গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
ছবি : প্রতিনিধি
দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীর আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার ঘাঘর নদীতে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: খবরের কাগজ
দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীর আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে গোপালগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব নৌকা বাইচ দেখতে ভীড় করে সাধারন মানুষ।
বুধবার (২১ অক্টোবর) গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সাতপাড়ের মধুমতি নদী ও কোটালীপাড়া উপজেলার ঘাঘর নদীতে এসব নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়।
বিকেলে সদর উপজেলার সাতপাড়ের মধুমতি নদীতে অনুষ্ঠিত বাইচে ২০টি ও কোটালীপাড়া উপজেলার ঘাঘর নদীতে অনুষ্ঠিত বাইচে ১৫টি সরেঙ্গা, ছিপ, কোষা বাচারী নৌকা অংশ নেয়।
এসব নৌকা বাইচে গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, বরিশাল, খুলনা, নড়াইল জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা নৌকা অংশ নেয়। নান্দনিক এ নৌকা বাইচ বিকেল থেকে চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দে মুখোরতি হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
এসব নৌকা বাইচ দেখতে বিকেল থেকেই নদীর দু’পাড়ে জড়ো হতে থাকেন হাজার হাজার দর্শনার্থী। গোপালগঞ্জ জেলা ছাড়াও আশপাশের জেলা মাদারীপুর বাগেরহাট, বরিশাল, খুলনা, পিরোজপুর, নড়াইল জেলা থেকে অসংখ্য দর্শক এসব নৌকা বাইচ উপভোগ করেন।
এলাকার অধিকাংশ লোকই প্রতি বছর এ দিনটির জন্য অপেক্ষা করে। অনেকে গ্রামের বাইরে গিয়ে নানা কাজে শহরে জীবন যাপন করেন। কিন্তু, এদিন তারা কাটান একেবারেই গ্রাম্য পরিবেশে আর গ্রামীণ সংস্কৃতির সঙ্গে।
কোটালীপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বশার হাওলাদার বলেন, কথিত আছে যে আজ থেকে প্রায় দেড়শ বছর আগে যশোরের বিঘাপতির জমিদার খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে ঘাঘর নদীতে দুর্গা পূজার বিজয়া দশমীর দিন এখানে মেলা ও নৌকাবাইচের আয়োজন করেছিলেন। সেখান থেকেই প্রতিবছর দুর্গাপূজার সময় এখানে নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়। কোটালীপাড়া উপজেলার সব ধর্মের লোকজন এই নৌকাবাইচে অংশ নেন।
গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানী বলেন, নদী খাল-বিলবেষ্টিত কোটালীপাড়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে শত বছর ধরে বিশ্বকর্মা, দুর্গা ও লক্ষ্মী পূজায় নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়। এসব বাইচ আয়োজন করতে হয়না। এই নৌকাবাইচে কাউকে পুরস্কারও দেওয়া হয়না। কোটালীপাড়ার এ নৌকাবাইচ একটি ব্যতিক্রমী আয়োজন। আগামীতেও এ নৌকাবাইচ যাতে টিকে থাকে আমি সে বিষয়ে সবধরণের ব্যবস্থা নেব।










