রীড়াবিদ বিজয়ের আনন্দে সংযত থাকেন এবং পরাজয় থেকেও শিক্ষা গ্রহণ করেন।

প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী সব অ্যাথলেটকে নিয়মনীতি মেনে নিষ্ঠা ও ক্রীড়াসুলভ মনোভাব নিয়ে নিজেদের সেরাটা তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে আয়োজক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং পেশাদারিত্ব বজায় রাখার অনুরোধ জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরুণ সমাজ দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ। তাদের মেধা, শ্রম, সাহস ও সৃজনশীলতাকে ইতিবাচক কাজে নিয়োজিত করা গেলে বাংলাদেশ আরও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাবে। খেলাধুলা তরুণদের মাদক, হতাশা, অসামাজিক কর্মকাণ্ড ও নেতিবাচক প্রবণতা থেকে দূরে রেখে সুস্থ জীবনযাপনে উৎসাহিত করতে পারে। মাঠের অনুশীলন তাদের সময়ানুবর্তিতা, দলগত দায়িত্ববোধ, অধ্যবসায় এবং প্রতিকূলতা মোকাবিলার শিক্ষা দেয়।

অ্যাথলেটিক্সে নারী খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ ও অগ্রগতির ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। নারী অ্যাথলেটদের প্রতিভা বিকাশ, মানসম্মত প্রশিক্ষণ এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ সম্প্রসারণের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে প্রত্যন্ত অঞ্চলের খেলোয়াড়দের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি, যাতে ভৌগোলিক অবস্থান বা আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে কোনো প্রতিভা বিকাশের সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে সরকার, ক্রীড়া ফেডারেশন, ক্লাব, পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং অভিভাবকদের সম্মিলিত সহযোগিতা অপরিহার্য। ক্রীড়া অবকাঠামোর উন্নয়ন, মাঠ সংরক্ষণ, প্রশিক্ষণের আধুনিকায়ন এবং ক্রীড়াবিদদের যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে কার্যকর ক্রীড়া পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।রাজনৈতিক খবর পড়ুন

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন নিয়মিত প্রতিযোগিতা আয়োজন, প্রতিভা অন্বেষণ এবং আন্তর্জাতিক মানের অ্যাথলেট তৈরির কার্যক্রম আরও গতিশীল করবে।

 

সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ
উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রাকেস)
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: [email protected]

© Copyright . শীর্ষ খবর ডট কম