• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • [email protected]

জাতীয়

আর প্রয়োজন নেই টিন সার্টিফিকেট? যেভাবে বাতিলের আবেদন করবেন

প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:৫৯
আপডেট: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:৫৯

আর প্রয়োজন নেই টিন সার্টিফিকেট যেভাবে বাতিলের আবেদন করবেন
 

শীর্ষ খবর ডেস্ক
ছবি : সংগৃহীত

বিভিন্ন প্রয়োজনে ট্যাক্সপেয়ার আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (টিআইএন) বা টিন সার্টিফিকেট করলেও পরবর্তী সময়ে অনেকের আর সেটির প্রয়োজন হয় না। তবে টিআইএন সক্রিয় থাকলে আয়কর রিটার্ন দাখিলসহ বিভিন্ন কর-সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়তে পারেন অনেকে। নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন দাখিল না করলে আইনগত জটিলতার আশঙ্কাও থাকে।

 

তবে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে টিআইএন বাতিলের আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। এ জন্য জানতে হবে, কোন পরিস্থিতিতে আবেদন করা যায়, কীভাবে আবেদন করতে হয় এবং বাতিলের পর করদাতার কী দায়িত্ব থাকতে পারে।

টিআইএন কী এবং কেন প্রয়োজন?

 

ট্যাক্সপেয়ার আইডেন্টিফিকেশন নম্বর বা টিআইএন হলো করদাতার জন্য নির্ধারিত স্বতন্ত্র শনাক্তকরণ নম্বর। বাংলাদেশে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের আয়কর-সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে এই নম্বর ব্যবহৃত হয়। আয়কর নথি শনাক্ত করা, রিটার্ন দাখিল এবং বিভিন্ন আর্থিক ও দাপ্তরিক কার্যক্রমে টিআইএন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, ভিসার আবেদন, ব্যবসা পরিচালনা কিংবা বিভিন্ন দাপ্তরিক প্রয়োজনে অনেকে টিআইএন নিবন্ধন করেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলেও টিআইএন সক্রিয় থাকায় কর-সংক্রান্ত দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়।

 

তবে টিআইএন থাকলেই সবাইকে একই পরিমাণ কর দিতে হয় না। আয়, সম্পদ ও প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী করদাতার দায়িত্ব নির্ধারিত হয়। তাই টিআইএন আর প্রয়োজন নেই মনে করে রিটার্ন দাখিল বন্ধ না করে আগে নিজের কর-সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

কোন পরিস্থিতিতে টিআইএন বাতিলের আবেদন করা যায়?

নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এবং আইনগত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে টিআইএন বাতিলের আবেদন করা যেতে পারে। যেমন—

১. ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে: কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান স্থায়ীভাবে ব্যবসা বন্ধ করলে এবং সংশ্লিষ্ট টিআইএন আর প্রয়োজন না হলে বাতিলের আবেদন করা যেতে পারে।

২. একাধিক টিআইএন তৈরি হলে: ভুলবশত একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে একাধিক টিআইএন তৈরি হলে প্রয়োজনীয় নম্বরটি রেখে অন্যটি বাতিলের আবেদন করা যেতে পারে।

৩. টিআইএন ব্যবহারের প্রয়োজন না থাকলে: নির্দিষ্ট কোনো কাজের জন্য টিআইএন নেওয়ার পর সেটির আর প্রয়োজন না হলে এবং আইনগত শর্ত পূরণ হলে বাতিলের আবেদন বিবেচিত হতে পারে।

৪. করযোগ্য আয় না থাকলে: কোনো ব্যক্তির আয় করযোগ্য সীমার নিচে নেমে গেলে নির্দিষ্ট শর্তে টিআইএন বাতিলের সুযোগ থাকতে পারে। তবে আয় কমে যাওয়া বা করযোগ্য আয় না থাকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে টিআইএন বাতিল হয় না।

৫. দীর্ঘদিন বিদেশে অবস্থান করলে: কোনো বাংলাদেশি নাগরিক দীর্ঘ সময় বিদেশে অবস্থান করলে, দেশে করযোগ্য আয় না থাকলে এবং টিআইএন রাখার আইনগত প্রয়োজন না থাকলে তার আবেদন বিবেচিত হতে পারে।

৬. করদাতার মৃত্যু হলে: কোনো করদাতার মৃত্যু হলে তার টিআইএন বাতিলের প্রয়োজন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে উত্তরাধিকারীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হয়। মৃত ব্যক্তির নামে ব্যবসা বা অন্য কোনো কার্যক্রম চলমান থাকলে আগে সংশ্লিষ্ট কর ও আইনগত বিষয় যাচাই করা জরুরি।

যেভাবে টিআইএন বাতিলের আবেদন করবেন

টিআইএন বাতিলের আবেদন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় করতে হয়। আবেদনের পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র করদাতার পরিস্থিতি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।

অনলাইনে আবেদন করতে চাইলে

প্রথমে এনবিআরের ওয়েবসাইটে গিয়ে টিআইএন-সংক্রান্ত অনলাইন সেবা ও বাতিলের আবেদনের বর্তমান নিয়ম যাচাই করতে হবে। ওয়েবসাইট: https://nbr.gov.bd/

অনলাইনে আবেদন করার সুবিধা থাকলে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। আবেদনে সাধারণত টিআইএন নম্বর, ব্যক্তিগত বা প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি, বর্তমান অবস্থা এবং বাতিলের কারণ উল্লেখ করতে হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী সমর্থনকারী কাগজপত্রও জমা দিতে হতে পারে।

আবেদন জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর কর্তৃপক্ষ তা যাচাই করবে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত তথ্য বা নথি চাওয়া হতে পারে। কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া টিআইএন বাতিল হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যাবে না।

সরাসরি আবেদন করতে চাইলে

অনলাইনে আবেদন করা সম্ভব না হলে সংশ্লিষ্ট কর সার্কেল বা কর কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে যোগাযোগ করে আবেদনপদ্ধতি জেনে নেওয়া যেতে পারে। পরিস্থিতি অনুযায়ী যেসব কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে, সেগুলো হলো—

টিআইএন সনদ বা টিআইএন নম্বরের প্রমাণ;
জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি;
ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠান বন্ধের প্রমাণপত্র, যদি প্রযোজ্য হয়;
টিআইএন বাতিলের কারণের সমর্থনে প্রয়োজনীয় নথি;
সংশ্লিষ্ট কর কর্তৃপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র।
কিছু ক্ষেত্রে আগের অর্থবছরগুলোর আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণও চাওয়া হতে পারে। তবে সবার জন্য একই সংখ্যক বছরের শূন্য রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক—এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়। আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট কর সার্কেল থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা নিশ্চিত করে নেওয়া উচিত।

টিআইএন বাতিল হলে কী হবে?

টিআইএন বাতিলের আবেদন অনুমোদিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে বাতিলের প্রমাণপত্রও সংগ্রহ করতে হবে।

তবে টিআইএন বাতিল হলেই আগের সব কর-সংক্রান্ত দায় বা বকেয়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হয়ে যায় না। বাতিলের আগের সময়ের কোনো বকেয়া কর, রিটার্ন দাখিলের দায় বা আইনগত জটিলতা থাকলে সেগুলো নিষ্পত্তি করতে হতে পারে।

ভবিষ্যতে রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা থাকবে কি না, তা প্রযোজ্য আইন ও করদাতার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। একইভাবে, ভবিষ্যতে আবার টিআইএন প্রয়োজন হলে পুরোনো নম্বর ব্যবহার বা নতুন নম্বর নেওয়ার বিষয়টিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।

তাই শুধু আয়কর রিটার্ন দাখিলের ঝামেলা এড়াতে তাড়াহুড়ো করে টিআইএন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। নিজের বর্তমান আয়, সম্পদ, ব্যবসা ও ভবিষ্যতের প্রয়োজন বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া ভালো। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর সার্কেল বা কর বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

 

 

 

 

সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ
উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রাকেস)
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: [email protected]

© Copyright . শীর্ষ খবর ডট কম